পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা ৪০ দিনের ছুটি শেষে আজ রোববার (২৯ মার্চ) থেকে দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবারও শুরু হয়েছে পুরোদমে পাঠদান ও একাডেমিক কার্যক্রম।
একই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও ক্লাস ও পরীক্ষা পুনরায় চালু হওয়ায় শিক্ষাঙ্গনে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য। তবে দীর্ঘ বিরতির পর প্রতিষ্ঠান খোলার এই প্রক্রিয়াকে সুশৃঙ্খল ও স্বাস্থ্যসম্মত রাখতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা হয়েছে বেশ কিছু নির্দেশনা।
মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মুহাম্মদ হেলাল চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঈদুল ফিতর ২০২৬-এর ছুটি শেষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার আগেই ক্যাম্পাস ও শ্রেণিকক্ষের সার্বিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে।
নির্দেশনায় আরও উল্লেখ করা হয়, এই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুধু খোলার দিনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না; বরং সারা বছরই তা নিয়মিতভাবে বজায় রাখতে হবে। প্রতিদিন শ্রেণিকক্ষ ও আশপাশের পরিবেশ তদারকির পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানভিত্তিক পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা ও দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে প্রতি সপ্তাহে অন্তত একদিন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ, বিদ্যমান বাগানের নিয়মিত পরিচর্যা এবং শিক্ষার্থীদের পরিবেশ বিষয়ে সচেতন করে তুলতে উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম চালানোর কথাও বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, উচ্চশিক্ষা পর্যায়েও আজ থেকে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক হচ্ছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার গত ৯ মার্চ থেকে দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছিল।
এর ফলে নির্ধারিত সময়ের আগেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ঈদের ছুটি কার্যকর করা হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ৯ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত সব ধরনের ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ ছিল, যা আজ থেকে পুনরায় শুরু হয়েছে।
দীর্ঘ ছুটির কারণে সৃষ্ট শিখন ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে প্রাথমিক পর্যায়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ। রমজান মাসে বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পরবর্তী ১০টি শনিবার দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান চলবে। এর প্রথম দিন নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৪ এপ্রিল। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং নির্ধারিত সিলেবাস সময়মতো শেষ করতেই এই অতিরিক্ত ক্লাসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।



