ভারতের ত্রিপুরা থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে ফেনীর মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। অতিরিক্ত পানির চাপ দ্রুত বঙ্গোপসাগরে নিষ্কাশনের লক্ষ্যে মুহুরী সেচ প্রকল্পের সবগুলো অর্থাৎ ৪০টি রেগুলেটর গেট খুলে দিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
পাউবো সূত্র জানায়, দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই পানি নিয়ন্ত্রণ কাঠামোটি মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের প্রধান ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে। বিশেষ করে ভারতের ত্রিপুরা থেকে নেমে আসা উজানের পানির চাপ নিয়ন্ত্রণে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বর্তমানে প্রকল্পের সব রেগুলেটর গেট খোলা থাকায় নদীগুলোর অতিরিক্ত পানি দ্রুত সাগরে চলে যাচ্ছে এবং ফেনী নদীর পানির স্তর এখনও স্বাভাবিক রয়েছে।
তবে জোয়ারের সময় বঙ্গোপসাগর থেকে যাতে উল্টো স্রোতে পানি প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিন গড়ে দুইবার প্রায় দুই ঘণ্টার জন্য গেটগুলো বন্ধ রাখা হয়। জোয়ার শেষ হলে পুনরায় সব গেট খুলে দিয়ে পানি নিষ্কাশন অব্যাহত রাখা হচ্ছে।
ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, “উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় প্রকল্পের সব রেগুলেটর গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। জোয়ারের সময় ছাড়া সারাদিনই পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।”
মুহুরী সেচ প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৯৭৭-৭৮ অর্থবছরে এবং ১৯৮৫-৮৬ অর্থবছরে ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় এর নির্মাণ শেষ হয়। ফেনী, মুহুরী ও কালিদাস পাহালিয়া নদীর সম্মিলিত প্রবাহের ওপর বাঁধ নির্মাণ করে ৪০ ফটকবিশিষ্ট এই পানি নিয়ন্ত্রণ কাঠামো গড়ে তোলা হয়। সিডা (SIDA), ইইসি (EEC) ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে জাপানের শিমিজু কোম্পানি প্রায় ১৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে।
প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো ফেনী সদর, ছাগলনাইয়া, পরশুরাম, ফুলগাজী, সোনাগাজী এবং চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার একাংশকে বর্ষা মৌসুমের বন্যার ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দেওয়া এবং আমনসহ বিভিন্ন ফসলের জন্য সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা। বর্তমানে এই প্রকল্পের মাধ্যমে ২০ হাজার ১৯৪ হেক্টর জমিতে সরাসরি এবং আরও ২৭ হাজার ১২৫ হেক্টর জমিতে সম্পূরক সেচ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।



