tanaka

নিহত সুলতানের ছয়টি সন্তান রয়েছে। তার বাবা ছেলের এই আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে বলেন, দেশ ও মানুষের সেবা করতে গিয়েই তার ছেলে শহীদ হয়েছে

  সৌদি আরবের দাম্মামে কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্যদের জীবন বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন সুলতান আল-কাহতানি নামের এক বিমানবন্দরকর্মী। ঝুঁকি উপেক্ষা করে আগুন...
প্রচ্ছদলাইফস্টাইলসকালের কফিতে যে উপাদান বাড়াচ্ছে ক্যালোরি, জানুন কী বলছে গবেষণা

সকালের কফিতে যে উপাদান বাড়াচ্ছে ক্যালোরি, জানুন কী বলছে গবেষণা

সকালের রুটিনে এক কাপ কফি ঘুমঘুম ভাব কাটিয়ে সতেজ হতে সাহায্য করে। পরিমিত কফি পান স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশও হতে পারে। তবে কফির সঙ্গে কী মেশানো হচ্ছে, সেদিকেও নজর রাখা জরুরি। কারণ, কফিতে ব্যবহৃত কিছু উপাদান অজান্তেই বাড়িয়ে দিতে পারে দৈনিক ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ।

সাধারণত কফিতে অতিরিক্ত চিনি ও দুধ যোগ করাকে বাড়তি ক্যালোরির উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, কফিতে ব্যবহৃত নন-ডেইরি ক্রিমারও ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে।

আমেরিকান একাডেমি অব নিউট্রিশন অ্যান্ড ডায়েটেটিকসের জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাটিতে প্রায় ৩০ হাজার মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কের খাদ্যাভ্যাস বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, ২০০৩ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে কফি থেকে মানুষের দৈনিক ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। অথচ এ সময়ে গড়ে কফি পানের পরিমাণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি।

গবেষকদের মতে, কফিতে নন-ডেইরি ক্রিমার ব্যবহারের প্রবণতা বৃদ্ধি এই পরিবর্তনের অন্যতম কারণ।

গবেষণায় কী উঠে এসেছে?

টাফটস ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা ২০০৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হেলথ অ্যান্ড নিউট্রিশন এক্সামিনেশন সার্ভের আটটি পর্যায়ের তথ্য বিশ্লেষণ করেন। এতে ২০ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের খাদ্যাভ্যাস পর্যালোচনা করা হয়।

গবেষণায় দেখা যায়, ওই সময়ে একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩৮০ মিলিলিটার কফি পান করতেন। তবে কফি থেকে দৈনিক গড় ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ ৪৩ থেকে বেড়ে ৬০ ক্যালোরিতে দাঁড়ায়। অর্থাৎ, এ ক্ষেত্রে বৃদ্ধি ছিল প্রায় ৪০ শতাংশ।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের মধ্যে কফিতে ক্যালোরি যোগ করার ক্ষেত্রে নন-ডেইরি ক্রিমার চিনি ও গরুর দুধকে ছাড়িয়ে যায়। নন-ডেইরি ক্রিমার থেকে প্রতিদিন গড়ে ১৮ দশমিক ৫ ক্যালোরি, চিনি থেকে ১৬ ক্যালোরি এবং গরুর দুধ থেকে ১১ ক্যালোরি যুক্ত হচ্ছিল।

গবেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কফি পানের পরিমাণ বাড়ার চেয়ে কফিতে ব্যবহৃত উপাদানের ধরন পরিবর্তনই ক্যালোরি বৃদ্ধির অন্যতম ব্যাখ্যা।

গবেষণার প্রধান লেখক ও টাফটস ইউনিভার্সিটির ফ্রিডম্যান স্কুলের পিএইচডি গবেষক ইয়ংয়ি পান বলেন, কফিতে নন-ডেইরি ক্রিমারের ব্যবহার চিনি ও দুধের ব্যবহারকে ছাড়িয়ে গেছে। তাঁর মতে, কিছু নন-ডেইরি ক্রিমারে স্যাচুরেটেড ফ্যাট বা সম্পৃক্ত চর্বির পরিমাণ বেশি থাকতে পারে, যা ক্যালোরি গ্রহণ বাড়াতে ভূমিকা রাখে।

১৯৫০-এর দশক থেকেই বাজারে নন-ডেইরি ক্রিমার পাওয়া গেলেও উদ্ভিদভিত্তিক ও দুগ্ধমুক্ত বিকল্পের চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর জনপ্রিয়তা বেড়েছে।

নন-ডেইরি ক্রিমারে ক্যালোরি বেশি হতে পারে কেন?

নন-ডেইরি ক্রিমার হলো এমন একধরনের পণ্য, যা গরুর দুধ ছাড়াই কফিকে ঘন, ক্রিমি ও কখনো মিষ্টি স্বাদ দিতে ব্যবহার করা হয়। তবে দুগ্ধমুক্ত হলেই কোনো পণ্য কম ক্যালোরিযুক্ত বা বেশি স্বাস্থ্যকর হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

পণ্যের ধরন অনুযায়ী এতে উদ্ভিজ্জ তেল, চিনি, স্টেবিলাইজার ও অন্যান্য উপাদান থাকতে পারে। কিছু ক্রিমারে স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও যোগ করা চিনির পরিমাণও বেশি হতে পারে। ফলে নিয়মিত বেশি পরিমাণে ব্যবহার করলে দৈনিক ক্যালোরি গ্রহণ বেড়ে যেতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০৩ সালে প্রতিদিন কফিতে নন-ডেইরি ক্রিমার ব্যবহারের গড় পরিমাণ ছিল ৩ দশমিক ৪ গ্রাম। ২০১৮ সালে তা বেড়ে ৮ গ্রামে দাঁড়ায়। গবেষকদের মতে, ব্যবহারের পরিমাণ বৃদ্ধিও কফি থেকে ক্যালোরি গ্রহণ বাড়ার একটি কারণ হতে পারে।

নন-ডেইরি ক্রিমার কি দুধ বা চিনির চেয়ে বেশি ক্ষতিকর?

