tanaka
প্রচ্ছদরাজনীতিমির্জা আব্বাসের কান্নাভেজা বক্তব্যে নীরব সংসদ

মির্জা আব্বাসের কান্নাভেজা বক্তব্যে নীরব সংসদ

দীর্ঘ দুই দশক পর জাতীয় সংসদে ফিরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়লেন ঢাকা-৮ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস। তাঁর কান্নাজড়িত বক্তব্যের একপর্যায়ে সংসদকক্ষে নেমে আসে নীরবতা।

২০০৬ সালের পর এবারই প্রথম সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পেলেন মির্জা আব্বাস। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে বিজয়ী হওয়ার পর শারীরিক অসুস্থতার কারণে এতদিন কোনো অধিবেশনে অংশ নিতে পারেননি তিনি।

প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস বিদেশে চিকিৎসাধীন থাকার পর বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সংসদে যোগ দেন মির্জা আব্বাস। এদিন অসুস্থ শরীর নিয়ে হুইলচেয়ারে করে অধিবেশনকক্ষে প্রবেশ করেন তিনি। এতদিন সংসদে তাঁর জন্য নির্ধারিত চেয়ারটি ফাঁকাই ছিল।

স্বাগত বক্তব্য দেওয়ার জন্য স্পিকার তাঁর নাম ঘোষণা করলে হুইলচেয়ারে বসেই লিখিত বক্তব্য পড়া শুরু করেন মির্জা আব্বাস। বক্তব্যের একপর্যায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। ভারী হয়ে আসে তাঁর কণ্ঠ। এ সময় পুরো সংসদকক্ষে নেমে আসে নীরবতা।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আপনারা জানেন, আমি দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ মাস চিকিৎসাধীন ছিলাম। আজকের দিনটি আমার জীবনে একটি স্মরণীয় দিন। ২০০৬ সালের পর দীর্ঘ দুই দশক পর সংসদে কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। একজন সংসদ সদস্য হিসেবে এর চেয়ে আনন্দ ও গর্বের বিষয় আর কী হতে পারে?’

চিকিৎসাধীন থাকার সময় পাশে থাকার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর কার্যালয়, স্পিকার এবং সংসদ সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমি যখন অসুস্থ ছিলাম, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর কার্যালয় আমার সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রেখেছেন। মাননীয় স্পিকারও আমাকে দেখে এসেছেন। আপনাদের আন্তরিক আচরণ আমাকে স্পর্শ করেছে।’

নিজের নির্বাচনী এলাকার মানুষের জন্য কাজ করার আকাঙ্ক্ষার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি যেন আমার জনগণের জন্য কাজ করতে পারি, আল্লাহর কাছে এই দোয়া করি। আমি সব সংসদ সদস্যের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। আপনাদের সবার ভালোবাসা ও দোয়া এই কঠিন সময়ে আমাকে সাহস জুগিয়েছে।’

দীর্ঘ বিরতির পর সংসদে ফিরে আবেগঘন কণ্ঠে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘২০০৬ সালের পর এই সংসদে ফিরে এসে আমি বলতে চাই, আমি মানুষের মাঝে ফিরে এসেছি।’

সবশেষে নিজের সুস্থতা ও দেশের জন্য কাজ করার সুযোগ কামনা করে সবার কাছে দোয়া চান তিনি। মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমি যদি বেঁচে থাকি, যেন দেশের জন্য কিছু করতে পারি—আল্লাহর কাছে এই কামনা।’