ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তার প্রথম রাষ্ট্রীয় বক্তব্যে ঘোষণা দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখাই হবে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টি করার প্রধান হাতিয়ার। তিনি সতর্ক করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলা অব্যাহত থাকবে এবং দেশের সব মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করতে হবে। এই বক্তব্য রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সংবাদ উপস্থাপক মাধ্যমে পাঠ করা হয়েছে; খামেনি নিজে ক্যামেরার সামনে উপস্থিত হননি।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার সময় খামেনির পিতা আয়াতুল্লাহ খামেনি, তার কন্যা, জামাই, নাতি ও স্ত্রী নিহত হন, মোজতবা খামেনি আহত হয়ে বেঁচে যান। নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি যুদ্ধে নিহতদের প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন এবং দাবি করেছেন, ইরান তার শত্রু থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করবে। যদি তা না দেওয়া হয়, তবে ক্ষতিপূরণ ইরান সরাসরি শত্রুর সম্পদ থেকে আদায় করবে বা সমপরিমাণ ক্ষতি করবে।
একই দিনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে সংঘাত শেষের জন্য তিনটি শর্ত তুলে ধরেন:
১. ইরানের বৈধ অধিকার স্বীকৃতি। ২.ক্ষতিপূরণের নিশ্চয়তা। ৩. ভবিষ্যতে আর কোনো হামলার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্যারান্টি।
পেজেশকিয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, রাশিয়া ও পাকিস্তানের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে তিনি আবারও এ অঞ্চলে শান্তির প্রতি ইরানের অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছেন।
ইরানের অব্যাহত হামলার কারণে পারস্য উপসাগরে জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর চাপ বেড়ে তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের উপরে উঠে গেছে। প্রেসিডেন্টের কথায়, আরেকটি হামলার বিরুদ্ধে নিরাপত্তা গ্যারান্টি না পাওয়া পর্যন্ত ইরানের আক্রমণ চলতেই থাকবে। এতে বোঝা যাচ্ছে, যুদ্ধবিরতি বা যুক্তরাষ্ট্রের বিজয় ঘোষণা হয়তো এই সংঘাত থামাতে যথেষ্ট নাও হতে পারে।



