tanaka
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিককালিনিনগ্রাদ বিচ্ছিন্নের চেষ্টা হলে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি রাশিয়ার

কালিনিনগ্রাদ বিচ্ছিন্নের চেষ্টা হলে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি রাশিয়ার

রাশিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন অঞ্চল কালিনিনগ্রাদকে ঘিরে মস্কো ও ন্যাটোর মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ন্যাটো যদি অঞ্চলটিকে রাশিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করার কোনো পদক্ষেপ নেয়, তাহলে নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষায় পারমাণবিক অস্ত্রসহ সব ধরনের সামরিক সক্ষমতা ব্যবহারের প্রস্তুতি রয়েছে বলে সতর্ক করেছে রাশিয়া।

বুধবার ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর কাছে পাঠানো একটি কূটনৈতিক নথিতে এ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। নথিতে মস্কো দাবি করেছে, কালিনিনগ্রাদকে ঘিরে আকাশ ও নৌ অবরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ন্যাটো। তবে ন্যাটো এ ধরনের কোনো পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেনি।

কালিনিনগ্রাদ নিয়ে রাশিয়ার সতর্কবার্তা

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ার পাঠানো নথিতে বলা হয়েছে, কালিনিনগ্রাদ অঞ্চলকে রাশিয়ার বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার যেকোনো প্রচেষ্টা সরাসরি সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াবে। এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়া তার হাতে থাকা সব ধরনের সামরিক সক্ষমতা, যার মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্রও রয়েছে, ব্যবহারের প্রস্তুতি রাখবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাল্টিক সাগরের তীরে অবস্থিত কালিনিনগ্রাদ রাশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি। অঞ্চলটি পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যে অবস্থিত এবং সেখানে রাশিয়ার বাল্টিক ফ্লিটসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা রয়েছে।

ন্যাটোর প্রতিক্রিয়া

রাশিয়ার সতর্কবার্তার জবাবে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে বলেন, ন্যাটো একটি প্রতিরক্ষামূলক জোট এবং রাশিয়ার পারমাণবিক হুমকি দেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।

রুটে আরও বলেন, ন্যাটোর কোনো সামরিক মহড়া বা কর্মকাণ্ড রাশিয়ার ভূখণ্ডের জন্য হুমকি নয়। কালিনিনগ্রাদ নিয়ে রাশিয়ার বার্তার বিষয়টি তিনি প্রকাশ্যে নিশ্চিত না করলেও গণমাধ্যমে প্রকাশিত রুশ বক্তব্যের ভিত্তিতে ন্যাটোর প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে।

বাল্টিক অঞ্চলে বাড়ছে উত্তেজনা

কালিনিনগ্রাদ ইস্যুর পাশাপাশি বাল্টিক অঞ্চলে সাম্প্রতিক কয়েকটি সামরিক ঘটনাও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। রাশিয়ার কথিত আকাশসীমা লঙ্ঘনের কয়েকটি ঘটনার পর পোল্যান্ড তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

এ ছাড়া ডেনিশ কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে বাল্টিক সাগরের আকাশে একটি ডেনিশ সামরিক হেলিকপ্টারের কাছাকাছি একটি রুশ যুদ্ধজাহাজ থেকে দুটি ফ্লেয়ার ছোড়া হয়। সামরিক ক্ষেত্রে ফ্লেয়ার সাধারণত সতর্কতা, সংকেত বা প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপট

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় সদস্য দেশগুলো নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়িয়েছে। একই সময়ে বাল্টিক অঞ্চলেও সামরিক মহড়া ও নিরাপত্তা তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

এর মধ্যেই কালিনিনগ্রাদকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সতর্কবার্তা এবং ন্যাটোর পাল্টা প্রতিক্রিয়া ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে বর্তমানে কালিনিনগ্রাদকে ঘিরে কোনো ন্যাটো অবরোধ কার্যকর হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।