বছরের অন্যতম আলোচিত মহাজাগতিক ঘটনা পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে আজ বুধবার (১২ আগস্ট)। গ্রহণটির পূর্ণগ্রাসের পথ উত্তর আটলান্টিক, আইসল্যান্ড ও স্পেনের কিছু অংশসহ উত্তর গোলার্ধের নির্দিষ্ট অঞ্চল দিয়ে অতিক্রম করবে। এটি ইউরোপের মূল ভূখণ্ডে ১৯৯৯ সালের পর প্রথম পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ।
চাঁদের ছায়ার সবচেয়ে ঘন অংশ বা ‘উম্ব্রা’ যে সরু পথ দিয়ে অতিক্রম করবে, সেই পথের পর্যবেক্ষকেরাই পূর্ণগ্রাস দেখতে পারবেন। এই পথের মধ্যে রয়েছে গ্রিনল্যান্ডের কিছু অংশ, আইসল্যান্ড এবং স্পেনের উত্তরাঞ্চল। অন্যদিকে ইউরোপের বিস্তৃত অঞ্চল, উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকা এবং উত্তর আমেরিকার কিছু অংশ থেকে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে।
কখন ও কোথায় পূর্ণগ্রাস দেখা যাবে
আইসল্যান্ডের পশ্চিমাঞ্চল ও রাজধানী রিকজাভিকের আশপাশ থেকে পূর্ণগ্রাস দেখার সুযোগ থাকবে। স্পেনের উত্তরাঞ্চলেও সূর্যাস্তের কাছাকাছি সময়ে পূর্ণগ্রাস দেখা যাবে। স্পেনের কিছু এলাকায় স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৮টার দিকে পূর্ণগ্রাস হওয়ার কথা রয়েছে। তবে সূর্য তখন দিগন্তের খুব কাছে থাকায় পরিষ্কারভাবে দেখা আবহাওয়ার ওপর অনেকটাই নির্ভর করবে।
বিশ্বব্যাপী গ্রহণটি শুরু হবে ১৫:৩৪ ইউটিসির দিকে। পূর্ণগ্রাসের সর্বোচ্চ স্থায়িত্ব প্রায় ২ মিনিট ১৮ সেকেন্ড।
যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড, ফ্রান্স, ইতালিসহ ইউরোপের অনেক দেশ থেকে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকা এবং উত্তর আমেরিকার উত্তরাঞ্চলের কিছু এলাকাতেও আংশিক গ্রহণ দৃশ্যমান হবে।
পূর্ণগ্রাস ও বলয়গ্রাসের পার্থক্য
চাঁদ যখন পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এসে সূর্যের পুরো চাকতিকে ঢেকে ফেলে, তখন তাকে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ বলা হয়। এ সময় পূর্ণগ্রাসের সরু পথে দিনের আলো অনেকটা কমে গিয়ে অন্ধকার নেমে আসতে পারে এবং সূর্যের বাইরের বায়ুমণ্ডল বা করোনা দেখা যায়।
অন্যদিকে চাঁদ যখন পৃথিবী থেকে তুলনামূলক দূরে থাকে, তখন আকাশে তার আপাত আকার সূর্যের চেয়ে ছোট দেখাতে পারে। ফলে সূর্যকে পুরোপুরি ঢাকতে না পারায় চারপাশে উজ্জ্বল আলোর একটি বলয় দেখা যায়। এটিই বলয়গ্রাস বা অ্যানুলার সূর্যগ্রহণ, যাকে সাধারণভাবে ‘রিং অব ফায়ার’ বলা হয়।
চাঁদের কক্ষপথ উপবৃত্তাকার হওয়ায় পৃথিবী থেকে তার দূরত্ব সবসময় সমান থাকে না। এ কারণেই গ্রহণের সময় চাঁদের আপাত আকারেও পরিবর্তন দেখা যায়।
চোখের সুরক্ষা জরুরি
সূর্যগ্রহণ দেখার সময় সরাসরি সূর্যের দিকে তাকানো উচিত নয়। গ্রহণ আংশিক হোক বা পূর্ণগ্রাসের আগে-পরে হোক, নিরাপদভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য অনুমোদিত সোলার ভিউয়িং গ্লাস বা সৌর পর্যবেক্ষণ ফিল্টার ব্যবহার করতে হবে। সাধারণ সানগ্লাস দিয়ে সূর্য দেখা নিরাপদ নয়।
বাংলাদেশে দেখা যাবে কি?
বাংলাদেশ থেকে ২০২৬ সালের ১২ আগস্টের এই সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে না। গ্রহণটি যখন বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার আকাশে হওয়ার কথা নয়, তখন দেশটির আকাশে সূর্যও দৃশ্যমান থাকবে না। ফলে বাংলাদেশের কোনো অঞ্চল থেকেই এ গ্রহণ সরাসরি দেখা সম্ভব হবে না।
তবে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্য প্রান্তের আকাশপ্রেমীরা অনলাইন লাইভস্ট্রিমের মাধ্যমে গ্রহণটি দেখতে পারবেন।
সামনে আরও যেসব পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ
২০২৭ সালের ২ আগস্ট আরেকটি পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। এর পূর্ণগ্রাসের পথ দক্ষিণ ইউরোপ, উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের কিছু অঞ্চল অতিক্রম করবে। এরপর ২০২৮ সালের ২৬ জানুয়ারি দেখা যাবে বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ।
অর্থাৎ, ২০২৬ থেকে ২০২৮—টানা তিন বছর ইউরোপ ও আশপাশের অঞ্চলের আকাশে সূর্যগ্রহণ নিয়ে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে প্রতিটি গ্রহণের দৃশ্যমানতা নির্ভর করবে নির্দিষ্ট স্থান, সময় এবং আবহাওয়ার ওপর।



