পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানে টানা প্রায় ৪০ ঘণ্টার ভয়াবহ সংঘর্ষের পর দেশজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিরাপত্তা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানে অন্তত ১৪৫ জন সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হওয়ার পর প্রদেশজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
গত শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) থেকে বেলুচিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় একযোগে হামলা চালায় নিষিদ্ধ বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। তারা এ হামলার নাম দেয় ‘হেরোফ’ বা ‘ব্ল্যাক স্টর্ম’। হামলাকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীর সদর দপ্তর, রেললাইন ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ককে লক্ষ্যবস্তু করে। অভিযোগ রয়েছে, সাধারণ বেসামরিক পোশাকে তারা হাসপাতাল, স্কুল ও বাজারে ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
এই সহিংসতা ঠেকাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী, পুলিশ ও কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগ যৌথভাবে বড় ধরনের অভিযান শুরু করে। প্রায় ৪০ ঘণ্টা ধরে চলা এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে শেষ খবর অনুযায়ী ১৪৫ জন বিদ্রোহী নিহত হয়েছে। তবে এতে ১৭ জন নিরাপত্তা কর্মী এবং ৩১ জন সাধারণ নাগরিকেরও প্রাণহানি হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন প্রদেশটির মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে আগাম গোয়েন্দা তথ্য থাকায় হামলার এক দিন আগে থেকেই প্রি-অপারেশন শুরু করা হয়েছিল।
এদিকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, বিদ্রোহীরা এখন সাধারণ শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। হামলায় নারী আত্মঘাতী ব্যবহারের তথ্যও পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।
অভিযানের পর কোয়েটা, গোয়াদর ও মাস্টুং জেলাসহ পুরো বেলুচিস্তান কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে পুড়ে যাওয়া যানবাহন ও বুলেটের চিহ্ন হামলার ভয়াবহতার সাক্ষ্য দিচ্ছে। জননিরাপত্তার স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যান চলাচল সীমিত করা হয়েছে এবং মোড়ে মোড়ে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। আতঙ্কে সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হওয়া কমিয়ে দিয়েছে।
পাকিস্তান সরকার হামলার পেছনে বিদেশি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুললেও প্রতিবেশী দেশগুলো তা নাকচ করেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র এ হামলাকে ‘সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং পাকিস্তানের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও নতুন হামলার আশঙ্কায় পুরো অঞ্চলে থমথমে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সূত্র: রয়টার্স



