গত ১৭ বছরে গুম, হত্যা, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারের কল্যাণ ও অধিকার নিশ্চিত করতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে নতুন একটি অধিদপ্তর গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন এ অধিদপ্তরের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের সুচিকিৎসা, আইনি সহায়তা, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। রোববার (২৩ আগস্ট) মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এ উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য রাষ্ট্র যেভাবে স্বীকৃতি ও অধিদপ্তর গঠন করেছে, একইভাবে দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গুম, হত্যা, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কিংবা মিথ্যা মামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের ত্যাগেরও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রয়োজন।
তিনি বলেন, যারা দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে জীবন দিয়েছেন, স্বজন হারিয়েছেন, দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন, পঙ্গুত্বের শিকার হয়েছেন কিংবা বছরের পর বছর মামলায় জড়িয়ে আর্থিকভাবে নিঃস্ব হয়েছেন, তাদের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ভবিষ্যতে যেন কোনো শক্তি জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিতে না পারে এবং কোনো পরিবারকে স্বজন হারানোর মতো ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়, সে জন্য স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
মুক্তিযুদ্ধ প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল মানুষের স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকা, মানবাধিকার নিশ্চিত করা, রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন বন্ধ করা এবং জনগণের ভোটাধিকারের ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালের পর ভোটাধিকার হরণ, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনাগুলো মুক্তিযুদ্ধের সেই আদর্শকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য যারা জীবন দিয়েছেন, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, গুম হয়েছেন কিংবা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের জন্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
তিনটি বিষয়ে গুরুত্ব
সভায় ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’-এর প্রথম তফসিল বা Allocation of Business সংশোধন করে নতুন দায়িত্ব মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় আনার বিষয়েও আলোচনা হয়।
জাতিসংঘের ‘বেসিক প্রিন্সিপলস অ্যান্ড গাইডলাইনস অন দ্য রাইট টু আ রেমিডি অ্যান্ড রেপারেশন’ এবং বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে ক্ষতিগ্রস্তদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য তিনটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এগুলো হলো—
- মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে নতুন একটি অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা;
- গুম, হত্যা, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তি ও পরিবারের অধিকার এবং ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন;
- ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’-এর প্রথম তফসিল সংশোধন করে এ-সংক্রান্ত দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যপরিধিতে যুক্ত করা।
সভায় সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে নতুন অধিদপ্তরের কাঠামো, আইনগত ভিত্তি এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য রাষ্ট্রীয় সহায়তার পরিধি নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়।