গবেষণাটিতে মূলত কফির সঙ্গে বিভিন্ন উপাদান যোগ করার ফলে ক্যালোরি গ্রহণের গড় পরিমাণ কীভাবে বদলেছে, তা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এর অর্থ এই নয় যে সব ধরনের নন-ডেইরি ক্রিমার অস্বাস্থ্যকর, কিংবা দুধ ও চিনি সব পরিস্থিতিতে ভালো বিকল্প।

সাধারণ দুধে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান থাকে। অন্যদিকে, চিনি মূলত বাড়তি ক্যালোরি সরবরাহ করে, উল্লেখযোগ্য পুষ্টি যোগ করে না। নন-ডেইরি ক্রিমারের পুষ্টিমানও পণ্যভেদে আলাদা হতে পারে।

তাই কোন উপাদানটি বেশি উপযোগী, তা নির্ভর করে পণ্যের উপাদান, পুষ্টিগুণ এবং ব্যবহারের পরিমাণের ওপর। কোনো ক্রিমারের প্যাকেটে ক্যালোরি কম লেখা থাকলেও বেশি পরিমাণে ব্যবহার করলে মোট ক্যালোরি গ্রহণ বেড়ে যেতে পারে।

সকালের কফিকে স্বাস্থ্যকর রাখবেন যেভাবে

কফি পান পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং কিছু অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে কফি থেকে অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

১. পণ্যের লেবেল পড়ুন: নন-ডেইরি ক্রিমার কেনার আগে ক্যালোরি, যোগ করা চিনি ও স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ দেখে নিন। পরিবেশনের নির্ধারিত পরিমাণও খেয়াল করুন।

২. পরিমিত পরিমাণে ব্যবহার করুন: সরাসরি পাত্র থেকে ক্রিমার ঢাললে কতটুকু ব্যবহার হচ্ছে, তা বোঝা কঠিন। তাই চামচ বা পরিমাপক ব্যবহার করে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করুন।

৩. ধীরে ধীরে ব্যবহার কমান: ক্রিমি কফি পছন্দ করলে হঠাৎ অভ্যাস বদলানোর পরিবর্তে ধীরে ধীরে ক্রিমারের পরিমাণ কমিয়ে আনতে পারেন।

৪. চিনি ছাড়া বিকল্প বেছে নিন: পছন্দ ও খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে মানানসই হলে চিনি ছাড়া উদ্ভিদভিত্তিক পানীয় বা সাধারণ দুধ ব্যবহার করতে পারেন। তবে বিকল্প পণ্যের পুষ্টিগুণও যাচাই করা জরুরি।

৫. ফ্লেভারযুক্ত উপাদান সীমিত করুন: মিষ্টি ক্রিমার ও ফ্লেভারযুক্ত সিরাপে অতিরিক্ত চিনি থাকতে পারে। তাই এসব উপাদান ব্যবহারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

সব মিলিয়ে, কফি কতটা স্বাস্থ্যকর হবে, তা শুধু কফির ওপর নির্ভর করে না; এর সঙ্গে কী মেশানো হচ্ছে এবং কতটুকু ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

সকালের রুটিনে এক কাপ কফি ঘুমঘুম ভাব কাটিয়ে সতেজ হতে সাহায্য করে। পরিমিত কফি পান স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশও হতে পারে। তবে কফির সঙ্গে কী মেশানো হচ্ছে, সেদিকেও নজর রাখা জরুরি। কারণ, কফিতে ব্যবহৃত কিছু উপাদান অজান্তেই বাড়িয়ে দিতে পারে দৈনিক ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ।

সাধারণত কফিতে অতিরিক্ত চিনি ও দুধ যোগ করাকে বাড়তি ক্যালোরির উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, কফিতে ব্যবহৃত নন-ডেইরি ক্রিমারও ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে।

আমেরিকান একাডেমি অব নিউট্রিশন অ্যান্ড ডায়েটেটিকসের জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাটিতে প্রায় ৩০ হাজার মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কের খাদ্যাভ্যাস বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, ২০০৩ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে কফি থেকে মানুষের দৈনিক ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। অথচ এ সময়ে গড়ে কফি পানের পরিমাণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি।

গবেষকদের মতে, কফিতে নন-ডেইরি ক্রিমার ব্যবহারের প্রবণতা বৃদ্ধি এই পরিবর্তনের অন্যতম কারণ।

গবেষণায় কী উঠে এসেছে?

টাফটস ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা ২০০৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হেলথ অ্যান্ড নিউট্রিশন এক্সামিনেশন সার্ভের আটটি পর্যায়ের তথ্য বিশ্লেষণ করেন। এতে ২০ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের খাদ্যাভ্যাস পর্যালোচনা করা হয়।

গবেষণায় দেখা যায়, ওই সময়ে একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩৮০ মিলিলিটার কফি পান করতেন। তবে কফি থেকে দৈনিক গড় ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ ৪৩ থেকে বেড়ে ৬০ ক্যালোরিতে দাঁড়ায়। অর্থাৎ, এ ক্ষেত্রে বৃদ্ধি ছিল প্রায় ৪০ শতাংশ।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের মধ্যে কফিতে ক্যালোরি যোগ করার ক্ষেত্রে নন-ডেইরি ক্রিমার চিনি ও গরুর দুধকে ছাড়িয়ে যায়। নন-ডেইরি ক্রিমার থেকে প্রতিদিন গড়ে ১৮ দশমিক ৫ ক্যালোরি, চিনি থেকে ১৬ ক্যালোরি এবং গরুর দুধ থেকে ১১ ক্যালোরি যুক্ত হচ্ছিল।

গবেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কফি পানের পরিমাণ বাড়ার চেয়ে কফিতে ব্যবহৃত উপাদানের ধরন পরিবর্তনই ক্যালোরি বৃদ্ধির অন্যতম ব্যাখ্যা।

গবেষণার প্রধান লেখক ও টাফটস ইউনিভার্সিটির ফ্রিডম্যান স্কুলের পিএইচডি গবেষক ইয়ংয়ি পান বলেন, কফিতে নন-ডেইরি ক্রিমারের ব্যবহার চিনি ও দুধের ব্যবহারকে ছাড়িয়ে গেছে। তাঁর মতে, কিছু নন-ডেইরি ক্রিমারে স্যাচুরেটেড ফ্যাট বা সম্পৃক্ত চর্বির পরিমাণ বেশি থাকতে পারে, যা ক্যালোরি গ্রহণ বাড়াতে ভূমিকা রাখে।

১৯৫০-এর দশক থেকেই বাজারে নন-ডেইরি ক্রিমার পাওয়া গেলেও উদ্ভিদভিত্তিক ও দুগ্ধমুক্ত বিকল্পের চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর জনপ্রিয়তা বেড়েছে।

নন-ডেইরি ক্রিমারে ক্যালোরি বেশি হতে পারে কেন?

