সোমবার গভীর রাতে ৫.২ মাত্রার একটি মাঝারি শক্তির ভূমিকম্প করাচি ও বেলুচিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় অনুভূত হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পাকিস্তান আবহাওয়া বিভাগের ন্যাশনাল সিসমিক মনিটরিং সেন্টারের তথ্যমতে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল বেলুচিস্তানের সোনমিয়ানি এলাকায়। এর গভীরতা ছিল প্রায় ১২ কিলোমিটার এবং করাচি থেকে দূরত্ব প্রায় ৮৭ কিলোমিটার। সোনমিয়ানি বেলুচিস্তানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি উপকূলীয় গ্রাম। এ খবর জানিয়েছে অনলাইন জিও নিউজ। বেলুচিস্তানের হাব, ভিন্ডার ও গাদানি এলাকাতেও কম্পন অনুভূত হয়।
এর আগে একই দিনে বেলুচিস্তানের সিবি শহর ও আশপাশের এলাকায় ৩.২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ওই কম্পনের উৎপত্তিস্থল ছিল শহর থেকে প্রায় ৫৩ কিলোমিটার দূরে। তবে কোথাও হতাহতের বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। গত ৩ ডিসেম্বর খুজদার ও সিবি জেলায় হালকা ভূকম্পন অনুভূত হয়। খুজদারে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৩.৩, গভীরতা ১৫ কিলোমিটার এবং উৎপত্তিস্থল শহর থেকে ৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে। সিবিতে অনুভূত কম্পনের মাত্রা ছিল ৪.০, গভীরতা ১০ কিলোমিটার এবং উৎপত্তিস্থল প্রায় ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে। এর আগে ২৬ নভেম্বর সিবিতে ৩.১ মাত্রার ভূমিকম্প হয়, যার গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার। এসব কম্পন স্বল্প সময় স্থায়ী হলেও কোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।
নভেম্বরের শুরুতেও প্রদেশের বিভিন্ন অংশে হালকা ভূকম্পন অনুভূত হয়। ৮ নভেম্বর জিয়ারত ও আশপাশের এলাকায় ৫.০ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল কোয়েটা থেকে ৬৭ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে। জিয়ারতে সর্বশেষ বড় ধরনের ভূমিকম্পটি ঘটে ২০০৮ সালে, যেখানে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং বহু মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ে। পাশাপাশি পিশিন, বোলান, চামান ও কোয়েটা জেলাতেও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়।
পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে রয়েছে। ২০০৫ সালে উত্তরাঞ্চলের ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিপুল প্রাণহানি ঘটে। ১৯৩৫ সালে কোয়েটায় সংঘটিত ভূমিকম্পেও ব্যাপক ক্ষতি হয়। বেলুচিস্তান একটি সক্রিয় ভূকম্পন অঞ্চলের ওপর অবস্থিত, যেখানে ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষ চলমান। দেশের সবচেয়ে বড় প্রদেশ হলেও জনসংখ্যা কম হওয়ায় দুর্গম এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়ে।



