ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংস হত্যাকাণ্ড, নারীদের হেনস্তা এবং নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা সৃষ্টি করে একটি দল পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করছে বলে অভিযোগ করেছে জামায়াতে ইসলামী।
শনিবার দুপুরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
তিনি বলেন, গত ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়েছে। এর পর থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণাকালে আচরণবিধি লঙ্ঘন, হামলা ও মামলা সহ নানান অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছে।
সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক কয়েক দিনের বিভিন্ন ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, নারী কর্মীদের উদ্দেশ্য করে ধারাবাহিকভাবে হেনস্তা ও নাজেহাল করার ঘটনা ঘটছে, যাতে তারা ঘর থেকে বের হতে না পারেন—এমন পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আগামীকাল বিকেল ৩টায় জামায়াতের একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনে যাবে। ওই দলে নারী সদস্যরাও থাকবেন। সেখানে এসব বিষয় বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের আশা প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকার দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করবে। তবে তার দাবি, একটি দল ধারাবাহিকভাবে আতঙ্কজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভয় ছড়ানোর চেষ্টা করছে, যাতে তারা ভোটকেন্দ্রে যেতে না পারেন।
তিনি বলেন, অতীতে যারা ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিল, ভবিষ্যতে যেন কেউ সেই পথে যেতে না পারে—সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। জামায়াতে ইসলামী সবসময় শান্তিপূর্ণ নির্বাচন, আইনের শাসন ও সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশের পক্ষে রয়েছে এবং দলটি তাদের নীতি ও আদর্শ অনুসরণ করেই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনের শেষদিকে তিনি বলেন, আগামীর বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরশাসনের কোনো স্থান হবে না। যারা নারীদের হেনস্তা করে, চাঁদাবাজি করে কিংবা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে—তাদের মুখোশ জনগণের সামনে উন্মোচন করা হবে।