নন-ডেইরি ক্রিমার হলো এমন একধরনের পণ্য, যা গরুর দুধ ছাড়াই কফিকে ঘন, ক্রিমি ও কখনো মিষ্টি স্বাদ দিতে ব্যবহার করা হয়। তবে দুগ্ধমুক্ত হলেই কোনো পণ্য কম ক্যালোরিযুক্ত বা বেশি স্বাস্থ্যকর হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

পণ্যের ধরন অনুযায়ী এতে উদ্ভিজ্জ তেল, চিনি, স্টেবিলাইজার ও অন্যান্য উপাদান থাকতে পারে। কিছু ক্রিমারে স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও যোগ করা চিনির পরিমাণও বেশি হতে পারে। ফলে নিয়মিত বেশি পরিমাণে ব্যবহার করলে দৈনিক ক্যালোরি গ্রহণ বেড়ে যেতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০৩ সালে প্রতিদিন কফিতে নন-ডেইরি ক্রিমার ব্যবহারের গড় পরিমাণ ছিল ৩ দশমিক ৪ গ্রাম। ২০১৮ সালে তা বেড়ে ৮ গ্রামে দাঁড়ায়। গবেষকদের মতে, ব্যবহারের পরিমাণ বৃদ্ধিও কফি থেকে ক্যালোরি গ্রহণ বাড়ার একটি কারণ হতে পারে।

নন-ডেইরি ক্রিমার কি দুধ বা চিনির চেয়ে বেশি ক্ষতিকর?

গবেষণাটিতে মূলত কফির সঙ্গে বিভিন্ন উপাদান যোগ করার ফলে ক্যালোরি গ্রহণের গড় পরিমাণ কীভাবে বদলেছে, তা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এর অর্থ এই নয় যে সব ধরনের নন-ডেইরি ক্রিমার অস্বাস্থ্যকর, কিংবা দুধ ও চিনি সব পরিস্থিতিতে ভালো বিকল্প।

সাধারণ দুধে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান থাকে। অন্যদিকে, চিনি মূলত বাড়তি ক্যালোরি সরবরাহ করে, উল্লেখযোগ্য পুষ্টি যোগ করে না। নন-ডেইরি ক্রিমারের পুষ্টিমানও পণ্যভেদে আলাদা হতে পারে।

তাই কোন উপাদানটি বেশি উপযোগী, তা নির্ভর করে পণ্যের উপাদান, পুষ্টিগুণ এবং ব্যবহারের পরিমাণের ওপর। কোনো ক্রিমারের প্যাকেটে ক্যালোরি কম লেখা থাকলেও বেশি পরিমাণে ব্যবহার করলে মোট ক্যালোরি গ্রহণ বেড়ে যেতে পারে।

সকালের কফিকে স্বাস্থ্যকর রাখবেন যেভাবে

কফি পান পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং কিছু অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে কফি থেকে অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

১. পণ্যের লেবেল পড়ুন: নন-ডেইরি ক্রিমার কেনার আগে ক্যালোরি, যোগ করা চিনি ও স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ দেখে নিন। পরিবেশনের নির্ধারিত পরিমাণও খেয়াল করুন।

২. পরিমিত পরিমাণে ব্যবহার করুন: সরাসরি পাত্র থেকে ক্রিমার ঢাললে কতটুকু ব্যবহার হচ্ছে, তা বোঝা কঠিন। তাই চামচ বা পরিমাপক ব্যবহার করে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করুন।

৩. ধীরে ধীরে ব্যবহার কমান: ক্রিমি কফি পছন্দ করলে হঠাৎ অভ্যাস বদলানোর পরিবর্তে ধীরে ধীরে ক্রিমারের পরিমাণ কমিয়ে আনতে পারেন।

৪. চিনি ছাড়া বিকল্প বেছে নিন: পছন্দ ও খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে মানানসই হলে চিনি ছাড়া উদ্ভিদভিত্তিক পানীয় বা সাধারণ দুধ ব্যবহার করতে পারেন। তবে বিকল্প পণ্যের পুষ্টিগুণও যাচাই করা জরুরি।

৫. ফ্লেভারযুক্ত উপাদান সীমিত করুন: মিষ্টি ক্রিমার ও ফ্লেভারযুক্ত সিরাপে অতিরিক্ত চিনি থাকতে পারে। তাই এসব উপাদান ব্যবহারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

সব মিলিয়ে, কফি কতটা স্বাস্থ্যকর হবে, তা শুধু কফির ওপর নির্ভর করে না; এর সঙ্গে কী মেশানো হচ্ছে এবং কতটুকু ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

সকালের রুটিনে এক কাপ কফি ঘুমঘুম ভাব কাটিয়ে সতেজ হতে সাহায্য করে। পরিমিত কফি পান স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশও হতে পারে। তবে কফির সঙ্গে কী মেশানো হচ্ছে, সেদিকেও নজর রাখা জরুরি। কারণ, কফিতে ব্যবহৃত কিছু উপাদান অজান্তেই বাড়িয়ে দিতে পারে দৈনিক ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ।

সাধারণত কফিতে অতিরিক্ত চিনি ও দুধ যোগ করাকে বাড়তি ক্যালোরির উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, কফিতে ব্যবহৃত নন-ডেইরি ক্রিমারও ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে।

আমেরিকান একাডেমি অব নিউট্রিশন অ্যান্ড ডায়েটেটিকসের জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাটিতে প্রায় ৩০ হাজার মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কের খাদ্যাভ্যাস বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, ২০০৩ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে কফি থেকে মানুষের দৈনিক ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। অথচ এ সময়ে গড়ে কফি পানের পরিমাণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি।

গবেষকদের মতে, কফিতে নন-ডেইরি ক্রিমার ব্যবহারের প্রবণতা বৃদ্ধি এই পরিবর্তনের অন্যতম কারণ।

গবেষণায় কী উঠে এসেছে?

