tanaka

ডিসেম্বর ঘিরে রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা চলছে নানা হিসাব-নিকাশ

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই মুহূর্তে সবচেয়ে আলোচিত শব্দগুলোর একটি ‘ডিসেম্বর’। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকমোদীর আমলে ১৫২ বার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ আনলেন রাহুল গান্ধী

মোদীর আমলে ১৫২ বার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ আনলেন রাহুল গান্ধী

লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর গত ১০ বছরের শাসনামলে কেন্দ্র ও বিভিন্ন রাজ্যের মোট ১৫২টি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। তাঁর দাবি, এসব ঘটনার কারণে প্রায় সাড়ে সাত কোটি পরীক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ঘটনারই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি বা দোষী সাব্যস্ত হওয়ার নজির নেই।

বুধবার (২২ জুলাই) নয়াদিল্লির কোটলা মার্গে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রাহুল বলেন, ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা এখন একটি ‘কারচুপিপূর্ণ ও অনিয়মে ভরা ব্যবস্থা’তে পরিণত হয়েছে।

সাম্প্রতিক প্রশ্নফাঁসের ঘটনা, বিশেষ করে নিট (NEET) পরীক্ষাকে ঘিরে বিতর্ক এবং দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সময় কংগ্রেস তিনটি দাবি তুলে ধরে—কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনা।

রাহুল বলেন, “শিক্ষার্থীরা সন্ত্রাসবাদী নন। তারা নিজেদের অধিকারের দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছে। তাদের ওপর লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, মোদী সরকারের সময় দেশের শিক্ষাব্যবস্থা পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করে ফেলা হয়েছে এবং এর ফলে লাখো শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার ক্ষতির মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনায় আরএসএসের প্রভাব বেড়েছে এবং পুরো ব্যবস্থাকে ‘রিগড’ বা কারচুপিপূর্ণ করে তোলা হয়েছে।

রাহুলের ভাষায়, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান “দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ অযোগ্য” এবং প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় তাঁর নৈতিক দায় রয়েছে।

সোমবার দিল্লিতে নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনার পর মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি বাসভবনের সামনে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে আটক হন রাহুল গান্ধী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রা, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবসহ বিরোধী জোটের নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে রাহুল দাবি করেন, আটক করার সময় এক পুলিশ সদস্য তাঁর কানে ফিসফিস করে বলেছিলেন, “এই সরকারের পতন ঘটান।”

পুলিশি ধস্তাধস্তিতে নিজের নাক দিয়ে রক্ত পড়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমার সঙ্গে আরও কঠোর আচরণ করা হলেও আপত্তি নেই। কিন্তু শিক্ষার্থীদের ওপর যেন কোনো ধরনের নির্যাতন না হয়, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”

রাহুলের অভিযোগ, শিক্ষাখাতকে বাণিজ্যিক খাতে পরিণত করার ফলেই প্রশ্নফাঁসের মতো অনিয়ম বারবার ঘটছে। তিনি বলেন, কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা এবং শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে সংসদ থেকে রাজপথ—সব জায়গায় আন্দোলন চালিয়ে যাবে। সূত্র: আনন্দবাজার