সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে দীর্ঘদিনের পদোন্নতি জটিলতার অবসান হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ের ফলে সারা দেশে ৩৬ হাজার ২৩৫টি শূন্য প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি এবং পরবর্তী সময়ে ৩৮ হাজার ৪৪৩টি সহকারী শিক্ষক পদে নতুন নিয়োগের পথ উন্মুক্ত হয়েছে।
এ তথ্য জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আপিল বিভাগের রায়ের মাধ্যমে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি নিয়ে দীর্ঘ ৯ বছরের আইনি জটিলতার অবসান হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, সরকারের আপিল মঞ্জুর হওয়ায় এখন দ্রুত ৩৬ হাজার ২৩৫টি শূন্য পদে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি দেওয়া হবে। একই সঙ্গে এসব পদে শূন্য হয়ে যাওয়া সহকারী শিক্ষক পদসহ মোট ৩৮ হাজার ৪৪৩টি পদে নতুন নিয়োগ কার্যক্রমও দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং সুপ্রিম কোর্টের অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী জানান, সিভিল আপিল নং-৭৩/২০২৩ মামলায় আপিল বিভাগ সরকারের পক্ষে রায় দিয়েছেন। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে থাকা পদোন্নতি কার্যক্রম আবারও শুরু করার সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতির পূর্ণ প্রশাসনিক ক্ষমতা মন্ত্রণালয় ফিরে পেয়েছে।
তিনি বলেন, ২০১৭ সালে ৩৮৩ জন শিক্ষক ২০১৩ সালের নিয়োগবিধির জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণসংক্রান্ত বিধি ৯(১)-এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন। হাইকোর্ট ওই বিধানকে বেআইনি ঘোষণা করলে সরকার আপিল করে। পরে আপিল বিভাগের দেওয়া ‘স্ট্যাটাস কো’ আদেশের কারণে সারা দেশে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি কার্যক্রম প্রায় ৯ বছর ধরে স্থগিত ছিল।
মন্ত্রী আরও জানান, দীর্ঘদিন পদোন্নতি বন্ধ থাকায় দেশের প্রায় ৬৫ হাজার ৫০০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অর্ধেকের বেশি প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য হয়ে পড়ে। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি প্রায় ৬০ লাখ শিক্ষার্থীর পাঠদানও নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হয়।
তিনি বলেন, আদালতের রায় পাওয়ার পরপরই বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলের মধ্যেই পিএসসিতে আনুষ্ঠানিক চাহিদাপত্র পাঠানো হবে এবং বিশেষ ব্যবস্থায় পদোন্নতি ও নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।
বর্তমান বিধি অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদের ২০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগ এবং অবশিষ্ট ৮০ শতাংশ সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে জ্যেষ্ঠতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। মামলার কারণে দীর্ঘদিন এই ৮০ শতাংশ কোটা কার্যকর না থাকায় ৩৬ হাজারের বেশি পদ শূন্য হয়ে পড়ে। নতুন রায়ের ফলে সেই শূন্যপদগুলো দ্রুত পূরণ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে সরকার।
এদিকে চলমান ১৪ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নিয়োগপ্রাপ্তদের দ্রুত প্রশিক্ষণে পাঠানো হবে। তিনি বলেন, “তাদের তাৎক্ষণিকভাবে দুই মাসের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।”
মন্ত্রী জানান, প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের (পিটিআই) সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে প্রচলিত ৯ মাসের প্রশিক্ষণের পরিবর্তে আপাতত দুই মাসের বিশেষ ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ শেষ করেই নতুন শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে যোগদান করবেন, যাতে শিক্ষকদের সেশনজট তৈরি না হয়।
সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, “গত চার মাস ধরে আমরা এই আইনি জটিলতা নিরসনে নিরলসভাবে কাজ করেছি। সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলে আজ প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা একটি নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করল।”