টাফটস ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা ২০০৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হেলথ অ্যান্ড নিউট্রিশন এক্সামিনেশন সার্ভের আটটি পর্যায়ের তথ্য বিশ্লেষণ করেন। এতে ২০ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের খাদ্যাভ্যাস পর্যালোচনা করা হয়।

গবেষণায় দেখা যায়, ওই সময়ে একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩৮০ মিলিলিটার কফি পান করতেন। তবে কফি থেকে দৈনিক গড় ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ ৪৩ থেকে বেড়ে ৬০ ক্যালোরিতে দাঁড়ায়। অর্থাৎ, এ ক্ষেত্রে বৃদ্ধি ছিল প্রায় ৪০ শতাংশ।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের মধ্যে কফিতে ক্যালোরি যোগ করার ক্ষেত্রে নন-ডেইরি ক্রিমার চিনি ও গরুর দুধকে ছাড়িয়ে যায়। নন-ডেইরি ক্রিমার থেকে প্রতিদিন গড়ে ১৮ দশমিক ৫ ক্যালোরি, চিনি থেকে ১৬ ক্যালোরি এবং গরুর দুধ থেকে ১১ ক্যালোরি যুক্ত হচ্ছিল।

গবেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কফি পানের পরিমাণ বাড়ার চেয়ে কফিতে ব্যবহৃত উপাদানের ধরন পরিবর্তনই ক্যালোরি বৃদ্ধির অন্যতম ব্যাখ্যা।

গবেষণার প্রধান লেখক ও টাফটস ইউনিভার্সিটির ফ্রিডম্যান স্কুলের পিএইচডি গবেষক ইয়ংয়ি পান বলেন, কফিতে নন-ডেইরি ক্রিমারের ব্যবহার চিনি ও দুধের ব্যবহারকে ছাড়িয়ে গেছে। তাঁর মতে, কিছু নন-ডেইরি ক্রিমারে স্যাচুরেটেড ফ্যাট বা সম্পৃক্ত চর্বির পরিমাণ বেশি থাকতে পারে, যা ক্যালোরি গ্রহণ বাড়াতে ভূমিকা রাখে।

১৯৫০-এর দশক থেকেই বাজারে নন-ডেইরি ক্রিমার পাওয়া গেলেও উদ্ভিদভিত্তিক ও দুগ্ধমুক্ত বিকল্পের চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর জনপ্রিয়তা বেড়েছে।

নন-ডেইরি ক্রিমারে ক্যালোরি বেশি হতে পারে কেন?

নন-ডেইরি ক্রিমার হলো এমন একধরনের পণ্য, যা গরুর দুধ ছাড়াই কফিকে ঘন, ক্রিমি ও কখনো মিষ্টি স্বাদ দিতে ব্যবহার করা হয়। তবে দুগ্ধমুক্ত হলেই কোনো পণ্য কম ক্যালোরিযুক্ত বা বেশি স্বাস্থ্যকর হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

পণ্যের ধরন অনুযায়ী এতে উদ্ভিজ্জ তেল, চিনি, স্টেবিলাইজার ও অন্যান্য উপাদান থাকতে পারে। কিছু ক্রিমারে স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও যোগ করা চিনির পরিমাণও বেশি হতে পারে। ফলে নিয়মিত বেশি পরিমাণে ব্যবহার করলে দৈনিক ক্যালোরি গ্রহণ বেড়ে যেতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০৩ সালে প্রতিদিন কফিতে নন-ডেইরি ক্রিমার ব্যবহারের গড় পরিমাণ ছিল ৩ দশমিক ৪ গ্রাম। ২০১৮ সালে তা বেড়ে ৮ গ্রামে দাঁড়ায়। গবেষকদের মতে, ব্যবহারের পরিমাণ বৃদ্ধিও কফি থেকে ক্যালোরি গ্রহণ বাড়ার একটি কারণ হতে পারে।

নন-ডেইরি ক্রিমার কি দুধ বা চিনির চেয়ে বেশি ক্ষতিকর?

গবেষণাটিতে মূলত কফির সঙ্গে বিভিন্ন উপাদান যোগ করার ফলে ক্যালোরি গ্রহণের গড় পরিমাণ কীভাবে বদলেছে, তা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এর অর্থ এই নয় যে সব ধরনের নন-ডেইরি ক্রিমার অস্বাস্থ্যকর, কিংবা দুধ ও চিনি সব পরিস্থিতিতে ভালো বিকল্প।

সাধারণ দুধে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান থাকে। অন্যদিকে, চিনি মূলত বাড়তি ক্যালোরি সরবরাহ করে, উল্লেখযোগ্য পুষ্টি যোগ করে না। নন-ডেইরি ক্রিমারের পুষ্টিমানও পণ্যভেদে আলাদা হতে পারে।

তাই কোন উপাদানটি বেশি উপযোগী, তা নির্ভর করে পণ্যের উপাদান, পুষ্টিগুণ এবং ব্যবহারের পরিমাণের ওপর। কোনো ক্রিমারের প্যাকেটে ক্যালোরি কম লেখা থাকলেও বেশি পরিমাণে ব্যবহার করলে মোট ক্যালোরি গ্রহণ বেড়ে যেতে পারে।

সকালের কফিকে স্বাস্থ্যকর রাখবেন যেভাবে

কফি পান পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং কিছু অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে কফি থেকে অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

১. পণ্যের লেবেল পড়ুন: নন-ডেইরি ক্রিমার কেনার আগে ক্যালোরি, যোগ করা চিনি ও স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ দেখে নিন। পরিবেশনের নির্ধারিত পরিমাণও খেয়াল করুন।

২. পরিমিত পরিমাণে ব্যবহার করুন: সরাসরি পাত্র থেকে ক্রিমার ঢাললে কতটুকু ব্যবহার হচ্ছে, তা বোঝা কঠিন। তাই চামচ বা পরিমাপক ব্যবহার করে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করুন।

৩. ধীরে ধীরে ব্যবহার কমান: ক্রিমি কফি পছন্দ করলে হঠাৎ অভ্যাস বদলানোর পরিবর্তে ধীরে ধীরে ক্রিমারের পরিমাণ কমিয়ে আনতে পারেন।

৪. চিনি ছাড়া বিকল্প বেছে নিন: পছন্দ ও খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে মানানসই হলে চিনি ছাড়া উদ্ভিদভিত্তিক পানীয় বা সাধারণ দুধ ব্যবহার করতে পারেন। তবে বিকল্প পণ্যের পুষ্টিগুণও যাচাই করা জরুরি।

