রাশিয়ার বার্ষিক অর্থনৈতিক ফোরামের সমাপনী দিনে সেন্ট পিটার্সবার্গ ও এর আশপাশের এলাকায় বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান যুদ্ধে এই প্রথম শহরটির গভর্নর আলেকজান্ডার বেগলোভ স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে অবস্থান করার নির্দেশ দেন।
লেলিনগ্রাদ অঞ্চলের গভর্নর আলেকসান্দর দ্রোজদেন্দো জানিয়েছেন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে ১৪০টিরও বেশি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে হামলার ফলে একটি সামরিক স্থাপনায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটে এবং আশপাশের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। রুশ কর্তৃপক্ষের দাবি, কয়েকটি ভবনে সীমিত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ড্রোন হামলার ভিডিও প্রকাশ করে অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করেন। তার দাবি, প্রায় এক হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে ইউক্রেনীয় ড্রোনগুলো সেন্ট পিটার্সবার্গ অঞ্চলের ক্রনশটাদে অবস্থিত রুশ নৌবাহিনীর বাল্টিক ফ্লিটের প্রধান ঘাঁটি ও অস্ত্রাগারে সফলভাবে আঘাত হেনেছে। একই সঙ্গে ক্রাসনোদার অঞ্চলের একটি তেল ডিপোতেও হামলা চালানো হয়েছে বলে ইউক্রেন জানিয়েছে।
ইউক্রেনের চালকবিহীন বিমান বাহিনীর ৪১৩তম রেজিমেন্টের কমান্ডার ইয়েভহেন কারাস দাবি করেন, রাশিয়ার অভ্যন্তরে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা এখন অনেক সহজ হয়ে গেছে এবং রুশ আকাশসীমায় প্রবেশে তেমন বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে না।
এদিকে অর্থনৈতিক ফোরাম চলাকালীন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে সরাসরি আলোচনা ও যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে একটি খোলা চিঠি পাঠান জেলেনস্কি। যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির দিকে বেশি থাকায় ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভর না করে সরাসরি সংলাপের প্রস্তাব দেন তিনি।
তবে ফোরামে দেওয়া বক্তব্যে পুতিন সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তার ভাষ্য, এখন যুদ্ধবিরতি হলে ইউক্রেন পুনরায় সামরিক শক্তি সঞ্চয়ের সুযোগ পাবে। রাশিয়ার ঘোষিত লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
মস্কো দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, ইউক্রেনকে দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝিয়া অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে এবং ন্যাটোতে যোগদানের পরিকল্পনা পরিত্যাগ করতে হবে। তবে কিয়েভ এসব শর্ত স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
সেন্ট পিটার্সবার্গের পাশাপাশি রুশ-নিয়ন্ত্রিত লুহানস্ক অঞ্চলেও ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার তৎপরতা বেড়েছে। সামরিক সরবরাহ পথ লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলার কারণে নিরাপত্তাজনিত কারণে দুটি প্রধান মহাসড়কে বাস চলাচল এবং যাত্রীবাহী ট্রেন পরিষেবা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
বিশ্লেষকদের মতে, গত মে মাসের শুরু থেকে ইউক্রেনীয় হামলায় রাশিয়ার ২০০টির বেশি সামরিক লরি এবং ৩০টিরও বেশি তেলের ট্যাংকার ধ্বংস হয়েছে। ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর ইউক্রেন নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। এর ফলে দেশটি এখন নিয়মিতভাবে রাশিয়ার অভ্যন্তরে জ্বালানি অবকাঠামো ও সামরিক লজিস্টিকস লক্ষ্য করে দূরপাল্লার হামলা পরিচালনা করতে সক্ষম হচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি



