tanaka
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকফ্লাইদুবাইয়ের উড়োজাহাজকাণ্ডে সরকার ‘সস্তা রাজনীতি’ করছে: ইয়ার লাপিদ

ফ্লাইদুবাইয়ের উড়োজাহাজকাণ্ডে সরকার ‘সস্তা রাজনীতি’ করছে: ইয়ার লাপিদ

ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজকে ঘিরে সৃষ্ট ঘটনাকে ইসরাইলের নিরাপত্তা ইস্যুর সঙ্গে যুক্ত করে সরকার রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ। তিনি দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কাছ থেকে পাওয়া নিরাপত্তাবিষয়ক ব্রিফিংয়ে উড়োজাহাজটির ঘটনাসদৃশ কোনো হুমকির কথা উল্লেখ করা হয়নি।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লাপিদ এসব মন্তব্য করেন। তার অভিযোগ, সরকারঘনিষ্ঠ বিভিন্ন মহল উড়োজাহাজের ঘটনাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে।

লাপিদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঙ্গলবারের নিরাপত্তাবিষয়ক বৈঠকে উড়োজাহাজের ঘটনার সামান্যতম আভাসও দেওয়া হয়নি। তার ভাষ্য, সেখানে এ ধরনের কোনো বিষয় বা এর কাছাকাছি কোনো হুমকি নিয়েও আলোচনা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, উড়োজাহাজের ঘটনাকে ঘিরে সরকারি মুখপাত্রদের বিভিন্ন বক্তব্য ও প্রচারণা প্রমাণ করে যে ইসরাইলের নিরাপত্তাকে আবারও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে তিনি ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলেও মন্তব্য করেন।

লাপিদের এ মন্তব্য আসে নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার নিরাপত্তাবিষয়ক বৈঠকের এক দিন পর। এর আগে নেতানিয়াহু ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের আগে ইসরাইলে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। এরপর লাপিদকে নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে ব্রিফ করা হয়। বৈঠক শেষে তিনি বলেছিলেন, জনসাধারণকে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই এবং নিরাপত্তা হুমকি পেশাদার ও দায়িত্বশীলভাবে মোকাবিলা করা উচিত।

কী ঘটেছিল ফ্লাইদুবাইয়ের উড়োজাহাজে?

এর মধ্যেই বুধবার ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটকে ঘিরে জরুরি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দুবাই থেকে তেল আবিবগামী উড়োজাহাজটি আকাশে থাকা অবস্থায় জরুরি ও বেআইনি হস্তক্ষেপের সংকেত পাঠায়। পরে সেটিকে সৌদি আরবের তাবুকের দিকে ঘুরিয়ে নেওয়া হয় এবং সেখানে নিরাপদে অবতরণ করে। পরিস্থিতির সময় ইসরাইলি যুদ্ধবিমানও আকাশে পাঠানো হয়েছিল।

প্রাথমিকভাবে উড়োজাহাজ ছিনতাই বা অন্য কোনো নিরাপত্তাজনিত ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হলেও পরে ককপিটে পাইলটদের মধ্যে সংঘর্ষের বিষয়টি সামনে আসে। পরবর্তী তথ্য অনুযায়ী, কো-পাইলট ক্যাপ্টেনকে ছুরিকাঘাত করে উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু জানান। আহত ক্যাপ্টেন ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হলে যাত্রী ও অন্য ক্রু সদস্যরা সেখানে ঢুকে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরপর উড়োজাহাজটি তাবুকে নিরাপদে অবতরণ করে।

তাবুকের প্রিন্স সুলতান বিন আবদুলআজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উড়োজাহাজটির ক্যাপ্টেন ও ফার্স্ট অফিসার দুজনই আহত হন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ঘটনার পর যাত্রীদের একটি বিকল্প উড়োজাহাজে করে তেল আবিবে নেওয়া হয়। ফ্লাইদুবাইয়ের ঘটনাটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

লাপিদের অভিযোগের পাশাপাশি ঘটনাটি নিয়ে ইসরাইলের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। বিরোধী নেতার দাবি, উড়োজাহাজের ঘটনাকে আগের দিনের নিরাপত্তা সতর্কতার সঙ্গে যুক্ত করার কোনো ভিত্তি নেই; অন্যদিকে সরকারি পক্ষ ঘটনাটিকে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অংশ হিসেবে দেখছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্যের পাশাপাশি তদন্তের ফলই ঘটনার প্রকৃত কারণ ও প্রেক্ষাপট আরও স্পষ্ট করবে।