বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের বাস্তবতা মেনে নিয়ে প্রস্তুতিও রয়েছে, সরকারের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী দোকান বন্ধও রাখা হচ্ছে—তবু অনিয়ন্ত্রিত লোডশেডিং নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সিলেটের ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, নির্দিষ্ট সময়সূচি (টাইম লিমিট) ঘোষণা করে লোডশেডিং করা হোক, যাতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হয়।
গতকাল সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সরওয়ার আলমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ব্যবসায়ীরা এ দাবি তুলে ধরেন। একইসঙ্গে অতিরিক্ত লোডশেডিং কমানোর দাবিতে জ্বালানিমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছেন তারা।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। গতকাল বিকাল ৩টার দিকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে নগরের বিভিন্ন এলাকায় তখনও লোডশেডিং চলছিল। এ বিষয়ে জানতে চাইলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, তাদের কাছে এমন কোনো তথ্য নেই।
সিলেট বিভাগে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় আড়াইশ’ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইমাম হোসেন জানান, বিকাল ৪টার দিকে ৩৫ মেগাওয়াট ঘাটতি থাকলেও ৫টার পর সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে যায়। তার ভাষ্য, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে লোডশেডিং হওয়ার কথা নয়।
তবে ব্যবসায়ীদের মতে, চাহিদা ও সরবরাহ নিয়ে একটি অস্পষ্টতা রয়েছে। তারা আপাতত সে বিতর্কে না গিয়ে বাস্তবতা ধরে নিয়ে বলছেন—যদি বিদ্যুতের ঘাটতির সময়টুকু নির্দিষ্ট করে ঘোষণা দেওয়া হয়, তাহলে সবাই উপকৃত হবেন।
বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি, সিলেটের মহাসচিব আব্দুর রহমান রিপন জানান, জেলা প্রশাসকের কাছেও তারা মৌখিকভাবে এ প্রস্তাব দিয়েছেন এবং প্রশাসক এতে সম্মতি জানিয়েছেন। বিষয়টি মন্ত্রী পর্যায়ে আলোচনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ব্যবসার সময়ে ৫-৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না। এতে শুধু ব্যবসা নয়, এসএসসি পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে।
স্মারকলিপিতে ব্যবসায়ীরা উল্লেখ করেছেন, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিকল্প হিসেবে জেনারেটর ব্যবহার করতে হলেও জ্বালানি তেলের সংকট রয়েছে, ফলে লোকসানের মুখে পড়ছেন তারা।
সমিতির সহ-সভাপতি আব্দুল মল্লিক মুন্না বলেন, লোডশেডিং ও জ্বালানি সংকটে ব্যবসায়ীদের ধৈর্যের সীমা শেষের দিকে। প্রতিদিনই লোকসান গুনতে হচ্ছে, এমনকি কর্মচারীদের বেতন দিতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে।
সাংগঠনিক সম্পাদক নিয়াজ মো. আজিজুল করিমের অভিযোগ, সিলেটে উৎপাদিত বিদ্যুতের বড় অংশ জাতীয় গ্রিডে পাঠানো হয়, স্থানীয়ভাবে তার যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে না—যা সিলেটবাসীর সঙ্গে বৈষম্যের শামিল।
সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি ফালাহউদ্দিন আলী আহমদ বলেন, পূর্বঘোষণা থাকলে ব্যবসায়ী ও শিল্পকারখানা উভয়েরই সুবিধা হয়। হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে খাদ্য ও প্লাস্টিক শিল্পে উৎপাদন ব্যাহত হয়, অনেক ক্ষেত্রে পণ্য নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহে যন্ত্রপাতি ও সাব-স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তার মতে, নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী লোডশেডিং করা হলে ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে।



