tanaka
প্রচ্ছদসারাদেশযবিপ্রবির ৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পরিবহন সংকট, মেহেরুল্লাহনগরে ট্রেন থামানোর দাবি

যবিপ্রবির ৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পরিবহন সংকট, মেহেরুল্লাহনগরে ট্রেন থামানোর দাবি

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ৬ হাজারের বেশি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম রেলপথ। তবে ক্যাম্পাস থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে মেহেরুল্লাহনগর রেলস্টেশন থাকলেও সেখানে কোনো আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি নেই। ফলে বাধ্য হয়ে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দূরের যশোর জংশন থেকে ট্রেনে যাতায়াত করতে হচ্ছে তাদের।

এতে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি রাতে যাতায়াতের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। দীর্ঘদিনের এই সমস্যা সমাধানে মেহেরুল্লাহনগর স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি চালুর দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ বিষয়ে গত ১২ আগস্ট সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগে চিঠিও পাঠানো হয়েছে।

যশোর শহর থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দূরে যশোর-চৌগাছা সড়কের আমবটতলায় অবস্থিত যবিপ্রবি। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৮টি বিভাগ, আটটি অনুষদ, দুটি ইনস্টিটিউট, ছয়টি আবাসিক হল ও ২৪টি দপ্তর রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে ৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী রয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াতের জন্য বাসের পাশাপাশি রেলও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। কিন্তু কাছেই মেহেরুল্লাহনগর স্টেশন থাকা সত্ত্বেও সেখানে একটি মেইল ট্রেন ছাড়া কোনো আন্তঃনগর ট্রেন থামে না। ফলে যাত্রীদের যশোর জংশনে যেতে হয়।

শিক্ষার্থীরা জানান, বিশেষ করে রাতে ট্রেনে যাতায়াতের সময় সমস্যাটি আরও প্রকট হয়। যশোর জংশনে ট্রেন থেকে নামার পর ক্যাম্পাসে ফিরতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। গভীর রাতে পর্যাপ্ত যানবাহন না পাওয়ায় নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়। নারী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে বলে জানান তারা।

যবিপ্রবির জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী সাকিবুল হাসান বলেন, ক্যাম্পাসের এত কাছে স্টেশন থাকা সত্ত্বেও আন্তঃনগর ট্রেন সেখানে থামে না। ফলে শিক্ষার্থীদের প্রায় ১৩ কিলোমিটার দূরে গিয়ে ট্রেনে উঠতে হয়। মেহেরুল্লাহনগর স্টেশনের প্রয়োজনীয় সংস্কার ও আধুনিকায়ন করে সেখানে উপযুক্ত আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি চালু করা হলে শিক্ষার্থীদের সময়, অর্থ ও ভোগান্তি কমবে।

রাজশাহীর শিক্ষার্থী নাইম প্রামাণিক বলেন, বাড়ি যাওয়া-আসার জন্য তাকে নিয়মিত ট্রেনে যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু যশোর জংশন থেকে ক্যাম্পাসে যেতে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ লাগে। বিশেষ করে রাতে ট্রেনে যশোরে পৌঁছালে ক্যাম্পাসে ফেরাটা বেশ কষ্টকর হয়ে পড়ে। মেহেরুল্লাহনগর স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেন থামলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা শিক্ষার্থীদের যাতায়াত অনেক সহজ হবে।

যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের যাতায়াতের দুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি মেহেরুল্লাহনগর স্টেশনে আন্তঃনগরসহ সব ধরনের ট্রেনের যাত্রাবিরতি চালু করা জরুরি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, গবেষণা, প্রশাসনিক ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনে নিয়মিত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু কার্যকর রেল যোগাযোগের সুবিধা না থাকায় তাদের প্রায় ১৩ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে যশোর জংশনে যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি অনেক সময় নির্ধারিত সময়ে স্টেশনে পৌঁছানো সম্ভব হয় না এবং ট্রেনও হাতছাড়া হয়ে যায়।

মেহেরুল্লাহনগর স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি চালু হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি আশপাশের এলাকার সাধারণ যাত্রীরাও উপকৃত হবেন বলে মনে করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।