tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদজাতীয়যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলপিজি আমদানিতে চুক্তির পথে বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলপিজি আমদানিতে চুক্তির পথে বাংলাদেশ

দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সরবরাহ বৃদ্ধি এবং বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বছরে ১০ লাখ টনের বেশি এলপিজি আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে একটি চুক্তির খসড়া ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

চুক্তি সম্পাদনের জন্য বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল আজ যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হচ্ছে। প্রতিনিধি দলে জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামও রয়েছেন। সরকারের পক্ষে তিনিই চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন।

জ্বালানি সচিব সাংবাদিকদের জানান, মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্যান্য উৎসের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে তুলনামূলক কম দামে এলপিজি পাওয়া যায়। ফলে সেখান থেকে এলপিজি আমদানি করা গেলে দেশের ভোক্তারা উপকৃত হতে পারেন। তিনি বলেন, বর্তমানে এলপিজির পুরো বাজার বেসরকারি খাতের নিয়ন্ত্রণে থাকায় সরকারি উদ্যোগে সরবরাহ শুরু হলে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১২ বা ১৩ জুন যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এলপিজি আমদানিবিষয়ক চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতি মাসে ৪৫ হাজার টন এবং পরবর্তীতে ৭৫ হাজার টন এলপিজি আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে দেশে মাসিক এলপিজির চাহিদা দেড় লাখ টনেরও বেশি।

দেশের এলপিজি চাহিদার প্রায় ৯২ শতাংশ আমদানিনির্ভর এবং ৪০টিরও বেশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এ খাতে ব্যবসা করছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ও বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতার প্রভাবে সম্প্রতি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, পুরো বাজার বেসরকারি খাতে পরিচালিত হওয়ায় মূল্য নির্ধারণে কিছু ক্ষেত্রে সমন্বিত প্রভাবের আশঙ্কা থাকে। সরকারি অংশগ্রহণ বাজারে ভারসাম্য আনতে সহায়ক হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্যিক সম্পর্কের অংশ হিসেবে এই এলপিজি আমদানি বাধ্যতামূলক কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে এক কর্মকর্তা জানান, এ ধরনের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবে তুলনামূলক কম মূল্য এবং দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ নিশ্চিতে যুক্তরাষ্ট্রকে সম্ভাবনাময় উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। যদিও বাংলাদেশে এলপিজি পরিবহন ও খালাসের ব্যয় কত হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ এখনো প্রয়োজন।

জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র সরকার সরাসরি এলপিজি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নয়। তবে বাংলাদেশ সরকার যদি কোনো মার্কিন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এলপিজি আমদানির সমঝোতা করে, তাহলে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করতে দুই দেশের সরকারের মধ্যে এ চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যদিও এখনো কোনো নির্দিষ্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের দুই জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশ সফর করে এ বিষয়ে মতামত দিয়েছেন। তাদের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, বড় আকারের এলপিজিবাহী জাহাজ মাতারবাড়ি বন্দরে খালাস করা সম্ভব হতে পারে।

তবে সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, বিষয়টি বাস্তবায়ন সহজ হবে না। কারণ মাতারবাড়ি বন্দরে প্রায় সারা বছরই কয়লাবাহী জাহাজের ব্যস্ততা থাকে, যা এলপিজি খালাস কার্যক্রমে চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে কী পদ্ধতিতে এলপিজি আমদানি করা হবে এবং কারা এ কার্যক্রম পরিচালনা করবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে সরকারের একাধিক সূত্র মনে করছে, উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে দেশের জ্বালানি বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। যদিও জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রকল্পটির সম্ভাব্য আর্থিক লাভ-ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো সম্পন্ন হয়নি।