tanaka

অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ নয়, কর্মঘণ্টার পূর্ণ সদ্ব্যবহারের নির্দেশ প্রধান বিচারপতির

আদালতের নির্ধারিত কর্মঘণ্টার পূর্ণ সদ্ব্যবহার এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ না করতে বিচারকদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। একই সঙ্গে...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিক২০২৬ সাল কি ‘যুদ্ধ ও ধ্বংসের বছর’? বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণী ঘিরে নতুন...

২০২৬ সাল কি ‘যুদ্ধ ও ধ্বংসের বছর’? বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণী ঘিরে নতুন বিতর্ক

২০২৬ সালের শুরু থেকেই বিশ্বজুড়ে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। যুদ্ধ, সংঘাত ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছেন বুলগেরিয়ার রহস্যময় নারী ও কথিত ভবিষ্যদ্ব্রষ্টা বাবা ভাঙ্গা। তার অনুসারীদের দাবি, বহু বছর আগেই তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন—২০২৬ সাল মানবজাতির জন্য ‘যুদ্ধ ও ধ্বংস’ বয়ে আনবে।

অনুসারীদের মতে, বাবা ভাঙ্গা যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১ হামলা, প্রিন্সেস ডায়ানার মৃত্যু এবং বিশ্বশক্তি হিসেবে চীনের উত্থানের মতো ঘটনার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। এসব দাবি নতুন নয়, তবে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে তা আবারও কৌতূহল ও বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে।

সম্প্রতি নিউইয়র্ক পোস্টে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাবা ভাঙ্গা ২০২৬ সালে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা এবং মানুষের সঙ্গে ভিনগ্রহের প্রাণীর প্রথম যোগাযোগ স্থাপনের কথাও বলে গেছেন।

১৯৯৬ সালে ৮৫ বছর বয়সে বাবা ভাঙ্গার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পরও তার নাম ঘিরে রহস্য ও আগ্রহ কমেনি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এসব ভবিষ্যদ্বাণীর পেছনে নির্ভরযোগ্য বা প্রামাণ্য কোনো তথ্য নেই। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচলিত গল্প, অস্পষ্ট কথাবার্তা ও পরবর্তী সময়ের ব্যাখ্যার সমন্বয়। বাবা ভাঙ্গার নিজের লেখা বা সরাসরি বক্তব্যের কোনো যাচাইকৃত নথি পাওয়া যায় না।

কে এই বাবা ভাঙ্গা

১৯১১ সালে বর্তমান উত্তর মেসিডোনিয়ায় জন্ম নেওয়া ভ্যাঞ্জেলিয়া পান্ডেভা গুশতেরোভা, যিনি পরিচিত হন বাবা ভাঙ্গা নামে। মাত্র ১২ বছর বয়সে এক ভয়াবহ টর্নেডোর কবলে পড়ে তিনি দৃষ্টিশক্তি হারান। তার ভক্তদের বিশ্বাস, এই অন্ধত্বই তাকে ‘দিব্যচক্ষু’ প্রদান করে এবং ভবিষ্যৎ দেখার ক্ষমতা এনে দেয়।

প্রথাগত শিক্ষা না থাকলেও তিনি বুলগেরিয়া ও আশপাশের অঞ্চলে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। ব্যক্তিগত সমস্যা থেকে শুরু করে বৈশ্বিক ঘটনাবলি—সব ক্ষেত্রেই মানুষ তার পরামর্শ নিতে যেত। অনুসারীদের দাবি অনুযায়ী, তিনি ৫০৭৯ সাল পর্যন্ত মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছেন।

ভবিষ্যদ্বাণীর মিল ও অমিল

অনুসারীরা দাবি করেন, বাবা ভাঙ্গার কিছু ভবিষ্যদ্বাণী বাস্তবে মিলেছে। এর মধ্যে রয়েছে—৯/১১ হামলা, রাশিয়ান সাবমেরিন কুরস্ক দুর্ঘটনা, বারাক ওবামার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া, চেরনোবিল পারমাণবিক দুর্ঘটনা এবং বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদের উত্থান।

তবে সমালোচকদের মতে, এসব ঘটনার সঙ্গে ভবিষ্যদ্বাণীর মিল অনেক ক্ষেত্রেই অস্পষ্ট ও ব্যাখ্যাভিত্তিক। আবার তার অনেক ভবিষ্যদ্বাণী বাস্তবে ঘটেনি। যেমন—২০১০ সালে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়া বা ২০২৫ সালে কোনো ক্রীড়া আসরে ভিনগ্রহীদের আবির্ভাব—এসব দাবির কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।

প্রচলিত কথিত সময়রেখা অনুযায়ী বলা হয়—
২০২৮ সালে মানুষ শক্তির সন্ধানে শুক্র গ্রহ অনুসন্ধান করবে,
২০৩৩ সালে মেরু অঞ্চলের বরফ ব্যাপকভাবে গলে যাবে,
২০৭৬ সালে বিশ্বজুড়ে কমিউনিজম বিস্তার লাভ করবে,
২১৭০ সালে ভয়াবহ খরায় বহু অঞ্চল ধ্বংস হবে,
৩০০৫ সালে মঙ্গলগ্রহের সভ্যতার সঙ্গে যুদ্ধ হবে,
৩৭৯৭ সালে পৃথিবী বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে এবং
৫০৭৯ সালে পৃথিবীর চূড়ান্ত সমাপ্তি ঘটবে।

বিশ্লেষকরা জোর দিয়ে বলছেন, এসব ভবিষ্যদ্বাণীর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এগুলো যাচাইযোগ্য তথ্য বা প্রমাণের ওপর দাঁড়িয়ে নয়।

২০২৬ নিয়ে বাবা ভাঙ্গার কথিত সতর্কবার্তা

প্রচলিত দাবিতে বলা হয়, ২০২৬ সাল সম্পর্কে বাবা ভাঙ্গা তিনটি বড় সতর্কতার কথা বলেছিলেন—

১. বৈশ্বিক সংঘাত: বিশ্বশক্তিগুলোর বিরোধের জেরে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা।
২. প্রাকৃতিক বিপর্যয়: ভয়াবহ ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতসহ চরম দুর্যোগ।
৩. অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা: ইউরোপে সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে গভীর সংকট।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যৎ জানার মানুষের চিরন্তন কৌতূহলই বাবা ভাঙ্গাকে আজও আলোচনায় রাখছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যুদ্ধ, মহাকাশ বা পৃথিবীর শেষ—এসব অজানা বিষয় মানুষের মনে ভয় ও কৌতূহল তৈরি করে, আর সেখানেই এসব ভবিষ্যদ্বাণীর আবেদন।

সূত্র: গালফ নিউজ