সরকারি মজুত বাড়াতে ৯ হাজার টন ছোলা ও ১ কোটি লিটার পরিশোধিত রাইস ব্রান তেল কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব পণ্য কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ার প্রতিষ্ঠান অস্ট-গ্রেইন এক্সপোর্টস থেকে ৯ হাজার টন ছোলা সংগ্রহ করা হবে। এতে সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ৭৬ কোটি টাকা।
অন্যদিকে ১ কোটি লিটার পরিশোধিত রাইস ব্রান তেল কিনতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। চারটি দেশীয় প্রতিষ্ঠান এই তেল সরবরাহ করবে।
৯ মাসে ১৮ কার্গো এলএনজি আমদানির উদ্যোগ
দেশের গ্যাসের চাহিদা পূরণে ফ্রান্সভিত্তিক বহুজাতিক জ্বালানি কোম্পানি টোটাল এনার্জিসের কাছ থেকে আগামী ৯ মাসে মোট ১৮ কার্গো এলএনজি আমদানির পরিকল্পনাও অনুমোদন করা হয়েছে। প্রতি মাসে দুটি করে কার্গো আনা হবে।
প্রয়োজন দেখা দিলে এবং উভয় পক্ষ সম্মত হলে বাংলাদেশ এ কোম্পানি থেকে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়েও বেশি এলএনজি আমদানি করতে পারবে।
আন্তর্জাতিক ক্রয়ের ক্ষেত্রে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি অনুসরণ করে এলএনজি সংগ্রহ করা হবে। প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে এশিয়ার স্পট মার্কেটের জাপান-কোরিয়া মার্কার (জেকেএম) দামের সঙ্গে ০.০৬ মার্কিন ডলার যোগ করে।
এই মূল্য যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি গানভরের কাছ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত যে ১৪ কার্গো এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে, তার নির্ধারিত দামের তুলনায় কিছুটা কম।
অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি চলতি বছরের অক্টোবর থেকে আগামী বছরের জুন পর্যন্ত প্রতি মাসে দুই কার্গো করে মোট ১৮ কার্গো এলএনজি কেনার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় দুই পক্ষের সম্মতিতে অতিরিক্ত কার্গো কেনার সুযোগও রাখা হয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহে ঘাটতি, বিকল্প উৎস খুঁজছে সরকার
কাতার ও ওমানের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি আমদানির চুক্তি রয়েছে। তবে ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দেশ দুটি চুক্তি অনুযায়ী সরবরাহ দিতে না পারায় দেশে গ্যাসের সংকট তৈরি হয়েছে।
এ অবস্থায় সরকার একদিকে স্পট মার্কেট থেকে তুলনামূলক বেশি দামে এলএনজি সংগ্রহ করছে, অন্যদিকে বিকল্প উৎসের সন্ধান করছে। এরই অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি গানভরের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি আমদানির চুক্তি করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার আওতায় ২০৩৮ সাল পর্যন্ত আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে।
চুক্তির আওতায় ২০২৬ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত ১৪ কার্গো এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রে প্রতি এমএমবিটিইউর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ০.০৮৭৫ মার্কিন ডলার।
তবে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে সরবরাহের জন্য প্রস্তাবিত দুটি কার্গোর দাম প্রতি এমএমবিটিইউতে ২৪ ডলারের বেশি ছিল। যুদ্ধের আগে প্রচলিত ১০ থেকে ১২ ডলারের তুলনায় এই মূল্য দ্বিগুণেরও বেশি হওয়ায় ওই দুটি কার্গো আমদানির অনুমোদন দেয়নি সরকার।



