tanaka

কেন মাঠে নেমেছে এনসিপি, জানালেন নাহিদ ইসলাম

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের প্রতিবাদে আগামী ৩০ অক্টোবর গণবিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।...
প্রচ্ছদলাইফস্টাইলনিয়ম মেনে খাওয়াদাওয়া, ব্যায়াম—তারপরও হতে পারে হৃদরোগ, নেপথ্যে এই ৫ কারণ

নিয়ম মেনে খাওয়াদাওয়া, ব্যায়াম—তারপরও হতে পারে হৃদরোগ, নেপথ্যে এই ৫ কারণ

স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, নিয়মিত ব্যায়াম করা, ধূমপান এড়িয়ে চলা এবং নিয়ম মেনে জীবনযাপন—হৃদ্‌যন্ত্র সুস্থ রাখতে এসব অভ্যাসের গুরুত্ব অপরিসীম। তারপরও অনেকেই হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হন। এর পেছনে শুধু অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন দায়ী নয়; বংশগত ও জিনগত বিভিন্ন সমস্যাও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কিছু বংশগত রোগ হৃদ্‌যন্ত্রের পেশি, বৈদ্যুতিক সংকেত পরিবহণব্যবস্থা কিংবা রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রাকে প্রভাবিত করে। ফলে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করলেও কারও কারও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি থেকে যায়।

হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে এমন পাঁচটি কারণ জেনে নেওয়া যাক।

১. পারিবারিক হাইপারকোলেস্টেরোলেমিয়া

রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল বা এলডিএলের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার পেছনে সব সময় অস্বাস্থ্যকর খাবার কিংবা ব্যায়ামের অভাব দায়ী নয়। পারিবারিক হাইপারকোলেস্টেরোলেমিয়া একটি বংশগত রোগ, যার কারণে জন্মগতভাবেই রক্তে এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা অনেক বেশি থাকতে পারে।

সময়মতো রোগটি শনাক্ত করে চিকিৎসা না নিলে ধমনিতে কোলেস্টেরল জমে হৃদ্‌রোগ ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এমনকি অল্প বয়সেও গুরুতর হৃদ্‌রোগ দেখা দিতে পারে।

পরিবারে অল্প বয়সে হার্ট অ্যাটাক বা হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস থাকলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া প্রয়োজন। রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে কোলেস্টেরলের মাত্রা জানা যায়। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক ওষুধ ও জীবনযাপনে পরিবর্তনের পরামর্শ দিতে পারেন।

২. হৃৎপিণ্ডের পেশির রোগ

জিনগত পরিবর্তনের কারণে হৃৎপিণ্ডের পেশির গঠন ও কার্যক্ষমতায় সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ ধরনের রোগকে বলা হয় কার্ডিওমায়োপ্যাথি।

এই রোগে হৃৎপিণ্ডের পেশি অস্বাভাবিকভাবে পুরু, প্রসারিত বা দুর্বল হয়ে যেতে পারে। ফলে শরীরের বিভিন্ন অংশে পর্যাপ্ত রক্ত সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কিছু ক্ষেত্রে হৃদ্‌যন্ত্রের কার্যক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

পরিবারে কার্ডিওমায়োপ্যাথি কিংবা অল্প বয়সে আকস্মিক হৃদ্‌মৃত্যুর ইতিহাস থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। প্রয়োজন অনুযায়ী ইসিজি, ইকোকার্ডিওগ্রামসহ বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে হৃদ্‌যন্ত্রের অবস্থা মূল্যায়ন করা হয়।

৩. অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন বা অ্যারিদমিয়া

হৃৎপিণ্ডের স্পন্দনের গতি বা ছন্দে অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে তাকে অ্যারিদমিয়া বলা হয়। প্রাপ্তবয়স্কদের বিশ্রামকালীন হৃৎস্পন্দন সাধারণত মিনিটে ৬০ থেকে ১০০ বার থাকে। তবে শারীরিক সক্ষমতা, বয়স, ওষুধ ও অন্যান্য কারণে এই হার পরিবর্তিত হতে পারে।

কিছু অ্যারিদমিয়া বংশগত হতে পারে এবং হৃদ্‌যন্ত্রের বৈদ্যুতিক সংকেত পরিবহণব্যবস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে। আবার কিছু ক্ষেত্রে এর পেছনে অন্য রোগ বা শারীরিক অবস্থাও দায়ী থাকে।

অ্যারিদমিয়ার লক্ষণ হিসেবে বুক ধড়ফড় করা, মাথা ঘোরা, দুর্বল লাগা কিংবা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে কোনো লক্ষণও থাকে না।

