ঢাকায় কর্মরত সিনিয়র সাংবাদিক ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক গবেষক এ এইচ এম ফারুকের বিরুদ্ধে খাগড়াছড়িতে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। গত ৩০ আগস্ট খাগড়াছড়ি সদর থানায় মামলা দুটি করা হলেও বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে ১৩ সেপ্টেম্বর। এদিকে, মামলা গোপন রেখে তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সাংবাদিক ফারুক।
মামলাগুলোর একটিতে বাদী হয়েছেন খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সদ্য নিয়োগ পাওয়া সদস্য এম এন আবছার। মামলায় ফারুকের বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে লেখালেখির অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটির নম্বর ১৭।
অন্য মামলাটি করেছেন খাগড়াছড়ি প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলা ভিশনের জেলা প্রতিনিধি এইচ এম প্রফুল্ল ওরফে প্রফুল্ল ময় দত্ত। তথ্যপ্রযুক্তি আইনে করা মামলাটির নম্বর ১৮। এতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাদীর বিরুদ্ধে মানহানিকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
সাংবাদিক ফারুক বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) সদস্য এবং ঢাকাস্থ পার্বত্য চট্টগ্রাম সমিতির সভাপতি। পাশাপাশি তিনি খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তিনি দৈনিক ইনকিলাব, দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ, বাংলা টিভি, দৈনিক বাংলাদেশের খবর ও পরিবর্তন ডটকমে কাজ করেছেন। সর্বশেষ মানবাধিকার খবরের নির্বাহী সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে উপসম্পাদকীয় ও কলাম লিখছেন।
মামলার অভিযোগ প্রসঙ্গে ফারুক জানান, প্রায় ২৫ বছর ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত তিনি। বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রাম পরিস্থিতি, রোহিঙ্গা সংকট এবং ভারত-মিয়ানমার সীমান্ত নিয়ে গবেষণা করছেন। বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে নিয়মিত উপসম্পাদকীয় লেখার পাশাপাশি টেলিভিশনের টকশোতেও তিনি অংশ নেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয় তুলে ধরেন বলেও জানান তিনি।
খাগড়াছড়ির স্থায়ী বাসিন্দা ফারুক ২০০৯ সাল থেকে ঢাকায় পেশাগতভাবে কাজ করছেন। তার দাবি, ২০০৯ ও ২০১১ সালেও তিনি হামলা ও মামলার মুখে পড়েছিলেন।
নিজের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়ে ফারুক বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে জেলা বিএনপির তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক পদে রয়েছেন বলেও জানান তিনি।
ফারুকের দাবি, সম্প্রতি খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের বাদ দিয়ে দলের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নন—এমন কয়েকজনকে চেয়ারম্যান ও সদস্য করা হয়েছে। স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তিনি এসব বিষয়ে লেখালেখি করেছেন বলে জানান।
তার অভিযোগ, পরিষদের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে কর্মরত ম্রাসাথোয়াই মারমাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়ে চেয়ারম্যান করা হয়েছে। ফারুকের ভাষ্য, অতীতে তিনি চাকরিতে থাকাকালে ভালোভাবেই দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে জেল-জুলুমের শিকার বিএনপির নেতাদের মধ্য থেকে কাউকে ওই পদে দায়িত্ব দেওয়া উচিত ছিল বলে তিনি মনে করেন।
এ ছাড়া ইউপিডিএফের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে এবং অতীতে আওয়ামী লীগের কমিটিতে ছিলেন—এমন কয়েকজনকেও জেলা পরিষদের সদস্য করা হয়েছে বলে দাবি করেন ফারুক। এসব নিয়োগের সমালোচনা করে লেখালেখি ও প্রতিবাদ করায় দলের অভ্যন্তরীণ কয়েকটি পক্ষের বিরাগভাজন হয়েছেন বলেও তার অভিযোগ।
ফারুক আরও অভিযোগ করেন, দলের পরিচয় ব্যবহার করে নানা অনিয়মে জড়িত কিছু প্রভাবশালী নেতাও তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তার দাবি, তাকে মামলা ও হামলার মাধ্যমে হয়রানি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এন আবছার তার রাজনৈতিক সহকর্মী হওয়া সত্ত্বেও তার বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা করেছেন। একই সঙ্গে পেশাগত সহকর্মী প্রফুল্ল তার বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি ও মানহানির মামলা করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
মামলা প্রসঙ্গে ফারুক বলেন, প্রত্যেকেরই আইনের আশ্রয় নেওয়ার অধিকার রয়েছে এবং তিনি আইনগতভাবেই অভিযোগগুলোর মোকাবিলা করবেন। তবে তার অভিযোগ, এম এন আবছার গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদে থাকায় প্রভাব খাটিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তার বিরুদ্ধে ব্যবহার করছেন। এমনকি তার নিজের ও পরিবারের সদস্যদের ফোন ট্র্যাক করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।



