tanaka
প্রচ্ছদসারাদেশমাগুরায় বিএনপির দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি স্থগিত

মাগুরায় বিএনপির দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি স্থগিত

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা ও প্রশাসনের আশ্বাসের পর মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা বিএনপির দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি স্থগিত হয়েছে। দুই পক্ষের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর পাশাপাশি লাঠিসোঁটা নিয়ে প্রস্তুতির খবর ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মাগুরা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর বিরুদ্ধে কৃষকদের জন্য বরাদ্দ সার-বীজ আত্মসাৎ, সরকারি ধান সংগ্রহে সিন্ডিকেট, পছন্দের ব্যক্তিদের ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় এবং মাদক ব্যবসায়ীদের পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ তুলে আসছিল বিএনপির একটি অংশ।

এসব অভিযোগের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক রবিউল ইসলাম নয়ন সমর্থিত নেতাকর্মীরা রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেল ৩টায় মহম্মদপুর উপজেলার ধোয়াইল বাজার থেকে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে, একই দিনে মহম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সরকারের ১৮০ দিনের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড জনগণের সামনে তুলে ধরতে সমাবেশের আয়োজন করেন নিতাই রায় চৌধুরীর সমর্থকরা।

দুই পক্ষের একই সময়ে কর্মসূচি ঘিরে নেতাকর্মীদের ব্যাপক জমায়েত এবং লাঠিসোঁটা প্রস্তুতের খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে শনিবার রাতে মাগুরা জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে উভয় পক্ষকে কর্মসূচি স্থগিতের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এরপর নিতাই রায় চৌধুরী সমর্থিতরা সংবাদ সম্মেলন করে তাদের কর্মসূচি বাতিলের ঘোষণা দেন। তবে রবিউল ইসলাম নয়ন সমর্থিত নেতাকর্মীরা রোববার দুপুরের আগেই মিছিল নিয়ে মহম্মদপুর উপজেলা সদরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিকেল ৩টার দিকে মহম্মদপুরে পৌঁছান মাগুরা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী আহমদ। তিনি বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা এবং প্রশাসনের দেওয়া আশ্বাসের কথা জানান। এরপর নেতাকর্মীরা তাদের বিক্ষোভ কর্মসূচি স্থগিত করেন।

আলী আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা পাওয়ার পর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। সেখানে কথিত সিন্ডিকেটের অভিযোগসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যক্রমে নিরপেক্ষতা বজায় রাখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রশাসনের এই আশ্বাসের বিষয়টি বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের জানানো হলে তারা পরিস্থিতি বিবেচনায় কর্মসূচি স্থগিত করতে সম্মত হন।