tanaka

অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ নয়, কর্মঘণ্টার পূর্ণ সদ্ব্যবহারের নির্দেশ প্রধান বিচারপতির

আদালতের নির্ধারিত কর্মঘণ্টার পূর্ণ সদ্ব্যবহার এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ না করতে বিচারকদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। একই সঙ্গে...
প্রচ্ছদরাজনীতি৬ বারের এমপি, এবার পূর্ণ ধর্মমন্ত্রী: কায়কোবাদের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন

৬ বারের এমপি, এবার পূর্ণ ধর্মমন্ত্রী: কায়কোবাদের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন

কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসন থেকে ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে নিজ এলাকায় এক অনন্য রাজনৈতিক ইতিহাস গড়েছেন। সর্বশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের মাধ্যমে তিনি ‘ডাবল হ্যাটট্রিক’ পূর্ণ করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান–এর মন্ত্রিসভায় তিনি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

মিথ্যা হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়ে দীর্ঘ সময় বিদেশে নির্বাসিত জীবন কাটানোর পর দেশে ফিরে মন্ত্রিত্ব পাওয়া—একসময় যা প্রায় অসম্ভব বলেই মনে হচ্ছিল—সেটিই আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে। বর্তমানে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এলাকায় তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছয় কন্যা সন্তানের জনক। রাজনৈতিক জীবনে বহু চড়াই-উতরাই, মামলা-হামলা ও নির্যাতনের মধ্য দিয়েও তিনি তার অবস্থান ধরে রেখেছেন।

জানা যায়, কায়কোবাদের কর্মজীবন শুরু হয় ব্যবসায়ী ও ঠিকাদার হিসেবে। ১৯৮৬ সালে তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির মনোনয়নে দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হন এবং ১৯৮৯ সালের শেষ দিকে সংসদের হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯০ সালের ২ মে থেকে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি ধর্মপ্রতিমন্ত্রী ছিলেন।

১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলামের কাছে পরাজিত হন। ১৯৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে তৃতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

২০০১ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়ে চতুর্থবার সংসদ সদস্য হন। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চমবারের মতো নির্বাচিত হন। স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০১০ সালে তাকে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর দীর্ঘ সময় বিদেশে অবস্থান করে তিনি দলের কার্যক্রম পরিচালনা ও সংগঠন শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখেন। প্রায় ১৫ বছর প্রবাসে থেকেও কুমিল্লা উত্তর জেলা ও মুরাদনগর উপজেলা বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করেন। ২০১৬ সালে নির্বাসনে থাকাকালেই তিনি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান পদ লাভ করেন।

২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে কুমিল্লা-৩ আসন থেকে ষষ্ঠবারের মতো নির্বাচিত হয়ে তিনি ডাবল হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন। ১৭ ফেব্রুয়ারি তাকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় ধর্মমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

মন্ত্রিত্ব পাওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা একজন জনপ্রিয় নেতাকে যথাযথ মূল্যায়ন করায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ বলেন, “সবকিছু আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছায় হয়। আল্লাহ যা চান, তাই হয়। মুরাদনগরের মানুষ আমাকে ষষ্ঠবারের মতো নির্বাচিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী আমাকে ধর্মমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছেন। আমার জীবনে আর কোনো প্রত্যাশা নেই।”

তিনি আরও বলেন, “সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমি কঠোর অবস্থান নেব। মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করব এবং জনগণের চাহিদা অনুযায়ী এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করব।”