পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় দেড় বছরের এক শিশুকে আইফোন কেনার জন্য এক লাখ টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বাবার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে শিশুটিকে বিক্রির বিনিময়ে টাকা নেওয়া এবং সেই অর্থ দিয়ে আইফোন কেনার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযুক্ত বাবা মো. মারুফ মুন্সি উপজেলার বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের বড় গোপালদী গ্রামের মফিজ মুন্সির ছেলে। পেশায় তিনি কাঠমিস্ত্রি। তার সন্তান মো. মুসার বয়স প্রায় দেড় বছর।
শিশুটির দাদি মাহফুজার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় চার বছর আগে মারুফ ঢাকার সাভার থেকে বৃষ্টি নামের এক তরুণীকে বিয়ে করে গ্রামে ফেরেন। বিয়ের প্রায় আড়াই বছর পর তাদের একটি ছেলে সন্তান হয়। তবে কয়েক মাস ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। প্রায় এক মাস আগে বৃষ্টি সন্তানকে রেখে বাবার বাড়ি চলে যান। পরে মারুফও শিশুটিকে দাদির কাছে রেখে ঢাকায় চলে যান।
দাদি জানান, ঢাকায় কিছুদিন অবস্থানের পর গত শুক্রবার সন্ধ্যায় মারুফ বাড়িতে ফেরেন। পরদিন শনিবার সকালে ছেলেকে বাজারে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। বের হওয়ার আগে মুসাকে সাজিয়ে দিতে নিজের মাকেও অনুরোধ করেন তিনি।
কিন্তু শিশুকে নিয়ে বাজারের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মারুফ আর বাড়িতে ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তাদের সন্ধান পাননি। পরে মারুফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, উপজেলার আলীপুরা ইউনিয়নের রমানাথসেন গ্রামের ইমরান নামের এক ব্যক্তির কাছে মুসাকে এক লাখ টাকায় দিয়ে দিয়েছেন।
পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই টাকা দিয়ে মারুফ একটি আইফোন কিনেছেন। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি।
শিশুটিকে নেওয়া ইমরান দাবি করেন, তার শ্বশুরের পাঁচ মেয়ে থাকলেও কোনো ছেলে নেই। এ কারণে তিনি লিখিতভাবে মারুফের কাছ থেকে শিশুটিকে নিয়েছেন বলে জানান।
দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, মারুফ ও ইমরান একই জায়গায় কাজ করেন এবং তাদের মধ্যে পরিচয় রয়েছে। সেই সম্পর্কের সূত্রেই মারুফ শিশুটিকে ইমরানের কাছে দিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে শিশুকে দেওয়ার বিনিময়ে টাকা লেনদেন হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ওসি আরও জানান, শিশুটি বর্তমানে গলাচিপা উপজেলার চরকাজলে রয়েছে। তাকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এক লাখ টাকা নিয়ে আইফোন কেনার অভিযোগও যাচাই করা হচ্ছে।



