বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ভূমিদস্যুদের কোনোভাবেই দুর্বল ভাবা যাবে না। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হলে যথাযথ পরিকল্পনা নিয়ে ধাপে ধাপে এগোতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চর পাইনা এলাকায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের রাজস্ব বাজেটের আওতায় অভ্যন্তরীণ জলাশয়ে রুইজাতীয় মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘ভূমিদস্যুদের হাত অনেক বড়। তারা উচ্চ সমাজে বাস করে। তাদের দুর্বল ভাবলে চলবে না।’
কেরানীগঞ্জ একসময় কৃষিপ্রধান এলাকা ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পের নামে কৃষকের জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। অনেক কৃষক জমি বিক্রি করেও পুরো অর্থ পাননি। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রকল্পের অনুমোদিত নকশার তুলনায় বেশি প্লট বিক্রির অভিযোগও পাওয়া যায়। এতে কৃষকের পাশাপাশি জমি কিনতে যাওয়া সাধারণ মানুষও প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।
তিনি বলেন, কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সময় প্রয়োজন। রাতারাতি কোনো পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। কাজ করতে গিয়ে নানা ধরনের বাধার মুখোমুখি হতে হয়। এমনকি সরকারি প্রশাসনের ওপরও বিভিন্ন ধরনের হুমকি আসতে পারে। তাই এসব সমস্যা সমাধানে ধৈর্যের পাশাপাশি পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
কৃষিজমি ও জলাভূমি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান গয়েশ্বর। তিনি বলেন, ভূমিদস্যুতার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি কৃষক ও সাধারণ জমির মালিকদের স্বার্থও নিশ্চিত করতে হবে।
জলাশয়ে ১৫০ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত
পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতে প্রায় ১৫০ কেজি রুইজাতীয় মাছের পোনা জলাশয়ে ছাড়া হয়। কেরানীগঞ্জ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওমর ফারুক, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা কারিশমা আহমেদ জাকসি, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপি নেতা খোরশেদ জমিদার, ইমানউল্লাহ, সামিউল্লাহসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।