পরিবারে বংশগত অ্যারিদমিয়া বা অল্প বয়সে আকস্মিক হৃদ্‌মৃত্যুর ইতিহাস থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে গেলে বা বুক ধড়ফড়ের সঙ্গে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।

৪. জন্মগত হৃদ্‌রোগ

জন্মগত হৃদ্‌রোগের ক্ষেত্রে শিশুর হৃৎপিণ্ডের গঠন বা রক্ত সঞ্চালনব্যবস্থায় জন্ম থেকেই কোনো ত্রুটি থাকে। হৃদ্‌যন্ত্রের প্রকোষ্ঠের মধ্যে ছিদ্র, ভাল্‌ভের অস্বাভাবিকতা কিংবা বড় রক্তনালির গঠনে ত্রুটি এর উদাহরণ।

কিছু জন্মগত হৃদ্‌রোগ গর্ভাবস্থায় বা শিশুর জন্মের পরপরই শনাক্ত করা যায়। আবার কিছু ত্রুটি দীর্ঘদিন অজানা থেকে যেতে পারে এবং বড় হওয়ার পর লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে।

এসব সমস্যার পেছনে জিনগত ও পরিবেশগত বিভিন্ন কারণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই সব জন্মগত হৃদ্‌রোগকে শুধু বংশগত সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়।

শিশুর জন্মগত হৃদ্‌রোগ শনাক্ত হলে রোগের ধরন ও তীব্রতা অনুযায়ী চিকিৎসার প্রয়োজন নির্ধারণ করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে নিয়মিত পর্যবেক্ষণই যথেষ্ট, আবার অন্য ক্ষেত্রে ওষুধ বা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।

৫. অন্যান্য বংশগত ও জিনগত রোগ

কিছু বংশগত রোগ সরাসরি হৃদ্‌যন্ত্রের পেশি, বৈদ্যুতিক সংকেত পরিবহণব্যবস্থা কিংবা রক্তনালিকে প্রভাবিত করে। ফলে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।

পরিবারে নির্দিষ্ট ধরনের বংশগত হৃদ্‌রোগ থাকলে পরিবারের অন্য সদস্যদেরও ঝুঁকি মূল্যায়নের প্রয়োজন হতে পারে। চিকিৎসক রোগের ধরন ও পারিবারিক ইতিহাস বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করার পরামর্শ দিতে পারেন।

এ ছাড়া গর্ভাবস্থায় মায়ের কিছু শারীরিক অবস্থা, নির্দিষ্ট সংক্রমণ, ওষুধের প্রভাব এবং পরিবেশগত কারণও শিশুর জন্মগত হৃদ্‌রোগের ঝুঁকিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

পরিবারে বংশগত হৃদ্‌রোগের ইতিহাস থাকলে সন্তান নেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ বা জিনগত পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। তবে সবার জন্য জিন পরীক্ষা প্রয়োজন হয় না; ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ঝুঁকি বিবেচনা করেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাতে কী করবেন?

স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন হৃদ্‌রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে কিছু বংশগত ও জিনগত ঝুঁকি শুধু জীবনযাপনে পরিবর্তন এনে দূর করা সম্ভব নয়।

হৃদ্‌যন্ত্র সুস্থ রাখতে কয়েকটি বিষয় মেনে চলুন—

  • শাকসবজি, ফলমূল, পূর্ণশস্য ও স্বাস্থ্যকর চর্বিসমৃদ্ধ সুষম খাবার খান।
  • চিকিৎসকের পরামর্শ ও শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী নিয়মিত ব্যায়াম করুন।
  • ধূমপান ও তামাকজাত পণ্য এড়িয়ে চলুন।
  • রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
  • পরিবারে অল্প বয়সে হৃদ্‌রোগ বা আকস্মিক হৃদ্‌মৃত্যুর ইতিহাস থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
  • প্রয়োজন অনুযায়ী কোলেস্টেরল পরীক্ষা ও হৃদ্‌যন্ত্রের স্বাস্থ্য মূল্যায়ন করান।

জরুরি সতর্কতা: বুকে চাপ বা ব্যথা, তীব্র শ্বাসকষ্ট কিংবা হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিন।

মনে রাখতে হবে, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমায়, কিন্তু সব ক্ষেত্রে ঝুঁকি সম্পূর্ণ দূর করতে পারে না। তাই পারিবারিক ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই হৃদ্‌যন্ত্র সুস্থ রাখার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।