tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদঅন্যান্যমুছাব্বির হত্যাকাণ্ড: চাঞ্চল্যকর তথ্য উন্মোচিত, নেপথ্যের কারণ জানালো পুলিশ

মুছাব্বির হত্যাকাণ্ড: চাঞ্চল্যকর তথ্য উন্মোচিত, নেপথ্যের কারণ জানালো পুলিশ

রাজধানীর স্বেচ্ছাসেবক দলের ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আজিজুর রহমান ওরফে মুছাব্বির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযান চলছে। পুলিশের কাছে ইতোমধ্যেই কয়েকজন সন্দেহভাজন আটক এবং জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে হত্যার মূল রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা চলছে। দুই শুটারকে ইতোমধ্যেই গোয়েন্দা নজরদারিতে আনা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে, যখন অজ্ঞাতনামা অস্ত্রধারী কয়েকজন যুবক মুছাব্বিরকে কাছ থেকে গুলি করে। তার সঙ্গে থাকা আরেকজনও গুলিবিদ্ধ হন। মুছাব্বির রাতেই মারা যান। এ ঘটনায় তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম বৃহস্পতিবার তেজগাঁও থানায় অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

ডিএমপি কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী জানিয়েছেন, হত্যার পেছনে মূল কারণ হলো চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তার। সন্দেহভাজন রহমানের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। মুছাব্বিরের স্ত্রী জানিয়েছেন, তার স্বামী প্রায়শই প্রাণনাশের হুমকি পেতেন, তবে তিনি রাজনৈতিক বা ব্যবসায়িক কোনো সমস্যা পরিবারকে জানাতেন না।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে মুছাব্বিরের রাজনৈতিক বিরোধ, চাঁদাবাজি ও দখল নিয়ে দ্বন্দ্বের ওপর। এছাড়া কাওরান বাজারে ব্যবসায়ীদের ওপর হামলার ঘটনাও হত্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তেজগাঁওয়ে হত্যার পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ অচেনা ব্যক্তিদের শনাক্ত করেছে। একইদিন রাতেই কাওরান বাজারের সবজি ব্যবসায়ী মো. ফারুক হোসেন ও বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আব্দুল মজিদ মিলনকে হেফাজতে নেয়া হয়।

তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান বলেন, ঘটনাস্থল থেকে ৭.৬৫ বুলেটের তিনটি খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের তদন্তে কাওরান বাজারে চাঁদাবাজি, ফার্মগেটে গ্যারেজ দখল ও রাজনৈতিক বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মুছাব্বিরের রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব বেশ পুরোনো। আওয়ামী লীগ আমলে তিনি একাধিকবার কারাবরণ ও গুমের শিকার হয়েছেন। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর কাওরান বাজারে চাঁদা নিয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতাদের সঙ্গে সংঘাত তৈরি হয়েছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হত্যাকারীরা আগে থেকেই এলাকায় অবস্থান করছিল। হত্যার পর দুইজন প্রধান সড়ক ধরে পালিয়ে যায়, আর দুইজন পেছনের গলিতে ঢুকে পড়ে। সিসিটিভি ফুটেজে হত্যার পর তাদের দৌড়ে পালানোর দৃশ্য দেখা গেছে।

মুছাব্বিরকে গুলি করার সময় তার সঙ্গে থাকা সুফিয়ান বেপারি ওরফে মাসুদও আহত হন। তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, চিকিৎসকরা তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন।