ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে লিবিয়ায় নিয়ে গিয়ে এক বাংলাদেশি যুবককে জিম্মি করে মানবপাচারকারী চক্র। পরিবারের কাছ থেকে ধাপে ধাপে ৬০ লাখ টাকা আদায় করেও তাকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। বরং আরও ২৭ লাখ টাকা নির্ধারিত সময়ে না পাওয়ায় গুলি করে হত্যা করা হয় মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার যুবক সোহাগ মুন্সীকে। পরে তার মরদেহ গুম করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) সোহাগের মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছালে শোকে ভেঙে পড়েন তার পরিবারের সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার মজুমদারকান্দি গ্রামের আশরাফ আলী মুন্সীর ছেলে সোহাগ মুন্সী দেশে রংমিস্ত্রীর কাজ করতেন। উন্নত জীবনের আশায় ইতালি যাওয়ার পরিকল্পনা করেন তিনি। এ সুযোগে স্থানীয় মানবপাচারকারী দালাল ময়না আক্তার ও জুলহাস সরদারের খপ্পরে পড়েন। চুক্তি অনুযায়ী ২২ লাখ টাকা দেওয়ার পর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বাড়ি ছাড়েন সোহাগ।
পরিবারের অভিযোগ, প্রথমে তাকে সৌদি আরব এবং পরে লিবিয়ার ত্রিপলিতে নিয়ে একটি আস্তানায় আটকে রাখা হয়। সেখানে তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। নির্যাতনের ভিডিও পরিবারের কাছে পাঠিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে আরও ৩৮ লাখ টাকা আদায় করে মানবপাচারকারী চক্র।
পরবর্তীতে সোহাগকে দেশে ফেরত পাঠানোর কথা বলে আরও দুই লাখ টাকা নেওয়া হলেও সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হয়নি। বরং গত ২৩ জুলাই পরিবারের কাছে আরও ২৭ লাখ টাকা দাবি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ২৪ জুলাই সকাল ৮টার মধ্যে ওই টাকা পরিশোধ করতে না পারায় মানবপাচারকারী চক্র সোহাগকে গুলি করে হত্যা করে। পরে তার মরদেহ গুম করা হয় বলে পরিবারের দাবি।
স্বজনদের অভিযোগ, শুধু সোহাগ নন, এখনও লিবিয়ায় ওই মানবপাচারকারী চক্রের হাতে অন্তত আরও ১১ জন বাংলাদেশি যুবক জিম্মি রয়েছেন। তারা দ্রুত এসব যুবককে উদ্ধার, মানবপাচারকারী দালাল ও চক্রের সদস্যদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত এবং নিহত সোহাগের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে মাদারীপুরের সহকারী পুলিশ সুপার বিমল চন্দ্র বর্মন জানান, এ ঘটনায় বুধবার রাতে নিহত সোহাগের মা শাহিনুর বেগম বাদী হয়ে রাজৈর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ইতোমধ্যে মামলার প্রধান আসামি জুলহাস সরদারকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, মানবপাচারকারী চক্রের মূল হোতাদের অধিকাংশই দেশের বাইরে অবস্থান করায় তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হচ্ছে না। আর যারা দেশে রয়েছে, তারা নিয়মিত অবস্থান পরিবর্তন করায় তাৎক্ষণিকভাবে তাদের আটক করা যাচ্ছে না।



