tanaka
প্রচ্ছদজাতীয়সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ১৬ জনের

সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ১৬ জনের

দেশের বিভিন্ন জেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় একদিনে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে কক্সবাজারের চকরিয়ায় চারজন, নেত্রকোনার পূর্বধলায় চারজন, ফেনীর ছাগলনাইয়ায় একজন, রাজবাড়ীতে একজন, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে একজন, যশোরের বেনাপোলে একজন, মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় একজন, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একজন, ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে একজন এবং ফরিদপুরের সালথায় এক শিশু রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এসব দুর্ঘটনা ঘটে। প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী বিস্তারিত—

কক্সবাজার: কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চকরিয়ায় যাত্রীবাহী এসি বাস ও লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত এবং পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের নয়াপাড়া বায়তুল মামুর জামে মসজিদের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন—চকরিয়ার খুটাখালী সেগুনবাগিচা গ্রামের মৃত মতিউর রহমানের ছেলে মো. জসিম উদ্দিন (২৫), ফুলছড়ি শিয়াপাড়ার মৃত মনজুর আলমের ছেলে মো. শাহেদ (২৭), ঈদগাঁও উপজেলার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে মোহাম্মদ রফিক (২৮) এবং আমিনুল হকের ছেলে মো. জিয়াবুল হক (২৫)।

মালুমঘাট হাইওয়ে থানার ওসি ওসমান গনি জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও লেগুনা জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

নেত্রকোনা: জেলার পূর্বধলায় পিকআপভ্যান ও সারবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক নারীসহ চারজন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের নারান্দিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, নেত্রকোনা থেকে ময়মনসিংহের দিকে যাচ্ছিল পিকআপভ্যানটি। বিপরীত দিক থেকে আসা সারবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে নারান্দিয়া এলাকায় সেটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে পিকআপভ্যানে থাকা এক নারীসহ চারজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুল ইসলাম জানান, নিহতদের পরিচয় শনাক্তে কাজ চলছে।

ফেনী: ছাগলনাইয়া উপজেলায় কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় জুয়েল দাস (৩০) নামে এক কারখানা শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সাইফুল ইসলাম (৪০) নামে আরও একজন আহত হন। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঘোপাল ইউনিয়নের মুহুরীগঞ্জ এলাকায় ইকবাল সিএনজি ফিলিং স্টেশনের সামনে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

নিহত জুয়েল দাস নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার দাসেরহাট ইউনিয়নের চর ঈশ্বর রায় গ্রামের মতিলাল দাসের ছেলে। তিনি মুহুরীগঞ্জের পিএইচপি কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

ফেনীর ফাজিলপুর হাইওয়ে থানার এসআই আবু নোমান জানান, দুর্ঘটনার পর কাভার্ডভ্যান ও মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

রাজবাড়ী: রাজবাড়ীতে বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে পলাশ প্রামানিক (২৫) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে সদর উপজেলার রাজবাড়ী-বালিয়াকান্দি সড়কের রামকান্তপুর ইউনিয়নের মাটিপাড়া ফিরোজ কাজীর পুকুরসংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত পলাশ সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের মর্জৎকোল গ্রামের আরজু প্রামানিকের ছেলে।

রাজবাড়ী সদর থানার ওসি উত্তম কুমার ঘোষ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। নিহতের মোটরসাইকেলটি পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।

গোপালগঞ্জ: মুকসুদপুরে ট্রাকের ধাক্কায় রেজাউল আলম (৪৫) নামে এক মোটরসাইকেল চালক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের দিগনগর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার এসআই আজাদুর রহমান জানান, রেজাউল আলম মোটরসাইকেলে মুকসুদপুর থেকে টেকেরহাটের দিকে যাচ্ছিলেন। দিগনগর এলাকায় পৌঁছালে দ্রুতগতির একটি ট্রাক তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ছিটকে পড়ে ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। নিহত রেজাউল মুকসুদপুর উপজেলার বড় বনগ্রামের মৃত আতিয়ার রহমানের ছেলে।

যশোর: বেনাপোলে লোহার গ্রিলবোঝাই ভ্যান ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ইব্রাহিম হোসেন (৫০) নামে এক মাদ্রাসাশিক্ষক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে ভবেরবেড় এলাকায় বাইপাস সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে মোটরসাইকেলের অপর আরোহী ফজলু রহমান ও ভ্যানচালক আলী কদর আহত হন।

