tanaka
প্রচ্ছদলাইফষ্টাইলবিনোদনমন্টেসিটো ছাড়ার সিদ্ধান্তে আবেগী মেগান, ‘আমেরিকা ছেড়ে আসা সহজ ছিল না’

মন্টেসিটো ছাড়ার সিদ্ধান্তে আবেগী মেগান, ‘আমেরিকা ছেড়ে আসা সহজ ছিল না’

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেসিটো ছেড়ে যুক্তরাজ্যে নতুন করে বসতি গড়ার সিদ্ধান্ত সহজ ছিল না বলে জানিয়েছেন মেগান মার্কেল। সাবেক এই মার্কিন অভিনেত্রীর কাছে মন্টেসিটোর বাড়িটি শুধু একটি বাসস্থান নয়, বরং রাজপরিবারের জীবন থেকে বেরিয়ে আসার পর হ্যারি ও সন্তানদের নিয়ে গড়ে তোলা একটি নিরাপদ আশ্রয়ের স্মৃতি।

প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেল ২০১৮ সালে বিয়ে করেন। এর দুই বছর পর ২০২০ সালে তারা ব্রিটিশ রাজপরিবারের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। এরপর সন্তান আর্চি ও লিলিবেটকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাস শুরু করেন। সম্প্রতি ২০২৬ সালের আগস্টে সন্তানদের নিয়ে যুক্তরাজ্যের কটসওয়াল্ডসে চলে গেছেন এই দম্পতি।

সামা টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মন্টেসিটো ছেড়ে যাওয়ার সঙ্গে তাদের বহু ব্যক্তিগত স্মৃতি জড়িয়ে থাকায় বিষয়টি মেগানের জন্য আবেগপূর্ণ ছিল। রাজপরিবার থেকে সরে আসার পর ওই বাড়িটিই ছিল হ্যারি-মেগানের নিজেদের কেনা প্রথম বাসস্থান। তাই জায়গাটিকে তারা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের ‘সেফ হ্যাভেন’ বা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে দেখেছেন।

মেয়ের জন্ম থেকে পারিবারিক স্মৃতি

মন্টেসিটোর বাড়িটির সঙ্গে মেগানের জীবনের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত জড়িয়ে আছে। সেখানেই তার মেয়ে লিলিবেটের জন্ম এবং প্রথম হাঁটতে শেখার স্মৃতি রয়েছে। ছেলে আর্চির সঙ্গে বাগানে হামিংবার্ড দেখা, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বারান্দায় বসে সকালের নাশতা—এসব ছোট ছোট মুহূর্তও মেগানের কাছে বিশেষ হয়ে আছে।

বাড়িটি ঘুরে দেখার সময় একটি ঘটনা মেগানের মনে বিশেষভাবে দাগ কেটেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হ্যারি একদিন বাগানে দুটি পামগাছকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত অবস্থায় দেখতে পান। সেই দৃশ্য দেখে মেগান হ্যারিকে জড়িয়ে ধরে গাছ দুটিকে তাদের সম্পর্কের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন।

মেগান আরও জানিয়েছেন, সন্তানরা এখনো ওই বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সেটিকে নিজেদের পারিবারিক স্মৃতির অংশ হিসেবে দেখে।

সন্তানদের শিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে পাড়ি

হ্যারি ও মেগানের যুক্তরাজ্যে ফেরার অন্যতম কারণ সন্তানদের পড়াশোনা। এ লক্ষ্যেই তারা কটসওয়াল্ডস অঞ্চলে নতুন জীবন শুরু করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক পুরোপুরি শেষ হয়ে যাচ্ছে না। ভবিষ্যতে আবারও সেখানে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

হ্যারির জন্যও নতুন অধ্যায়

রাজপরিবারের একটি সূত্র তাদের নতুন জীবনকে ‘ইংলিশ কান্ট্রিসাইড ড্রিম’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। যুক্তরাজ্যে ফেরার পর হ্যারি এবার রাজপরিবারের সক্রিয় সদস্য হিসেবে নয়, বরং তুলনামূলকভাবে সাধারণ জীবনযাপনের অভিজ্ঞতা পাবেন।

মন্টেসিটোর বাড়ি ছেড়ে এলেও সেখানকার স্মৃতি সঙ্গে নিয়েই যুক্তরাজ্যে নতুন অধ্যায় শুরু করছেন হ্যারি ও মেগান। তাদের জন্য এটি একদিকে পুরোনো জীবনের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি, অন্যদিকে সন্তানদের ভবিষ্যৎ ঘিরে নতুন পরিকল্পনার সূচনা।