৫. ফ্লেভারযুক্ত উপাদান সীমিত করুন: মিষ্টি ক্রিমার ও ফ্লেভারযুক্ত সিরাপে অতিরিক্ত চিনি থাকতে পারে। তাই এসব উপাদান ব্যবহারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

সব মিলিয়ে, কফি কতটা স্বাস্থ্যকর হবে, তা শুধু কফির ওপর নির্ভর করে না; এর সঙ্গে কী মেশানো হচ্ছে এবং কতটুকু ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

সকালের রুটিনে এক কাপ কফি ঘুমঘুম ভাব কাটিয়ে সতেজ হতে সাহায্য করে। পরিমিত কফি পান স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশও হতে পারে। তবে কফির সঙ্গে কী মেশানো হচ্ছে, সেদিকেও নজর রাখা জরুরি। কারণ, কফিতে ব্যবহৃত কিছু উপাদান অজান্তেই বাড়িয়ে দিতে পারে দৈনিক ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ।

সাধারণত কফিতে অতিরিক্ত চিনি ও দুধ যোগ করাকে বাড়তি ক্যালোরির উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, কফিতে ব্যবহৃত নন-ডেইরি ক্রিমারও ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে।

আমেরিকান একাডেমি অব নিউট্রিশন অ্যান্ড ডায়েটেটিকসের জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাটিতে প্রায় ৩০ হাজার মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কের খাদ্যাভ্যাস বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, ২০০৩ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে কফি থেকে মানুষের দৈনিক ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। অথচ এ সময়ে গড়ে কফি পানের পরিমাণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি।

গবেষকদের মতে, কফিতে নন-ডেইরি ক্রিমার ব্যবহারের প্রবণতা বৃদ্ধি এই পরিবর্তনের অন্যতম কারণ।

গবেষণায় কী উঠে এসেছে?

টাফটস ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা ২০০৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হেলথ অ্যান্ড নিউট্রিশন এক্সামিনেশন সার্ভের আটটি পর্যায়ের তথ্য বিশ্লেষণ করেন। এতে ২০ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের খাদ্যাভ্যাস পর্যালোচনা করা হয়।

গবেষণায় দেখা যায়, ওই সময়ে একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩৮০ মিলিলিটার কফি পান করতেন। তবে কফি থেকে দৈনিক গড় ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ ৪৩ থেকে বেড়ে ৬০ ক্যালোরিতে দাঁড়ায়। অর্থাৎ, এ ক্ষেত্রে বৃদ্ধি ছিল প্রায় ৪০ শতাংশ।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের মধ্যে কফিতে ক্যালোরি যোগ করার ক্ষেত্রে নন-ডেইরি ক্রিমার চিনি ও গরুর দুধকে ছাড়িয়ে যায়। নন-ডেইরি ক্রিমার থেকে প্রতিদিন গড়ে ১৮ দশমিক ৫ ক্যালোরি, চিনি থেকে ১৬ ক্যালোরি এবং গরুর দুধ থেকে ১১ ক্যালোরি যুক্ত হচ্ছিল।

গবেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কফি পানের পরিমাণ বাড়ার চেয়ে কফিতে ব্যবহৃত উপাদানের ধরন পরিবর্তনই ক্যালোরি বৃদ্ধির অন্যতম ব্যাখ্যা।

গবেষণার প্রধান লেখক ও টাফটস ইউনিভার্সিটির ফ্রিডম্যান স্কুলের পিএইচডি গবেষক ইয়ংয়ি পান বলেন, কফিতে নন-ডেইরি ক্রিমারের ব্যবহার চিনি ও দুধের ব্যবহারকে ছাড়িয়ে গেছে। তাঁর মতে, কিছু নন-ডেইরি ক্রিমারে স্যাচুরেটেড ফ্যাট বা সম্পৃক্ত চর্বির পরিমাণ বেশি থাকতে পারে, যা ক্যালোরি গ্রহণ বাড়াতে ভূমিকা রাখে।

১৯৫০-এর দশক থেকেই বাজারে নন-ডেইরি ক্রিমার পাওয়া গেলেও উদ্ভিদভিত্তিক ও দুগ্ধমুক্ত বিকল্পের চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর জনপ্রিয়তা বেড়েছে।

নন-ডেইরি ক্রিমারে ক্যালোরি বেশি হতে পারে কেন?

নন-ডেইরি ক্রিমার হলো এমন একধরনের পণ্য, যা গরুর দুধ ছাড়াই কফিকে ঘন, ক্রিমি ও কখনো মিষ্টি স্বাদ দিতে ব্যবহার করা হয়। তবে দুগ্ধমুক্ত হলেই কোনো পণ্য কম ক্যালোরিযুক্ত বা বেশি স্বাস্থ্যকর হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

পণ্যের ধরন অনুযায়ী এতে উদ্ভিজ্জ তেল, চিনি, স্টেবিলাইজার ও অন্যান্য উপাদান থাকতে পারে। কিছু ক্রিমারে স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও যোগ করা চিনির পরিমাণও বেশি হতে পারে। ফলে নিয়মিত বেশি পরিমাণে ব্যবহার করলে দৈনিক ক্যালোরি গ্রহণ বেড়ে যেতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০৩ সালে প্রতিদিন কফিতে নন-ডেইরি ক্রিমার ব্যবহারের গড় পরিমাণ ছিল ৩ দশমিক ৪ গ্রাম। ২০১৮ সালে তা বেড়ে ৮ গ্রামে দাঁড়ায়। গবেষকদের মতে, ব্যবহারের পরিমাণ বৃদ্ধিও কফি থেকে ক্যালোরি গ্রহণ বাড়ার একটি কারণ হতে পারে।

নন-ডেইরি ক্রিমার কি দুধ বা চিনির চেয়ে বেশি ক্ষতিকর?

