tanaka
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকজি-৭-এর মজুত ছাড়ার ঘোষণায় কমতে শুরু করেছে জ্বালানির দাম

জি-৭-এর মজুত ছাড়ার ঘোষণায় কমতে শুরু করেছে জ্বালানির দাম

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা ও মূল্যবৃদ্ধি তৈরি হয়েছে, তা নিয়ন্ত্রণে জরুরি কৌশলগত মজুত থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে শিল্পোন্নত সাত দেশের জোট জি-৭। জোটটির এই ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেল ও অপরিশোধিত তেলের দাম কমতে শুরু করেছে।

জি-৭ দেশগুলো তাদের জরুরি মজুত থেকে মোট ১০ কোটি ব্যারেল ডিজেল ও অপরিশোধিত তেল বাজারে ছাড়তে সম্মত হয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) সমন্বয়ে নেওয়া এই উদ্যোগকে বিশ্ববাজারে সরবরাহের চাপ সাময়িকভাবে কমানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে রয়টার্স জানায়, জি-৭-এর সদস্য দেশগুলো জরুরি মজুত থেকে ১০ কোটি ব্যারেল ডিজেল ও অপরিশোধিত তেল বাজারে ছাড়ার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলো থেকে প্রায় ৫ কোটি ব্যারেল ডিজেল এবং আইইএ সদস্য দেশগুলোর কাছ থেকে আরও ৫ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর সরকার ফ্রান্সের একটি প্রস্তাবও আলোচনা করেছে।

ইউরোস্ট্যাটের হিসাব অনুযায়ী, ইউরোপীয় দেশগুলো ৫ কোটি ব্যারেল ডিজেল বাজারে ছাড়লে তা ইইউর মোট জরুরি ডিজেল মজুতের প্রায় ১৭ শতাংশের সমান হবে। ফলে বাজারে দ্রুত অতিরিক্ত সরবরাহ তৈরি হওয়ার প্রত্যাশায় ঘোষণার পরপরই জ্বালানি পণ্যের দামে পতন দেখা যায়।

যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেল ফিউচারসের দাম ৪ শতাংশের বেশি কমে প্রতি গ্যালন ৪.৪৪৯১ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের (এলএসইজি) তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপের বেঞ্চমার্ক ডিজেল ফিউচারসের দাম প্রতি মেট্রিক টনে ৯০ ডলারের বেশি কমেছে।

জি-৭-এর যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মজুত ছাড়ার কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে শুরু হবে এবং টানা চার মাস চলবে। বিশেষ করে প্রথম ২০ দিনের মধ্যেই বাজারে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডিজেল সরবরাহ করা হবে। এর ফলে যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট সরবরাহ সংকটের তাৎক্ষণিক চাপ কিছুটা কমানোর প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশটির বাজারে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখাকে গুরুত্ব দিচ্ছে মার্কিন প্রশাসন।

ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প সন্তোষ প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘ইউরোপ এইমাত্র তাদের বিপুল মজুত থাকা ডিজেল তেলের বড় একটি অংশ ছাড়তে সম্মত হয়েছে।’

এর আগে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, মার্কিন প্রশাসন জার্মানি ও ফ্রান্সকে তাদের জরুরি ডিজেল মজুত কমানোর জন্য চাপ দিয়েছিল। অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে হতে পারে বলেও তাদের সতর্ক করা হয়েছিল।

তবে জি-৭-এর সর্বশেষ যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সদস্য দেশগুলো পরস্পরের মধ্যে জ্বালানি পণ্য রপ্তানিতে কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা থেকে বিরত থাকবে। ফলে জরুরি মজুত ব্যবহারের পাশাপাশি আন্তঃদেশীয় জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, জরুরি মজুত থেকে জ্বালানি ছাড়ার সিদ্ধান্ত যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ ঘাটতি পুরোপুরি পূরণ করতে পারবে না। তবে স্বল্পমেয়াদে বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ায় জ্বালানির দামে চাপ কমতে পারে। ইতোমধ্যে ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেল ও তেলের দামে যে পতন শুরু হয়েছে, সেটিকে বাজারের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি, সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা এবং উৎপাদন ও রপ্তানি পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে এই মূল্যপতন কতটা স্থায়ী হয়। ফলে জি-৭-এর মজুত ছাড়ার সিদ্ধান্ত বিশ্ব জ্বালানি বাজারে সাময়িক স্বস্তি আনলেও দীর্ঘমেয়াদে বাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে আরও পদক্ষেপের প্রয়োজন হতে পারে।