tanaka

ঝিনাইদহে উপজেলা কৃষক লীগ সভাপতি গ্রেপ্তার

ঝিনাইদহের মহেশপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন কৃষক লীগের উপজেলা সভাপতি আব্বাস উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে মহেশপুর পৌর শহরের মাধ্যমিক...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকমক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আরও দেশ চান এরদোগান

মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আরও দেশ চান এরদোগান

মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিকে শুধু তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। বরং আঞ্চলিক আরও দেশকে এই কাঠামোর আওতায় আনার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।

বুধবার (১২ আগস্ট) আরব সংবাদমাধ্যম আশরাক আল-আওসাতকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এরদোগান বলেন, এই উদ্যোগের লক্ষ্য কেবল তিনটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সময়ের সঙ্গে এটিকে আরও বিস্তৃত করে সম্ভব হলে একদিন এ অঞ্চলের সব দেশকে এর আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। তার মতে, দীর্ঘস্থায়ী আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা অর্জনে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

কোনো দেশের জন্য হুমকি নয়

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলেও মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিকে শুধু ওই উত্তেজনার প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন এরদোগান।

তিনি বলেন, এমন ব্যাখ্যা দিলে চুক্তিতে যুক্ত দেশগুলোর প্রকৃত নীতি ও উদ্দেশ্য যথাযথভাবে বোঝা যাবে না।

চুক্তিটি কোনো দেশের জন্য হুমকি নয় উল্লেখ করে তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা চায়—এমন সব ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের জন্য এর দরজা খোলা।

আঞ্চলিক সমস্যার সমাধান অঞ্চলেই

এরদোগান বলেন, এই চুক্তির পেছনে দীর্ঘদিনের আলোচনা ও প্রস্তুতি রয়েছে। স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর পাশাপাশি অঞ্চলের আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গেও এ বিষয়ে আলোচনা চলছিল।

আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা জোরদারে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত পরামর্শের নীতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তুরস্ক সেই অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছে।

তার মতে, বাইরে থেকে কোনো সমাধান চাপিয়ে দেওয়ার কারণে এ অঞ্চলে অতীতে নানা সংকট তৈরি হয়েছে। তাই আঞ্চলিক সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মতামত ও সম্মিলিত সিদ্ধান্তকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

এরদোগান বলেন, এ অঞ্চলের সমস্যাগুলো এ অঞ্চলের দেশগুলোর নিজেদের উদ্যোগেই সমাধান করতে হবে। মক্কা চুক্তিকে তিনি সেই লক্ষ্য অর্জনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

‘নতুন আঞ্চলিক পরিস্থিতির ফল’

তুর্কি প্রেসিডেন্টের ভাষায়, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি কোনো তাৎক্ষণিক ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় তৈরি হয়নি। বরং পরিবর্তিত আঞ্চলিক বাস্তবতা এবং দেশগুলোর সম্মিলিত দায়িত্ববোধ থেকেই এর জন্ম হয়েছে।

সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ও সংহতির প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এরদোগানের মতে, চুক্তিটি শুধু তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয় নয়। বরং এটি ভবিষ্যতে আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সহযোগিতার একটি বিস্তৃত কাঠামো হয়ে উঠতে পারে।

তিনি বলেন, আঙ্কারা মক্কা চুক্তিকে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও সংহতির একটি নতুন যুগের সূচনা হিসেবে দেখছে এবং নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রত্যাশী অন্য দেশগুলোর জন্যও এতে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রাখতে চায়।