ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত লেখক রান্ডা আবদেল-ফাত্তাহর আমন্ত্রণ বাতিল করায় তীব্র বিতর্ক ও গণবর্জনের মুখে পড়েছে অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্য আয়োজন ‘অ্যাডিলেড ফেস্টিভ্যাল’। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ইতোমধ্যে প্রায় ১০০ জন লেখক উৎসব থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। পাশাপাশি পরিচালনা পর্ষদের চার সদস্য পদত্যাগ করেছেন।
গত ডিসেম্বরে সিডনির বন্ডি বিচে একটি ইহুদি উৎসব চলাকালে গোলাগুলির ঘটনার পর ‘সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতার’ অজুহাতে ফিলিস্তিনি-অস্ট্রেলীয় এই লেখককে উৎসব থেকে বাদ দেয় কর্তৃপক্ষ। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করেই শুরু হয় ব্যাপক সমালোচনা।
অ্যাডিলেড ফেস্টিভ্যাল কর্তৃপক্ষ সোমবার (১২ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে বোর্ড চেয়ারম্যানসহ চার সদস্যের পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করে। উৎসবের নির্বাহী পরিচালক জুলিয়ান হোবা বলেন, বোর্ডের সিদ্ধান্তের ফলে যে নজিরবিহীন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে, তা সামাল দিতে কর্তৃপক্ষ হিমশিম খাচ্ছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়, আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া এই উৎসবের মোট ১২৪ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে অন্তত ১০০ জনই তাদের অংশগ্রহণ বাতিল করেছেন। এতে করে পুরো আয়োজনের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৪ ডিসেম্বর সিডনির বন্ডি বিচে হানুক্কাহ উদযাপনের সময় এক বন্দুকধারীর হামলায় ১৫ জন নিহত হন। ওই ঘটনার পর দেশজুড়ে ইহুদিবিদ্বেষ (অ্যান্টিসেমিটিজম) নিয়ে তীব্র আলোচনা শুরু হয়। ফেস্টিভ্যাল কর্তৃপক্ষ সেই ঘটনার সংবেদনশীলতার কথা উল্লেখ করেই রান্ডা আবদেল-ফাত্তাহকে আমন্ত্রণ না জানানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
তবে এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন রান্ডা আবদেল-ফাত্তাহ নিজেই। তিনি একে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বর্ণবাদ ও সেন্সরশিপ হিসেবে আখ্যা দেন। দীর্ঘদিন ধরে ইসলামফোবিয়া ও ফিলিস্তিন সংকট নিয়ে কাজ করা ম্যাককুয়ারি ইউনিভার্সিটির এই গবেষকের মতে, বন্ডি বিচের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাকে জড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা ‘অত্যন্ত অপমানজনক ও অগ্রহণযোগ্য’।
এদিকে লেখকদের গণবর্জনের পাশাপাশি একজন স্পন্সরও উৎসব থেকে নিজেদের সমর্থন প্রত্যাহার করেছেন, যা অ্যাডিলেড ফেস্টিভ্যালের সংকটকে আরও গভীর করেছে।