গবেষণাটিতে মূলত কফির সঙ্গে বিভিন্ন উপাদান যোগ করার ফলে ক্যালোরি গ্রহণের গড় পরিমাণ কীভাবে বদলেছে, তা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এর অর্থ এই নয় যে সব ধরনের নন-ডেইরি ক্রিমার অস্বাস্থ্যকর, কিংবা দুধ ও চিনি সব পরিস্থিতিতে ভালো বিকল্প।

সাধারণ দুধে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান থাকে। অন্যদিকে, চিনি মূলত বাড়তি ক্যালোরি সরবরাহ করে, উল্লেখযোগ্য পুষ্টি যোগ করে না। নন-ডেইরি ক্রিমারের পুষ্টিমানও পণ্যভেদে আলাদা হতে পারে।

তাই কোন উপাদানটি বেশি উপযোগী, তা নির্ভর করে পণ্যের উপাদান, পুষ্টিগুণ এবং ব্যবহারের পরিমাণের ওপর। কোনো ক্রিমারের প্যাকেটে ক্যালোরি কম লেখা থাকলেও বেশি পরিমাণে ব্যবহার করলে মোট ক্যালোরি গ্রহণ বেড়ে যেতে পারে।

সকালের কফিকে স্বাস্থ্যকর রাখবেন যেভাবে

কফি পান পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং কিছু অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে কফি থেকে অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

১. পণ্যের লেবেল পড়ুন: নন-ডেইরি ক্রিমার কেনার আগে ক্যালোরি, যোগ করা চিনি ও স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ দেখে নিন। পরিবেশনের নির্ধারিত পরিমাণও খেয়াল করুন।

২. পরিমিত পরিমাণে ব্যবহার করুন: সরাসরি পাত্র থেকে ক্রিমার ঢাললে কতটুকু ব্যবহার হচ্ছে, তা বোঝা কঠিন। তাই চামচ বা পরিমাপক ব্যবহার করে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করুন।

৩. ধীরে ধীরে ব্যবহার কমান: ক্রিমি কফি পছন্দ করলে হঠাৎ অভ্যাস বদলানোর পরিবর্তে ধীরে ধীরে ক্রিমারের পরিমাণ কমিয়ে আনতে পারেন।

৪. চিনি ছাড়া বিকল্প বেছে নিন: পছন্দ ও খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে মানানসই হলে চিনি ছাড়া উদ্ভিদভিত্তিক পানীয় বা সাধারণ দুধ ব্যবহার করতে পারেন। তবে বিকল্প পণ্যের পুষ্টিগুণও যাচাই করা জরুরি।

৫. ফ্লেভারযুক্ত উপাদান সীমিত করুন: মিষ্টি ক্রিমার ও ফ্লেভারযুক্ত সিরাপে অতিরিক্ত চিনি থাকতে পারে। তাই এসব উপাদান ব্যবহারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

সব মিলিয়ে, কফি কতটা স্বাস্থ্যকর হবে, তা শুধু কফির ওপর নির্ভর করে না; এর সঙ্গে কী মেশানো হচ্ছে এবং কতটুকু ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

সকালের রুটিনে এক কাপ কফি ঘুমঘুম ভাব কাটিয়ে সতেজ হতে সাহায্য করে। পরিমিত কফি পান স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশও হতে পারে। তবে কফির সঙ্গে কী মেশানো হচ্ছে, সেদিকেও নজর রাখা জরুরি। কারণ, কফিতে ব্যবহৃত কিছু উপাদান অজান্তেই বাড়িয়ে দিতে পারে দৈনিক ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ।

সাধারণত কফিতে অতিরিক্ত চিনি ও দুধ যোগ করাকে বাড়তি ক্যালোরির উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, কফিতে ব্যবহৃত নন-ডেইরি ক্রিমারও ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে।

আমেরিকান একাডেমি অব নিউট্রিশন অ্যান্ড ডায়েটেটিকসের জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাটিতে প্রায় ৩০ হাজার মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কের খাদ্যাভ্যাস বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, ২০০৩ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে কফি থেকে মানুষের দৈনিক ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। অথচ এ সময়ে গড়ে কফি পানের পরিমাণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি।

গবেষকদের মতে, কফিতে নন-ডেইরি ক্রিমার ব্যবহারের প্রবণতা বৃদ্ধি এই পরিবর্তনের অন্যতম কারণ।

গবেষণায় কী উঠে এসেছে?

টাফটস ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা ২০০৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হেলথ অ্যান্ড নিউট্রিশন এক্সামিনেশন সার্ভের আটটি পর্যায়ের তথ্য বিশ্লেষণ করেন। এতে ২০ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের খাদ্যাভ্যাস পর্যালোচনা করা হয়।

গবেষণায় দেখা যায়, ওই সময়ে একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩৮০ মিলিলিটার কফি পান করতেন। তবে কফি থেকে দৈনিক গড় ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ ৪৩ থেকে বেড়ে ৬০ ক্যালোরিতে দাঁড়ায়। অর্থাৎ, এ ক্ষেত্রে বৃদ্ধি ছিল প্রায় ৪০ শতাংশ।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের মধ্যে কফিতে ক্যালোরি যোগ করার ক্ষেত্রে নন-ডেইরি ক্রিমার চিনি ও গরুর দুধকে ছাড়িয়ে যায়। নন-ডেইরি ক্রিমার থেকে প্রতিদিন গড়ে ১৮ দশমিক ৫ ক্যালোরি, চিনি থেকে ১৬ ক্যালোরি এবং গরুর দুধ থেকে ১১ ক্যালোরি যুক্ত হচ্ছিল।

গবেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কফি পানের পরিমাণ বাড়ার চেয়ে কফিতে ব্যবহৃত উপাদানের ধরন পরিবর্তনই ক্যালোরি বৃদ্ধির অন্যতম ব্যাখ্যা।

গবেষণার প্রধান লেখক ও টাফটস ইউনিভার্সিটির ফ্রিডম্যান স্কুলের পিএইচডি গবেষক ইয়ংয়ি পান বলেন, কফিতে নন-ডেইরি ক্রিমারের ব্যবহার চিনি ও দুধের ব্যবহারকে ছাড়িয়ে গেছে। তাঁর মতে, কিছু নন-ডেইরি ক্রিমারে স্যাচুরেটেড ফ্যাট বা সম্পৃক্ত চর্বির পরিমাণ বেশি থাকতে পারে, যা ক্যালোরি গ্রহণ বাড়াতে ভূমিকা রাখে।

১৯৫০-এর দশক থেকেই বাজারে নন-ডেইরি ক্রিমার পাওয়া গেলেও উদ্ভিদভিত্তিক ও দুগ্ধমুক্ত বিকল্পের চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর জনপ্রিয়তা বেড়েছে।

নন-ডেইরি ক্রিমারে ক্যালোরি বেশি হতে পারে কেন?

