tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদসারাদেশরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে এমপি পদ হারানোর শঙ্কা

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে এমপি পদ হারানোর শঙ্কা

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যরা নিজ দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে অন্য প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকায় কোনো সংসদ সদস্য দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দিলে তাঁর সংসদ সদস্য পদ বাতিল হবে।

মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

আগামী ২০ আগস্ট দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর ওই দল থেকে পদত্যাগ করলে তাঁর সংসদীয় আসন শূন্য হবে। একইভাবে, সংসদে কোনো সংসদ সদস্য নিজ দলের বিরুদ্ধে ভোট দিলেও তাঁর আসন শূন্য হওয়ার বিধান রয়েছে। তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এই অনুচ্ছেদ প্রযোজ্য হবে কি না, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে মতভেদ রয়েছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে চিফ হুইপ বিষয়টি পরিষ্কার করেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে নূরুল ইসলাম জানান, ২০ আগস্ট বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদ কক্ষে ভোট গ্রহণ চলবে। সংসদ সদস্যরা তাঁদের বিভক্তি সংখ্যার ভিত্তিতে ভোট দেবেন। রাষ্ট্রপতি, সংসদ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা এবং ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ভোট দেওয়ার সময় তা টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। ভোট গণনা থেকে শুরু করে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াও সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

বিএনপির প্রার্থী কবে চূড়ান্ত হবে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করলে সবাই বিষয়টি জানতে পারবেন। মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়ই প্রার্থীর বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

ভোটের দিন সংসদ কক্ষে বৈঠক আহ্বান করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)। সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনে বসবেন এবং নির্বাচনী কর্তা হিসেবে সিইসি ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়া উচিত ছিল। গণভোটের রায়ও যেহেতু সংস্কারের পক্ষে এসেছে, তাই ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কার করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা যেত। এতে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি আরও বেশি সম্মানিত ও গ্রহণযোগ্য হতেন।

তবে নির্বাচন যেহেতু অনুষ্ঠিত হচ্ছে, এটিকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হতে দিতে চান না বলে জানান নাহিদ ইসলাম। এ কারণে অলি আহমদকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এর আগে জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে একটি প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম, বিরোধীদলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এবং হুইপ জি কে গউছ, রকিবুল ইসলাম বকুল, মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপু, আখতারুজ্জামান মিয়া ও এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদও সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সংসদ সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষ ব্যবহার, প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান এবং সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচন উপলক্ষে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা ও প্রস্তুতি সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নির্বাচনী কর্তার দায়িত্ব পালন করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)। তাঁর তত্ত্বাবধানে ভোট গ্রহণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। স্পিকার, প্রধানমন্ত্রীসহ জাতীয় সংসদের অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার হিসেবে বিবেচিত হন।