tanaka
প্রচ্ছদজাতীয়কলমের খোঁচায় যেন কারও জীবন, ক্যারিয়ার ও মানসম্মান নষ্ট না হয়: পার্থ

কলমের খোঁচায় যেন কারও জীবন, ক্যারিয়ার ও মানসম্মান নষ্ট না হয়: পার্থ

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেছেন, গণতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ গণমাধ্যম। সাংবাদিকদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সংবাদ পরিবেশন করতে হবে, যাতে তাদের লেখায় কারও জীবন, ক্যারিয়ার বা মানসম্মান অকারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভোলা প্রেস ক্লাবের হলরুমে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পার্থ বলেন, ‘মিডিয়া গণতন্ত্রের একটা স্তম্ভ। আমাদের কাজগুলো খারাপ করছি না ভালো করছি—সেগুলো আপনারা দেখবেন। আপনাদের এটাও মাথায় রাখতে হবে, আপনাদের কলমের খোঁচায় যেন কারও জীবন, ক্যারিয়ার ও মানসম্মান নষ্ট না হয়। এটা আপনাদের নৈতিক দায়িত্ব।’

তিনি বলেন, কোনো নীতিমালা করে মানুষকে নৈতিকভাবে ভালো করা যায় না। একজন সাংবাদিকের নিজস্ব নৈতিক বোধ থেকেই বুঝতে হবে, অর্ধসত্য, স্বল্পজ্ঞান বা অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত কোনো সংবাদ যেন কারও সুনাম বা পেশাগত জীবনে নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে। একইভাবে অযাচিত প্রশংসা থেকেও সাংবাদিকদের বিরত থাকা উচিত।

মন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্রের একটি স্তম্ভ হিসেবে সাংবাদিকদের দায়িত্ব আগের চেয়ে বেড়েছে। তাই সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই ও দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

‘সাংবাদিকরা সমালোচনা করবেন’

সাংবাদিকদের উদ্দেশে পার্থ বলেন, সরকারের কাজের সমালোচনা করতে হবে এবং কোথায় কাজ সঠিকভাবে হচ্ছে না, তা তুলে ধরতে হবে। একই সঙ্গে ভোলায় সরকারের দেওয়া বরাদ্দ ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, সেটিও সংবাদমাধ্যমকে জানাতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করবেন আমাদেরকে সাহায্য করার জন্য, যাতে আমরা সঠিকভাবে কাজটা করতে পারি। আপনি আমাকে পছন্দ করেন না, সেখান থেকে যেন সংবাদ না হয়। আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করব।’

সাইবার বুলিং নিয়ে উদ্বেগ

বর্তমানে সাইবার বুলিং ও ভুয়া তথ্যের প্রবণতা বাড়ছে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, মানুষ এখন সত্য সংবাদ দেখেও সেটি ফেক নিউজ কি না, তা যাচাই করে নেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় রাজনীতিবিদদেরও সহনশীলতার পরিসর বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, মানুষের হাতে এখন স্মার্টফোন রয়েছে। গণতন্ত্র ও বাক্‌স্বাধীনতার নামে গত দুই-তিন বছরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ভাষা ও আচরণ দেখা গেছে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতিকে খারাপ না বলে তিনি এটিকে পরিবর্তিত বাস্তবতা হিসেবে দেখার আহ্বান জানান।

ভোলায় মাদক নির্মূলে কমিউনিটি পুলিশিং

ভোলায় মাদককে অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে পার্থ বলেন, মাদকের কারণে তরুণ সমাজ ও সামাজিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিটি ইউনিয়নে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম জোরদার করে প্রশাসনকে সহযোগিতা করা প্রয়োজন।

মাদক কীভাবে ভোলায় প্রবেশ করছে, তা চিহ্নিত করতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি গঠনের কথাও জানান তিনি।

মতবিনিময় সভায় ভোলার সার্বিক উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ ও পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী।

ভোলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি নজরুল হকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন লিটনের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান ও পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার। এ ছাড়া জেলা বিজেপির সভাপতি আমিরুল ইসলাম রতন, সদস্য সচিব রাইসুল আলমসহ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের নেতারা বক্তব্য দেন।

সভায় প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।