নিহত ইব্রাহিম হোসেন শার্শা উপজেলার গোগা ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে। তিনি ইছাপুর দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন।

বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি আরশাফ হোসেন জানান, দুর্ঘটনাকবলিত ভ্যান ও মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মুন্সীগঞ্জ: গজারিয়ায় লং হেভিকেলের ধাক্কায় মো. আশরাফুল ইসলাম (৪০) নামে এক মোটরসাইকেল চালক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উশিয়া মানা বে ওয়াটার পার্কের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আশরাফুল ইসলাম কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মৃত রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে।

ভবেরচর হাইওয়ে থানার ওসি শাহ কামাল আকন্দ জানান, দুর্ঘটনায় জড়িত গাড়িটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

নারায়ণগঞ্জ: রূপগঞ্জে ট্রাকের ধাক্কায় মাহমুদুল হাসান মুয়াজ (২২) নামে এক কলেজ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের তারাব বিশ্বরোড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মুয়াজ রাজধানীর খিলগাঁও থানার গোড়ান এলাকার মাসুম আহমেদের ছেলে। তিনি নরসিংদী সরকারি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

শিমরাইল হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ জুলহাস জানান, পরীক্ষা থাকায় সকালে মুয়াজ মোটরসাইকেলে করে গোড়ানের বাসা থেকে নরসিংদী সরকারি কলেজের উদ্দেশে রওনা হন। রূপগঞ্জের তারাব বিশ্বরোড এলাকায় একটি ট্রাককে অতিক্রম করার সময় সেটির ধাক্কায় তিনি সড়কে ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

পুলিশ ঘাতক ট্রাকটি আটক করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা না করায় বিনা ময়নাতদন্তে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ঝিনাইদহ: হরিণাকুণ্ডুতে ট্রাক্টরের ধাক্কায় ইসরাফিল শিকদার (২৪) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার প্যারিস রোডসংলগ্ন শিংগা বটতলা মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ইসরাফিল নড়াইলের নড়াগাতী থানার বাগুডাঙ্গা গ্রামের ইব্রাহিম শিকদারের ছেলে। মোটর গ্যারেজে কাজের সুবাদে তিনি হরিণাকুণ্ডুর হলবাজার এলাকায় থাকতেন।

স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যার দিকে গ্যারেজ থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হন ইসরাফিল। শিংগা বটতলা মোড়ে পৌঁছালে দ্রুতগতির একটি ট্রাক্টর তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

হরিণাকুণ্ডু থানার ওসি জুলফিকার আলী জানান, মরদেহ উদ্ধার করে থানায় রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর ট্রাক্টরের চালক পালিয়ে গেলেও গাড়িটি পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।

ফরিদপুর: সালথায় স্কুলে যাওয়ার পথে দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় জান্নাতি আক্তার (৫) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের বড়বাংরাইল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত জান্নাতি বড়বাংরাইল পশ্চিমপাড়ার ইলিয়াস মুন্সির মেয়ে এবং বড়বাংরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

স্থানীয়রা জানান, সকালে কয়েকজন সহপাঠীর সঙ্গে স্কুলে যাচ্ছিল জান্নাতি। এ সময় একই গ্রামের সেলিম মুন্সির ছেলে সজিব মুন্সি দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে ফুলবাড়িয়া বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে মোটরসাইকেলটি পেছন থেকে জান্নাতিকে ধাক্কা দিলে সে গুরুতর আহত হয়।

স্থানীয়রা তাকে প্রথমে ফুলবাড়িয়া বাজারে নিয়ে যান। পরে সালথা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক জান্নাতিকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে শিশুটির মৃত্যুর পর থানায় মামলা না করে স্থানীয়ভাবে ৪ লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সোনাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনির মোল্লার উদ্যোগে মোটরসাইকেলচালকের পক্ষের সঙ্গে নিহতের পরিবারের এ আপস হয়।

তবে জান্নাতির বাবা জানিয়েছেন, তিনি কোনো টাকা চান না; মেয়ের মৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যক্তির বিচার চান।