tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদপরবাসভূমধ্যসাগরে ট্র্যাজেডি: সুনামগঞ্জের ৮ জনসহ ১৮ বাংলাদেশির মৃত্যু

ভূমধ্যসাগরে ট্র্যাজেডি: সুনামগঞ্জের ৮ জনসহ ১৮ বাংলাদেশির মৃত্যু

উত্তর আফ্রিকার লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিস যাওয়ার সময় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে ১৮ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলার ৮ জন রয়েছেন বলে জানা গেছে।

শনিবার (২৮ মার্চ) রাতে সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের পরিদর্শক (ডিআইও-১) মো. আজিজুর রহমান জানান, খোঁজ নিয়ে দিরাই ও জগন্নাথপুর উপজেলার আটজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বরাতে জানা যায়, দীর্ঘ যাত্রাপথে খাদ্য ও পানির তীব্র সংকটে অনেক যাত্রী দুর্বল হয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে একে একে তাদের মৃত্যু ঘটে। পরে পাচারকারীদের নির্দেশে মৃতদেহগুলো ভূমধ্যসাগরে ফেলে দেওয়া হয়।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দিরাই উপজেলার চারজন এবং জগন্নাথপুর উপজেলার চারজনের মৃত্যুর খবর তাদের পরিবার পেয়েছে। তবে এখনো বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। অনেকেই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে এ খবর জেনেছেন।

দিরাই উপজেলার নিহত চারজন হলেন—তারাপাশা গ্রামের নুরুজ্জামান সরদার ময়না (৩০), সাজিদুর রহমান (২৮), শাহান মিয়া (২৫) এবং রনারচর গ্রামের মুজিবুর রহমান (৩৮)। স্থানীয়ভাবে তাদের পরিচয় প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।

নিহতদের স্বজনদের অভিযোগ, তারাপাশা গ্রামের এক মানবপাচারকারীর সঙ্গে জনপ্রতি প্রায় ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে তারা লিবিয়া হয়ে গ্রিস যাওয়ার উদ্যোগ নেন। নিরাপদ বড় নৌযানে পাঠানোর আশ্বাস দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাদের ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় তোলা হয়।

এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের পরিবারের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে গ্রামগুলো। স্বজনরা দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং জড়িত মানবপাচার চক্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

স্থানীয় সাংবাদিক উমেদ আলী জানান, তার ভাগ্নে নুরুজ্জামান সরদার ময়না এ ঘটনায় নিহত হয়েছেন। একই নৌকায় থাকা জীবিত উদ্ধার হওয়া রোহান আহমেদ জানিয়েছেন, তার চোখের সামনেই অনেকের মৃত্যু হয় এবং মরদেহ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়।

দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জিব সরকার বলেন, নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করা হয়নি। স্থানীয়ভাবে খবর পাওয়া গেলেও বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার জানান, নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে দিরাইয়ের চারজন থাকার তথ্য পাওয়া গেছে, তবে এখনো তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়।