হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর এলাকায় সংস্কারাধীন খোয়াই নদীর বাঁধে ফের ভাঙন দেখা দিয়েছে। রোববার দুপুরে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি দ্রুত বাড়লে বাঁধের মেরামতাধীন অংশটি ভেঙে যায়। এতে প্রবল স্রোতে হাওড়ে পানি ঢুকতে শুরু করেছে।
স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তারা জানান, হাওড়ের বিস্তীর্ণ এলাকায় আমন ধান চাষ করা হয়েছে। পানি দ্রুত বাড়তে থাকলে এসব ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা জাকির হোসেন বলেন, কয়েক সপ্তাহ আগে একই স্থানে বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছিল। পরে সেটি সংস্কারের কাজ শুরু হলেও ধীরগতিতে কাজ চলছিল। রোববার হঠাৎ নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় মেরামতাধীন অংশটি আবার ভেঙে যায়। তার দাবি, ওই এলাকায় কৃষকদের প্রায় ১ হাজার ২০০ বিঘা জমিতে আমন ধান রোপণ করা হয়েছে।
বনগাঁও গ্রামের বাসিন্দা মাসুক মিয়া বাঁধটি টেকসইভাবে সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। তার অভিযোগ, দুর্বলভাবে সংস্কার করা হলে ভবিষ্যতে আবারও একই স্থানে ভাঙনের আশঙ্কা থাকবে।
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, প্রায় দুই মাস আগে ওই স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছিল। পরে নদীর মাটি ব্যবহার করে বাঁধটি মেরামত করা হয়। কিন্তু সেটি স্থায়ী না হওয়ায় ফের ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত পানি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে হাওড়ের বড় অংশ তলিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
বিপৎসীমার ৫ ফুট ওপরে পানি
হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান জানান, গত দুই দিন ধরে ভারতের ত্রিপুরায় ব্যাপক বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এর ফলে পাহাড়ি ঢল নেমে খোয়াই নদীর পানি দ্রুত বেড়ে যায়।
রোববার দুপুর দেড়টার দিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বাল্লা পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার প্রায় ১৫০ সেন্টিমিটার বা ৫ ফুট ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তবে পরে পানির উচ্চতা কিছুটা কমতে শুরু করেছে বলে জানান তিনি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই কর্মকর্তা বলেন, রাতে পানির উচ্চতা আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সোমবারের মধ্যে পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। পানি কমলেই বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এর আগেও তলিয়ে গিয়েছিল কয়েকটি গ্রাম
এর আগে জুলাই মাসেও হবিগঞ্জ ও ভারতের ত্রিপুরায় ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে খোয়াই নদীতে ভয়াবহ পানি বৃদ্ধি পেয়েছিল। সে সময় নদীর পানি বিপৎসীমার সর্বোচ্চ ২২০ সেন্টিমিটার ওপরে উঠে যায়।
গত ৯ জুলাই রাতে সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালিগঞ্জ এলাকায় বাঁধে ভাঙন দেখা দিলে অন্তত ২০টি গ্রামের বাড়িঘর পানিতে প্লাবিত হয়। একই সঙ্গে হাওড়ের বিস্তীর্ণ এলাকার ফসল ও সবজি পানিতে ডুবে যায়।
পরে নদীর পানি কমে গেলে জাতীয় সংসদের হুইপ জিকে গউছের উদ্যোগে পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধটি সংস্কারের কাজ শুরু করে। সংস্কারকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছানোর সময়ই ফের পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি বেড়ে রোববার বাঁধের ওই অংশে ভাঙন দেখা দেয়। এতে নতুন করে হাওড়ে পানি প্রবেশ করছে।



