tanaka

ফ্যামিলি কার্ডে দারিদ্র্য কমতে পারে ৫ শতাংশ, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সংস্কারের তাগিদ

দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং ব্যাংকিং খাতের অনিয়মের প্রভাবে চাপে রয়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। এ পরিস্থিতিতে নিম্ন আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখা ও দারিদ্র্য কমাতে...
প্রচ্ছদখেলাআর্জেন্টিনার কিংবদন্তি অধিনায়ক আন্তোনিও রাট্টিন আর নেই

আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি অধিনায়ক আন্তোনিও রাট্টিন আর নেই

আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক ও কিংবদন্তি মিডফিল্ডার আন্তোনিও উবালদো রাট্টিন মারা গেছেন। শনিবার (১১ জুলাই) ৮৯ বছর বয়সে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

রাট্টিনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। এক শোকবার্তায় সংস্থাটি আর্জেন্টাইন ফুটবলে তার অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করে শ্রদ্ধা জানিয়েছে।

ক্লাব ক্যারিয়ারে রাট্টিন ছিলেন আর্জেন্টাইন ফুটবলের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব বোকা জুনিয়র্সের ইতিহাসের অন্যতম সেরা অধিনায়ক। মাত্র ১৯ বছর বয়সে ক্লাবটির যুব একাডেমি থেকে মূল দলে অভিষেকের পর টানা ১৫ বছর নীল-হলুদ জার্সিতে মাঠ মাতিয়েছেন তিনি। বোকার হয়ে ৩৮২টি ম্যাচ খেলেন, যার প্রতিটিতেই ছিলেন শুরুর একাদশে। তার নেতৃত্বে ক্লাবটি ১৯৬২, ১৯৬৪ ও ১৯৬৫ সালে লিগ শিরোপা এবং ১৯৬৯ সালে কোপা আর্জেন্টিনা জিতে নেয়।

জাতীয় দলের হয়েও ছিলেন সমান নির্ভরযোগ্য। ১৯৫৯ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত আর্জেন্টিনার হয়ে খেলেছেন রাট্টিন। অংশ নিয়েছেন ১৯৬২ সালের চিলি বিশ্বকাপ এবং ১৯৬৬ সালের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে। আলবিসেলেস্তেদের জার্সিতে তিনি মোট ৩৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেন এবং একটি গোল করেন। বিশ্বকাপে পাঁচটি ও কোপা আমেরিকায় তিনটি ম্যাচে মাঠে নামেন এই রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার।

তবে ফুটবল ইতিহাসে রাট্টিন সবচেয়ে বেশি স্মরণীয় হয়ে আছেন ১৯৬৬ সালের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের একটি বিতর্কিত ঘটনার জন্য। স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে জার্মান রেফারি রুডলফ ক্রাইটলাইন তাকে মাঠ থেকে বহিষ্কার করেন। সে সময় লাল বা হলুদ কার্ডের প্রচলন না থাকায় মৌখিক নির্দেশেই তাকে মাঠ ছাড়তে বলা হয়। সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ রাট্টিন প্রায় ১০ মিনিট মাঠে অবস্থান করেন। পরে মাঠ ছাড়ার সময় কর্নার ফ্ল্যাগে থাকা ব্রিটিশ পতাকা চেপে ধরা এবং রাজকীয় অতিথিদের জন্য সংরক্ষিত লাল কার্পেটে বসে পড়ার ঘটনা ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।

ফুটবল ইতিহাসবিদদের মতে, ওই ঘটনার পর ম্যাচ পরিচালনায় স্বচ্ছতা আনতে ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপ থেকে লাল ও হলুদ কার্ড ব্যবহারের প্রথা চালু করা হয়।

‘এল রাতা’ নামে পরিচিত রাট্টিন তার দৃঢ় নেতৃত্ব, লড়াকু মানসিকতা এবং রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবে অসাধারণ নৈপুণ্যের জন্য আজও ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে অমলিন। তার মৃত্যুতে বিশ্ব ফুটবল অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।