সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) চার নবীন শিক্ষার্থীকে র্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠেছে ছয় শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে ভোররাত ৪টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ মুজতবা আলী হলসংলগ্ন রিপন ছাত্রাবাসের একটি মেসে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এ ঘটনায় চার শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিষয়টি জানাজানি হলে বিশ্ববিদ্যালয়ে এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
যাঁরা অভিযোগ করেছেন
অভিযোগকারী চার শিক্ষার্থী হলেন—সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের নাসির উদ্দিন, শিল্প ও উৎপাদন প্রকৌশল বিভাগের গোলাম মোর্শেদ ও শাহাদাত হোসেন সাগর এবং বাংলা বিভাগের জিয়াউর রহমান। তাঁরা ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী।
অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা হলেন বাংলা বিভাগের হাসান গোলজার রহমান, অর্থনীতি বিভাগের সোলাইমান কবির, শিল্প ও উৎপাদন প্রকৌশল বিভাগের সাব্বির রহমান, পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের মারুফ হাসান ও আবু রায়হানসহ মোট ছয়জন।
ভুক্তভোগী ও অভিযুক্ত সবাই রিপন ছাত্রাবাসের একই মেসে থাকেন। নবীন শিক্ষার্থীরা গত জুন থেকে সেখানে বসবাস করছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ
ভুক্তভোগী নাসির উদ্দিন জানান, সোমবার রাতে আবু রায়হানের জন্মদিন উপলক্ষে মেসে কেক কাটা হয়। এরপর অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা নবীনদের ভোর পর্যন্ত র্যাগিং করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আরেক ভুক্তভোগী জিয়াউর রহমান বলেন, প্রথমে মেসের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। পরে কিছু র্যাগিংয়ের ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ অস্বীকার অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর
নিজেকে নির্দোষ দাবি করে অভিযুক্ত সোলাইমান কবির বলেন, ওই রাতে মেসের কয়েকজন সদস্য নিয়মকানুন নিয়েও আলোচনা করেন। একপর্যায়ে সাব্বির তাঁর বিভাগের জুনিয়রদের সঙ্গে মজা করছিলেন। নাসির সেখানে থাকায় সাব্বির তাঁকে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলছিলেন। একপর্যায়ে সাব্বির নাসিরের ওপর রেগে যান। পরে নাসিরকে বুঝিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
সোলাইমানের ভাষ্য, বিষয়টি সেখানেই সমাধান করা হয়েছিল।
তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা প্রক্টরের
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোখলেসুর রহমান জানান, অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের নিয়ে বৃহস্পতিবার জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। বৈঠকে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।



