ঠাকুরগাঁওয়ে ‘বিয়ে হয়ে গেছে’ বলে তিনটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে এক কিশোরীর স্বাক্ষর নেওয়ার পর তাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক তরুণের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছে পুলিশ।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ১টার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় মামলাটি করা হয়। মামলার এজাহারে অভিযুক্ত হিসেবে মো. মুহিব্বুর রহমান ওরফে রেজওয়ান (২২)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি ভূল্লী থানার কচুবাড়ী গ্রামের মো. মুছা আলমের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগীর মা স্থানীয় একটি প্লাস্টিক কারখানায় কাজ করেন। জীবিকার প্রয়োজনে তিনি প্রতিদিন সকালে কর্মস্থলে চলে যান এবং রাতে বাড়ি ফেরেন। এই সুযোগে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কিশোরীর সঙ্গে রেজওয়ানের পরিচয় ও যোগাযোগ তৈরি হয়।
পরিবার বিষয়টি জানতে পেরে ওই তরুণের সঙ্গে যোগাযোগ না করার জন্য কিশোরীকে নিষেধ করলেও অভিযোগ অনুযায়ী রেজওয়ান তাকে বিভিন্নভাবে প্রলুব্ধ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি কিশোরীকে ভুল বুঝিয়ে ১০০ টাকা মূল্যমানের তিনটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেন। পরে তাকে জানান, ওই স্বাক্ষরের মাধ্যমে তাদের আইনগতভাবে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, গত ৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে রেজওয়ান সেখানে প্রবেশ করেন। নিজেকে কিশোরীর স্বামী দাবি করে তিনি তার শয়নকক্ষে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সেদিন রাতে কাজ শেষে বাড়িতে ফিরে মেয়ের কাছ থেকে পুরো ঘটনা জানতে পারেন তার মা। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও অভিযুক্তের পরিবার এতে সাড়া দেয়নি বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, অভিযুক্ত রেজওয়ান এরই মধ্যে বিবাহিত এবং তার একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
সালিশের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান না হওয়ায় বুধবার রাতে থানায় গিয়ে মামলা করেন ভুক্তভোগীর মা।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান আলী জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা নেওয়া হয়েছে। এজাহারে নাম থাকা আসামিকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান চলছে।



