tanaka

৮০ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশের কাছে চিঠি

জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘ সময় লোডশেডিং হচ্ছে। এর জেরে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ স্থাপনায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটায় দেশের ৮০টি...
প্রচ্ছদখেলারোনালদোর জোড়া গোলে উজবেকিস্তানকে উড়িয়ে দিল পর্তুগাল

রোনালদোর জোড়া গোলে উজবেকিস্তানকে উড়িয়ে দিল পর্তুগাল

প্রথম ম্যাচে হতাশাজনক ড্রয়ের পর সমালোচনার মুখে পড়েছিল পর্তুগাল। বিশেষ করে দলের অধিনায়ক ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে ঘিরে ছিল নানা প্রশ্ন। তবে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নেমে সব জবাব দিলেন তিনি। বিশ্বকাপের মঞ্চে রেকর্ড গড়া জোড়া গোলের পাশাপাশি দলকে বড় জয় উপহার দিয়ে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করলেন পর্তুগিজ মহাতারকা।

হিউস্টনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ‘কে’ গ্রুপের ম্যাচে উজবেকিস্তানকে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে পর্তুগাল। রোনালদোর জোড়া গোলের সঙ্গে একটি করে গোল করেন নুনো মেন্দেস ও রাফায়েল লেয়াও। আরেকটি গোল আসে আত্মঘাতী থেকে।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে পর্তুগাল। দ্বিতীয় মিনিটেই ব্রুনো ফার্নান্দেসের উদ্দেশে বাড়ানো বল উজবেক ডিফেন্ডার ক্লিয়ার করে বিপদ সামাল দেন। এরপরও একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা পেতে বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি।

ষষ্ঠ মিনিটে ইতিহাস গড়েন রোনালদো। জোয়াও কানসেলোর নিচু ক্রস থেকে নিখুঁত শটে গোল করে বিশ্বকাপের ছয়টি ভিন্ন আসরে গোল করা প্রথম ফুটবলার হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়েন তিনি। ৪১ বছর বয়সেও তার ক্ষিপ্রতা ও ফিনিশিং মুগ্ধ করেছে দর্শকদের।

১৭ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন নুনো মেন্দেস। ফ্রি-কিক থেকে পাওয়া বল বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে জালে পাঠিয়ে দলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে আবারও জ্বলে ওঠেন রোনালদো। ৩৯ মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেসের চমৎকার পাস ধরে ডান পায়ের আড়াআড়ি শটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোল করেন তিনি। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা দশে নিয়ে গিয়ে পর্তুগালের কিংবদন্তি ইউসেবিওকে ছাড়িয়ে দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ বিশ্বকাপ গোলদাতার আসনে বসেন রোনালদো।

মাঝে একবার জাল খুঁজে পেয়েছিল উজবেকিস্তান। গাভিয়েনের দূরপাল্লার দুর্দান্ত শটে বল জালে জড়ালেও ভিএআর পর্যালোচনায় গোলটি বাতিল হয়।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে হ্যাটট্রিকের দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন রোনালদো। গোলরক্ষককে পরাস্ত করেও তার চিপ শট গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেন খুশানোভ।

দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধার বজায় রাখে পর্তুগাল। ৬০ মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেসের কর্নার থেকে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিতে উজবেক গোলরক্ষক আব্দুভোখিদ নেমাতভের আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৪-০।

হ্যাটট্রিকের জন্য একাধিক সুযোগ পেয়েও শেষ পর্যন্ত তৃতীয় গোলের দেখা পাননি রোনালদো। একবার তার শট ডিফ্লেক্টেড হয়ে বাইরে চলে যায়, আরেকবার দুর্দান্ত সেভ করে তাকে হতাশ করেন নেমাতভ।

শেষদিকে বদলি হিসেবে নেমে ম্যাচে নিজের ছাপ রাখেন রাফায়েল লেয়াও। ৮৭ মিনিটে নেলসন সেমেদোর আক্রমণ থেকে তৈরি সুযোগ কাজে লাগিয়ে জোরালো শটে পর্তুগালের পঞ্চম গোলটি করেন তিনি।

বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হলে ৫-০ গোলের দাপুটে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে পর্তুগাল। প্রথম ম্যাচের হতাশা ভুলে এই জয় তাদের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে। আর রোনালদো আবারও প্রমাণ করলেন, বয়স শুধু একটি সংখ্যা—বড় মঞ্চে তিনি এখনো সমান ভয়ংকর।