পাবনা, ২৫ অক্টোবর: ২০২৭ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির মধ্যে বহুল আলোচিত পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। মন্ত্রীর মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় সাত কোটি মানুষ উপকৃত হবেন এবং ওই অঞ্চলের আর্থসামাজিক উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে পাবনার সুজানগর উপজেলার সাতবাড়িয়া কাঞ্চন পার্ক এলাকায় পদ্মা নদীর তীরে প্রস্তাবিত ব্যারেজ নির্মাণের স্থান পরিদর্শন করেন পানিসম্পদমন্ত্রী। পরিদর্শন শেষে প্রকল্পের কারিগরি বিষয় নিয়ে আয়োজিত আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
আলোচনায় অতীতের সরকারের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার না দিয়ে আগের সরকার অন্য দেশের ইঙ্গিতে পরিচালিত হয়েছে। সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা ও সদিচ্ছার অভাবে তারা বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ২০১৬ সালে তিস্তা ব্যারাজসহ বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্প নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের অভাব ও সদিচ্ছা না থাকায় সেগুলো বাস্তবায়িত হয়নি। তার ভাষ্য, অনির্বাচিত সরকারের পক্ষে বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা কঠিন। বর্তমান নির্বাচিত সরকার দেশের স্বার্থ ও জনগণের অধিকারকে গুরুত্ব দিয়ে পদ্মা ব্যারেজের মতো বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।
সরকার গঠনের আড়াই মাসের মধ্যেই এমন একটি উচ্চাভিলাষী উদ্যোগ নেওয়াকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, প্রকল্পটি সফল করতে সরকার দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করছে। প্রথম পর্যায়ে এর জন্য প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়সহ পুরো প্রকল্পের ব্যয় দাঁড়াতে পারে ৫০ হাজার থেকে ৫৫ হাজার কোটি টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আনুমানিক সাত বছর সময় লাগবে, যদিও পরিস্থিতি অনুযায়ী সময় কিছুটা কমবেশি হতে পারে।
প্রকল্পের সম্ভাব্য সুফল সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, প্রকল্প পরিচালক ও সংশ্লিষ্টদের হিসাব অনুযায়ী, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় সাত কোটি মানুষ এর সুবিধা পাবেন। এতে দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চনা ও ক্ষতির মুখে থাকা ওই অঞ্চলের মানুষের জীবনমান এবং আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
কারিগরি আলোচনায় প্রকল্প পরিচালক হাসান মাহমুদ বলেন, নদীর গভীরতা পরিবর্তিত হওয়ায় ২০১৬ সালে তৈরি পদ্মা ব্যারেজের নকশায় অবস্থানগত কিছু সংশোধন আনতে হয়েছে। আগামী দেড় বছরের মধ্যে প্রকল্পের সব সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, ব্যারেজের উজানে প্রায় ১৬৫ কিলোমিটার নদী এলাকায় পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। এতে পানির চাপ ও উচ্চতা বাড়তে পারে। সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখে পাবনাসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার শহর রক্ষা বাঁধের উচ্চতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ও প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে ব্যারেজের ৭৮টি গেটই খোলা রাখা হবে। ফলে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা থাকবে না বলে জানান তিনি।
পরিদর্শন ও আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম রেজা হাবিব, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব এবং সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আরেফা সুলতানা রুমা।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. একেএম শাহাবুদ্দিন, প্রকল্প পরিচালক হাসান মাহমুদ, পাবনার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম, পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ, পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার, বেড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।