নন-ডেইরি ক্রিমার হলো এমন একধরনের পণ্য, যা গরুর দুধ ছাড়াই কফিকে ঘন, ক্রিমি ও কখনো মিষ্টি স্বাদ দিতে ব্যবহার করা হয়। তবে দুগ্ধমুক্ত হলেই কোনো পণ্য কম ক্যালোরিযুক্ত বা বেশি স্বাস্থ্যকর হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

পণ্যের ধরন অনুযায়ী এতে উদ্ভিজ্জ তেল, চিনি, স্টেবিলাইজার ও অন্যান্য উপাদান থাকতে পারে। কিছু ক্রিমারে স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও যোগ করা চিনির পরিমাণও বেশি হতে পারে। ফলে নিয়মিত বেশি পরিমাণে ব্যবহার করলে দৈনিক ক্যালোরি গ্রহণ বেড়ে যেতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০৩ সালে প্রতিদিন কফিতে নন-ডেইরি ক্রিমার ব্যবহারের গড় পরিমাণ ছিল ৩ দশমিক ৪ গ্রাম। ২০১৮ সালে তা বেড়ে ৮ গ্রামে দাঁড়ায়। গবেষকদের মতে, ব্যবহারের পরিমাণ বৃদ্ধিও কফি থেকে ক্যালোরি গ্রহণ বাড়ার একটি কারণ হতে পারে।

নন-ডেইরি ক্রিমার কি দুধ বা চিনির চেয়ে বেশি ক্ষতিকর?

গবেষণাটিতে মূলত কফির সঙ্গে বিভিন্ন উপাদান যোগ করার ফলে ক্যালোরি গ্রহণের গড় পরিমাণ কীভাবে বদলেছে, তা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এর অর্থ এই নয় যে সব ধরনের নন-ডেইরি ক্রিমার অস্বাস্থ্যকর, কিংবা দুধ ও চিনি সব পরিস্থিতিতে ভালো বিকল্প।

সাধারণ দুধে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান থাকে। অন্যদিকে, চিনি মূলত বাড়তি ক্যালোরি সরবরাহ করে, উল্লেখযোগ্য পুষ্টি যোগ করে না। নন-ডেইরি ক্রিমারের পুষ্টিমানও পণ্যভেদে আলাদা হতে পারে।

তাই কোন উপাদানটি বেশি উপযোগী, তা নির্ভর করে পণ্যের উপাদান, পুষ্টিগুণ এবং ব্যবহারের পরিমাণের ওপর। কোনো ক্রিমারের প্যাকেটে ক্যালোরি কম লেখা থাকলেও বেশি পরিমাণে ব্যবহার করলে মোট ক্যালোরি গ্রহণ বেড়ে যেতে পারে।

সকালের কফিকে স্বাস্থ্যকর রাখবেন যেভাবে

কফি পান পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং কিছু অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে কফি থেকে অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

১. পণ্যের লেবেল পড়ুন: নন-ডেইরি ক্রিমার কেনার আগে ক্যালোরি, যোগ করা চিনি ও স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ দেখে নিন। পরিবেশনের নির্ধারিত পরিমাণও খেয়াল করুন।

২. পরিমিত পরিমাণে ব্যবহার করুন: সরাসরি পাত্র থেকে ক্রিমার ঢাললে কতটুকু ব্যবহার হচ্ছে, তা বোঝা কঠিন। তাই চামচ বা পরিমাপক ব্যবহার করে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করুন।

৩. ধীরে ধীরে ব্যবহার কমান: ক্রিমি কফি পছন্দ করলে হঠাৎ অভ্যাস বদলানোর পরিবর্তে ধীরে ধীরে ক্রিমারের পরিমাণ কমিয়ে আনতে পারেন।

৪. চিনি ছাড়া বিকল্প বেছে নিন: পছন্দ ও খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে মানানসই হলে চিনি ছাড়া উদ্ভিদভিত্তিক পানীয় বা সাধারণ দুধ ব্যবহার করতে পারেন। তবে বিকল্প পণ্যের পুষ্টিগুণও যাচাই করা জরুরি।

৫. ফ্লেভারযুক্ত উপাদান সীমিত করুন: মিষ্টি ক্রিমার ও ফ্লেভারযুক্ত সিরাপে অতিরিক্ত চিনি থাকতে পারে। তাই এসব উপাদান ব্যবহারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

সব মিলিয়ে, কফি কতটা স্বাস্থ্যকর হবে, তা শুধু কফির ওপর নির্ভর করে না; এর সঙ্গে কী মেশানো হচ্ছে এবং কতটুকু ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

সকালের রুটিনে এক কাপ কফি ঘুমঘুম ভাব কাটিয়ে সতেজ হতে সাহায্য করে। পরিমিত কফি পান স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশও হতে পারে। তবে কফির সঙ্গে কী মেশানো হচ্ছে, সেদিকেও নজর রাখা জরুরি। কারণ, কফিতে ব্যবহৃত কিছু উপাদান অজান্তেই বাড়িয়ে দিতে পারে দৈনিক ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ।

সাধারণত কফিতে অতিরিক্ত চিনি ও দুধ যোগ করাকে বাড়তি ক্যালোরির উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, কফিতে ব্যবহৃত নন-ডেইরি ক্রিমারও ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে।

আমেরিকান একাডেমি অব নিউট্রিশন অ্যান্ড ডায়েটেটিকসের জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাটিতে প্রায় ৩০ হাজার মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কের খাদ্যাভ্যাস বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, ২০০৩ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে কফি থেকে মানুষের দৈনিক ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। অথচ এ সময়ে গড়ে কফি পানের পরিমাণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি।

গবেষকদের মতে, কফিতে নন-ডেইরি ক্রিমার ব্যবহারের প্রবণতা বৃদ্ধি এই পরিবর্তনের অন্যতম কারণ।

গবেষণায় কী উঠে এসেছে?

