সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর ও দপ্তরে নিয়োগ এবং পদোন্নতি-সংক্রান্ত কার্যক্রমে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মানী ও আনুষঙ্গিক ব্যয়ের হার পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। নতুন পরিপত্রে কয়েকটি খাতে সম্মানীর হার বৃদ্ধি, নতুন ব্যয় খাত সংযোজন এবং কিছু ক্ষেত্রে বিদ্যমান হার বহাল রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) অর্থ বিভাগের জারি করা এ পরিপত্রে স্বাক্ষর করেছেন যুগ্মসচিব ড. মো. ফেরদৌস আলম। পরিপত্র জারির দিন থেকেই নতুন হার কার্যকর হয়েছে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর জারি করা অর্থ বিভাগের ৩৩০ নম্বর স্মারক বাতিল করা হয়েছে।
যেসব সম্মানী অপরিবর্তিত থাকছে
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রশ্নপত্র প্রণয়নের জন্য জনপ্রতি সম্মানী আগের মতো ৬ হাজার টাকা রাখা হয়েছে। বিভাগীয় নির্বাচন বা পদোন্নতি কমিটির সদস্যদের প্রতি সভায় এবং মৌখিক বা ব্যবহারিক পরীক্ষা বোর্ডের সদস্য ও বিশেষজ্ঞদের প্রতিদিনের সম্মানীও আগের মতো ৬ হাজার টাকা বহাল রয়েছে।
একইভাবে পূর্ণ উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য প্রতি খাতায় ১৩০ টাকা এবং অবজেকটিভ টাইপ উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য প্রতি খাতায় ৩৫ টাকা নির্ধারিত রয়েছে। তবে নতুনভাবে উত্তরপত্র নিরীক্ষণের জন্য প্রতি খাতায় ১৫ টাকা সম্মানী চালু করা হয়েছে।
খাতা পুনর্মূল্যায়নের জন্য প্রতি খাতায় ৫০ টাকা, লিখিত পরীক্ষার ভেন্যুর প্রতিষ্ঠান প্রধান বা তার মনোনীত সমন্বয়কারীর জন্য ৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং লিখিত পরীক্ষা কেন্দ্রের পরিদর্শকের জন্য প্রতিদিন ১ হাজার ৮০০ টাকা আগের হারেই বহাল রাখা হয়েছে।
যেসব ক্ষেত্রে সম্মানী বেড়েছে
পরীক্ষা পরিচালনার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মানীর হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।
- ৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব কর্মচারী: ১,২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৮০০ টাকা।
- ১০ম থেকে ১৬তম গ্রেড: ১,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,২০০ টাকা।
- ১৭তম থেকে ২০তম গ্রেড: ৮০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,০০০ টাকা।
নতুন ব্যয় খাত যুক্ত
পরিপত্রে প্রথমবারের মতো ওএমআর টপশিট মুদ্রণ ও ক্রয়ের জন্য ইউনিটপ্রতি ২০ টাকা, লিথোগ্রাফিক কোডিং ও ডিকোডিংয়ের জন্য ইউনিটপ্রতি ৫ টাকা এবং প্রচলিত কোডিং-ডিকোডিংয়ের জন্য ইউনিটপ্রতি ৪ টাকা ব্যয়ের বিধান রাখা হয়েছে।
এছাড়া ট্রাঙ্ক, তালা-চাবি, কাগজ, কলমসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়ের জন্য সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় করা যাবে, যা আগে ছিল সর্বোচ্চ ৮ হাজার টাকা।
অন্যদিকে উত্তরপত্র প্রস্তুত (কাগজসহ) বাবদ পরীক্ষার্থীপ্রতি ব্যয় ৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ টাকা করা হয়েছে। প্রশ্নপত্র প্রস্তুত, কাগজ, ডুপ্লিকেটিং মেশিন ভাড়া (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) ও কালি বাবদ পরীক্ষার্থীপ্রতি ৫ টাকা এবং আসনবিন্যাস বাবদ পরীক্ষার্থীপ্রতি ৩ টাকা ব্যয়ের বিধান বহাল রাখা হয়েছে।
আপ্যায়ন ব্যয়
লিখিত, মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষা গ্রহণ, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন এবং উত্তরপত্র মূল্যায়নের সময় আপ্যায়ন ব্যয় সরকারের সর্বশেষ নির্দেশনা এবং ‘আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ-২০২৬’ অনুযায়ী নির্বাহ করতে হবে। প্রয়োজন হলে দুপুর বা রাতের খাবারের ব্যয় সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী দেওয়া যাবে এবং নাস্তার জন্য দিনে সর্বোচ্চ দুইবার ব্যয় করা যাবে।
ব্যয় নির্বাহে যেসব শর্ত
পরিপত্রে ব্যয় নির্বাহের জন্য বেশ কয়েকটি শর্ত আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
- সব ব্যয় নিয়োগের জন্য বরাদ্দকৃত বাজেট থেকেই নির্বাহ করতে হবে; অতিরিক্ত বরাদ্দ চাওয়া যাবে না।
- একই দিনে একাধিক পদের প্রশ্নপত্র প্রণয়ন হলেও একজন সদস্য বা বিশেষজ্ঞ একটির বেশি সম্মানী পাবেন না।
- একই কার্যদিবসে পদোন্নতি বা নির্বাচন কমিটির একাধিক সভা হলেও একটি সভার সম্মানীর বেশি প্রাপ্য হবে না।
- একই দিনে লিখিত, মৌখিক বা ব্যবহারিক একাধিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুটি সম্মানী পাবেন।
- প্রযোজ্য ক্ষেত্রে উৎসে আয়করসহ সব সরকারি কর ও বিধিবদ্ধ কর্তন যথাযথভাবে পরিশোধ বা কর্তন করতে হবে।
কেন্দ্র ফি দেওয়া যাবে না
স্কুল বা কলেজকে পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হলে কোনো অবস্থাতেই ভেন্যু বা কেন্দ্র ফি কিংবা অন্য কোনো ধরনের চার্জ প্রদান করা যাবে না বলে পরিপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ওপর গুরুত্ব
প্রশ্নপত্র প্রস্তুতি, উত্তরপত্র মূল্যায়ন, উত্তরপত্র নিরীক্ষণ, ওএমআর টপশিট মুদ্রণ বা ক্রয়, কোডিং-ডিকোডিং, জ্বালানি ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় প্রকৃত প্রয়োজনের ভিত্তিতে এবং অর্থ বিভাগের নির্ধারিত সীমার মধ্যে রাখতে হবে।
সরকারি অর্থের সাশ্রয়, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রচলিত আর্থিক বিধি-বিধান, সরকারি ক্রয়বিধি ও নিরীক্ষা নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। পাশাপাশি সব ব্যয়ের ভাউচার ও রসিদ সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক। কোনো ধরনের আর্থিক অনিয়মের দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বহন করতে হবে।
পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, নতুন নির্দেশনা কার্যকরের আগে সময়ের জন্য কোনো অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা বা বকেয়া দাবি গ্রহণযোগ্য হবে না।



