লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে কাতারপ্রবাসী এক যুবককে বিয়ের দাবিতে তার বাড়ির সামনে টানা ছয় দিন অবস্থান করা এক তরুণীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের তদন্তে ওই তরুণীর পরিচয় রাহেনা আক্তার (২৪) হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। এর আগে তিনি নিজের নাম ফাতেমা আক্তার এবং ঠিকানা হিসেবে যে তথ্য দিয়েছিলেন, যাচাইয়ে সেগুলো সঠিক পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শনিবার থেকে রামগঞ্জ উপজেলার ৫ নম্বর চণ্ডীপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের উদ্য পাটোয়ারী বাড়িতে কাতারপ্রবাসী ইমন হোসেনের বাড়ির সামনে অবস্থান নেন রাহেনা। তার দাবি, ইমনের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। পরে ইমন সেই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রাহেনার ভাষ্য, কাতারে থাকা অবস্থায় মোবাইল ফোনে ইমনের সঙ্গে তার পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। রমজান মাসে দেশে ফিরে তাকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন ইমন। তবে দেশে ফেরার পর বিয়ে না করেই তিনি আবার কাতারে চলে যান বলে দাবি করেন ওই তরুণী।
বাড়ির সামনে অবস্থানের সময় ইমন তাকে বিয়ে না করলে আত্মহত্যা করার হুমকিও দিয়েছিলেন রাহেনা। এর আগে ঘুমের ওষুধ সেবন করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।
সম্পর্কের অভিযোগ অস্বীকার ইমনের
তবে রাহেনার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন কাতারপ্রবাসী ইমন হোসেন। একাধিক ভিডিও বার্তায় তিনি দাবি করেন, ওই তরুণীর সঙ্গে তার কোনো প্রেমের বা অন্য কোনো সম্পর্ক ছিল না। রাহেনার সব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলেও দাবি করেন তিনি।
ইমন আরও অভিযোগ করেন, তার পরিবারকে হয়রানি এবং সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যেই রাহেনা বারবার বাড়িতে এসে অবস্থান করছেন। তাকে গ্রেফতার করায় রামগঞ্জ থানা পুলিশকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন তিনি।
ইমনের মা-ও ছেলের সঙ্গে রাহেনার কোনো প্রেমের সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, প্রবাসে থাকার সময় কিছুদিন মোবাইল ফোনে কথা বলার বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই ওই নারী তাদের পরিবারকে হয়রানি করছেন।
তিনি জানান, এর আগেও কয়েকবার রাহেনা একইভাবে তাদের বাড়িতে এসে অবস্থান নিয়েছেন। এতে পরিবারকে নানা ধরনের ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়েছে।
আগেও একই বাড়িতে অবস্থানের অভিযোগ
রামগঞ্জ থানা পুলিশ জানিয়েছে, এর আগেও রাহেনা ইমনের বাড়িতে এসে বিয়ের দাবিতে অবস্থান করেছিলেন। সে সময় পুলিশকে দেওয়া তার নাম, পরিচয় ও ঠিকানা যাচাই করে সঠিক পাওয়া যায়নি।
রামগঞ্জ থানার ওসি ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, বারবার জিজ্ঞাসা করেও তার সঠিক নাম-ঠিকানা জানা সম্ভব হয়নি। পরে ফেনীর ছাগলনাইয়া থানা পুলিশের মাধ্যমে দেওয়া পরিচয় যাচাই করা হলেও তা সঠিক নয় বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আগের ঘটনায় রাহেনাকে থানা হেফাজতে নেওয়ার পর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছিল। পরে আদালত তাকে নিজ জিম্মায় ছেড়ে দেন।
আগেও দুটি বিয়ের তথ্য পেয়েছে পুলিশ
পুলিশ ও স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্যের বরাতে জানা গেছে, রাহেনা আক্তারের আগে দুটি বিয়ে হয়েছে। একই ধরনের ঘটনায় বিভিন্ন ব্যক্তিকে হয়রানির অভিযোগের বিষয়েও তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সবশেষে ইমন হোসেনকে বিয়ের দাবিতে টানা ছয় দিন তার বাড়ির সামনে অবস্থান করার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।



