বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ১৭ বছর নির্বাসনের পর দেশে ফেরায় রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উন্মোচিত হয়েছে। তিনি এমন এক নেতা, যিনি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিতে বিশ্বাসী, তবে ভারত-বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ককেও স্বীকার করেন। দেশে ফেরার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জামায়াতে ইসলামী-ঘনিষ্ঠ এক আইনজীবী তারেক রহমানকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন, যার বক্তব্যে ভারতের প্রসঙ্গও ছিল। আইনজীবী শাহরিয়ার কবির দাবি করেন, দেশে ফিরে আসার পর তারেক ‘তার পিতার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছেন’ এবং ‘ভারতের শর্ত মেনে নিচ্ছেন’।
তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন জনগণের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। জামায়াত ও তাদের সমর্থকরা এই জনসমুদ্রকে ভয়ঙ্কর মনে করছেন। ২০২৪ সালের আগস্ট আন্দোলনের সময় জামায়াত ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি (এনসিপি)-কে সমর্থন করেছিল, তবে এখন এনসিপির ভেতরে দলীয় বিভাজন দেখা দিয়েছে। নির্বাচনের মাঠে ১২ ফেব্রুয়ারির লড়াই মূলত দুই শিবিরের মধ্যে সীমাবদ্ধ এবং জামায়াত নির্বাচন পেছানোর চেষ্টা করছে।
ভারতের জন্য তাৎপর্য
তারেক রহমান দেশের স্বার্থকে সর্বপ্রথম দেখেন এবং ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার প্রয়োজনকে বোঝেন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ভারতবিরোধী ও পাকিস্তানঘেঁষা এজেন্ডা গ্রহণ করেছে। তারেক বলেন, বাংলাদেশ হবে একটি নিরাপদ দেশ, যেখানে সব ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করবে। তিনি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন, দেশের নীতি ‘না দিল্লি, না পিন্ডি—সবকিছুর আগে বাংলাদেশ’ অনুসরণ করবে।
ফারাক্কা পানি চুক্তি ও কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট
১৯৯৬ সালে সই হওয়া ৩০ বছরের ফারাক্কা চুক্তি ২০২৬ সালে নবায়নের অপেক্ষায়। দুই দেশের জন্য গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাতে পরবর্তী সরকারকে দিল্লির সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে।
ইতিহাস ও জামায়াতের অস্বস্তি
তারেক রহমান ইতিহাসের সত্য তুলে ধরেন, যা জামায়াত ভুলে দিতে চায়। তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ৭ নভেম্বর ১৯৭৫-এর গণপ্রতিরোধ ও ১৯৯০ সালের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ঘটনাগুলো স্মরণ করিয়েছেন। দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার গুরুত্বও জোর দিয়ে বলেন।
জামায়াতের প্রতিক্রিয়া
আইনশৃঙ্খলা ও গণতন্ত্রকেন্দ্রিক তারেক রহমানের অবস্থান জামায়াতের রাজনীতির পথে অন্তরায়। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা সাংবাদিক, সংখ্যালঘু ও ভারতের কূটনৈতিক মিশনের ওপর হামলার সমালোচকদের ‘ভারত-মদদ তত্ত্বে’ জড়িয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে।
বিশ্লেষক মন্তব্য
বাংলাদেশে ভারতের সাবেক হাইকমিশনার বীণা সিক্রি বলেন, ১৭ বছর নির্বাসনের পর দেশে ফিরে আসায় বিএনপির জনপ্রিয়তায় বড় স্রোত তৈরি হবে, যা জামায়াতকে বিএনপির বিকল্প ইসলামী দলগুলোর দিকে ঝুঁকতে বাধ্য করছে।