টাফটস ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা ২০০৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হেলথ অ্যান্ড নিউট্রিশন এক্সামিনেশন সার্ভের আটটি পর্যায়ের তথ্য বিশ্লেষণ করেন। এতে ২০ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের খাদ্যাভ্যাস পর্যালোচনা করা হয়।

গবেষণায় দেখা যায়, ওই সময়ে একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩৮০ মিলিলিটার কফি পান করতেন। তবে কফি থেকে দৈনিক গড় ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ ৪৩ থেকে বেড়ে ৬০ ক্যালোরিতে দাঁড়ায়। অর্থাৎ, এ ক্ষেত্রে বৃদ্ধি ছিল প্রায় ৪০ শতাংশ।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের মধ্যে কফিতে ক্যালোরি যোগ করার ক্ষেত্রে নন-ডেইরি ক্রিমার চিনি ও গরুর দুধকে ছাড়িয়ে যায়। নন-ডেইরি ক্রিমার থেকে প্রতিদিন গড়ে ১৮ দশমিক ৫ ক্যালোরি, চিনি থেকে ১৬ ক্যালোরি এবং গরুর দুধ থেকে ১১ ক্যালোরি যুক্ত হচ্ছিল।

গবেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কফি পানের পরিমাণ বাড়ার চেয়ে কফিতে ব্যবহৃত উপাদানের ধরন পরিবর্তনই ক্যালোরি বৃদ্ধির অন্যতম ব্যাখ্যা।

গবেষণার প্রধান লেখক ও টাফটস ইউনিভার্সিটির ফ্রিডম্যান স্কুলের পিএইচডি গবেষক ইয়ংয়ি পান বলেন, কফিতে নন-ডেইরি ক্রিমারের ব্যবহার চিনি ও দুধের ব্যবহারকে ছাড়িয়ে গেছে। তাঁর মতে, কিছু নন-ডেইরি ক্রিমারে স্যাচুরেটেড ফ্যাট বা সম্পৃক্ত চর্বির পরিমাণ বেশি থাকতে পারে, যা ক্যালোরি গ্রহণ বাড়াতে ভূমিকা রাখে।

১৯৫০-এর দশক থেকেই বাজারে নন-ডেইরি ক্রিমার পাওয়া গেলেও উদ্ভিদভিত্তিক ও দুগ্ধমুক্ত বিকল্পের চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর জনপ্রিয়তা বেড়েছে।

নন-ডেইরি ক্রিমারে ক্যালোরি বেশি হতে পারে কেন?

নন-ডেইরি ক্রিমার হলো এমন একধরনের পণ্য, যা গরুর দুধ ছাড়াই কফিকে ঘন, ক্রিমি ও কখনো মিষ্টি স্বাদ দিতে ব্যবহার করা হয়। তবে দুগ্ধমুক্ত হলেই কোনো পণ্য কম ক্যালোরিযুক্ত বা বেশি স্বাস্থ্যকর হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

পণ্যের ধরন অনুযায়ী এতে উদ্ভিজ্জ তেল, চিনি, স্টেবিলাইজার ও অন্যান্য উপাদান থাকতে পারে। কিছু ক্রিমারে স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও যোগ করা চিনির পরিমাণও বেশি হতে পারে। ফলে নিয়মিত বেশি পরিমাণে ব্যবহার করলে দৈনিক ক্যালোরি গ্রহণ বেড়ে যেতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০৩ সালে প্রতিদিন কফিতে নন-ডেইরি ক্রিমার ব্যবহারের গড় পরিমাণ ছিল ৩ দশমিক ৪ গ্রাম। ২০১৮ সালে তা বেড়ে ৮ গ্রামে দাঁড়ায়। গবেষকদের মতে, ব্যবহারের পরিমাণ বৃদ্ধিও কফি থেকে ক্যালোরি গ্রহণ বাড়ার একটি কারণ হতে পারে।

নন-ডেইরি ক্রিমার কি দুধ বা চিনির চেয়ে বেশি ক্ষতিকর?

গবেষণাটিতে মূলত কফির সঙ্গে বিভিন্ন উপাদান যোগ করার ফলে ক্যালোরি গ্রহণের গড় পরিমাণ কীভাবে বদলেছে, তা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এর অর্থ এই নয় যে সব ধরনের নন-ডেইরি ক্রিমার অস্বাস্থ্যকর, কিংবা দুধ ও চিনি সব পরিস্থিতিতে ভালো বিকল্প।

সাধারণ দুধে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান থাকে। অন্যদিকে, চিনি মূলত বাড়তি ক্যালোরি সরবরাহ করে, উল্লেখযোগ্য পুষ্টি যোগ করে না। নন-ডেইরি ক্রিমারের পুষ্টিমানও পণ্যভেদে আলাদা হতে পারে।

তাই কোন উপাদানটি বেশি উপযোগী, তা নির্ভর করে পণ্যের উপাদান, পুষ্টিগুণ এবং ব্যবহারের পরিমাণের ওপর। কোনো ক্রিমারের প্যাকেটে ক্যালোরি কম লেখা থাকলেও বেশি পরিমাণে ব্যবহার করলে মোট ক্যালোরি গ্রহণ বেড়ে যেতে পারে।

সকালের কফিকে স্বাস্থ্যকর রাখবেন যেভাবে

কফি পান পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং কিছু অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে কফি থেকে অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

১. পণ্যের লেবেল পড়ুন: নন-ডেইরি ক্রিমার কেনার আগে ক্যালোরি, যোগ করা চিনি ও স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ দেখে নিন। পরিবেশনের নির্ধারিত পরিমাণও খেয়াল করুন।

২. পরিমিত পরিমাণে ব্যবহার করুন: সরাসরি পাত্র থেকে ক্রিমার ঢাললে কতটুকু ব্যবহার হচ্ছে, তা বোঝা কঠিন। তাই চামচ বা পরিমাপক ব্যবহার করে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করুন।

৩. ধীরে ধীরে ব্যবহার কমান: ক্রিমি কফি পছন্দ করলে হঠাৎ অভ্যাস বদলানোর পরিবর্তে ধীরে ধীরে ক্রিমারের পরিমাণ কমিয়ে আনতে পারেন।

৪. চিনি ছাড়া বিকল্প বেছে নিন: পছন্দ ও খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে মানানসই হলে চিনি ছাড়া উদ্ভিদভিত্তিক পানীয় বা সাধারণ দুধ ব্যবহার করতে পারেন। তবে বিকল্প পণ্যের পুষ্টিগুণও যাচাই করা জরুরি।

৫. ফ্লেভারযুক্ত উপাদান সীমিত করুন: মিষ্টি ক্রিমার ও ফ্লেভারযুক্ত সিরাপে অতিরিক্ত চিনি থাকতে পারে। তাই এসব উপাদান ব্যবহারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

সব মিলিয়ে, কফি কতটা স্বাস্থ্যকর হবে, তা শুধু কফির ওপর নির্ভর করে না; এর সঙ্গে কী মেশানো হচ্ছে এবং কতটুকু ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।