সুদানের দক্ষিণাঞ্চলে একটি অনিয়ন্ত্রিত স্বর্ণখনি ধসে অন্তত ৮২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ৫০ জন আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো বহু মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ঘটনাস্থলটি নিয়ন্ত্রণকারী আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) একটি সূত্র জানিয়েছে, ধসে পড়া খনিতে এখনো কতজন শ্রমিক আটকা পড়ে আছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সীমিত ও সাধারণ সরঞ্জাম ব্যবহার করে সেখানে উদ্ধার অভিযান চলছে।
পশ্চিম কোরদোফানের আল জারায়া এলাকায় অবস্থিত অনিয়ন্ত্রিত ওই খনিতে মঙ্গলবার থেকে একের পর এক সুড়ঙ্গ ধসে পড়তে শুরু করে। সে সময় কয়েক ডজন ক্ষুদ্র পরিসরের খনি শ্রমিক ভূগর্ভে কাজ করছিলেন। পরদিন সকাল পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে ৮২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
রাতভর সহকর্মীদের সঙ্গে উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া জীবিত শ্রমিক খাইর আল সাইয়েদ জাবারা জানান, খনির ভেতরে আরও কতজন শ্রমিক রয়েছেন, তা তারা জানেন না। জীবিত কিংবা মৃত শ্রমিকদের উদ্ধারে সবাই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে পাথর ও মাটি সরাতে ভারী যন্ত্রপাতির প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি জানান।
সংঘাতের মধ্যে বাড়ছে ঝুঁকিপূর্ণ খনিশ্রম
২০২৩ সালের এপ্রিলে সুদানের সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দেশটির স্বর্ণবাণিজ্য সংঘাতে জড়িত দুই পক্ষের অর্থের অন্যতম প্রধান উৎস হয়ে উঠেছে। দেশটির স্বর্ণবাজারের মূল্য কয়েক বিলিয়ন ডলার বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুদ্ধের কারণে সুদানের বিস্তীর্ণ এলাকায় কর্মসংস্থানের সংকট তৈরি হওয়ায় অনেক তরুণ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বর্ণ আহরণের কাজে যুক্ত হয়েছেন। তাদের বড় একটি অংশ আল জারায়ার মতো অনিয়ন্ত্রিত ও অনিরাপদ খনিতে কাজ করেন।
সুদানের বেশিরভাগ স্বর্ণই ক্ষুদ্র ও কারিগরি খনির মাধ্যমে উত্তোলন করা হয়। এসব খনির অনেকগুলো পরিত্যক্ত বা আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদনহীন এলাকায় পরিচালিত হয়। ফলে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো পর্যাপ্ত ব্যবস্থা সেখানে থাকে না।
খনিশ্রমিকেরা সাধারণত হাতে ও সীমিত সরঞ্জাম ব্যবহার করে সামান্য মজুরির বিনিময়ে কাজ করেন। মাটি থেকে স্বর্ণের কণা আলাদা করার প্রক্রিয়ায় তারা সায়ানাইডসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিকের সংস্পর্শেও আসেন। এসব রাসায়নিক ব্যবহারের কারণে আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
স্বর্ণ উত্তোলনে ব্যবহারের প্রেক্ষাপটে গত জুলাইয়ে সুদানে পারদ ও সায়ানাইডের বিক্রি, স্থানান্তর ও রপ্তানি নিষিদ্ধ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
সূত্র: গালফ নিউজ



