tanaka
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকভারতে মৃত্যুদণ্ডে ফাঁসিই বহাল, বিকল্প পদ্ধতির আবেদন খারিজ

ভারতে মৃত্যুদণ্ডে ফাঁসিই বহাল, বিকল্প পদ্ধতির আবেদন খারিজ

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে ফাঁসির বদলে প্রাণঘাতী ইনজেকশনসহ বিকল্প পদ্ধতি চালুর আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। ফলে দেশটিতে আপাতত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রচলিত পদ্ধতি হিসেবে ফাঁসির বিধানই বহাল থাকছে।

বিচারপতি বিক্রম নাথ ও বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চে এ-সংক্রান্ত আবেদনের শুনানি হয়। আবেদনে ফাঁসির পরিবর্তে প্রাণঘাতী ইনজেকশন, গুলি, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করা ও গ্যাস চেম্বারের মতো পদ্ধতি ব্যবহারের অনুমতি চাওয়া হয়েছিল।

আবেদনকারীর আইনজীবী ঋষি মালহোত্র আদালতে যুক্তি দেন, ফাঁসির মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যন্ত্রণাদায়ক ও অমানবিক। তাঁর দাবি, প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মতো বিকল্প পদ্ধতিতে তুলনামূলক দ্রুত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা সম্ভব এবং এতে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির মর্যাদাও কিছুটা রক্ষা পেতে পারে।

আবেদনে সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদে স্বীকৃত জীবন ও ব্যক্তিগত মর্যাদার অধিকারের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫৪(৫) ধারায় ফাঁসির মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিধানকে অসাংবিধানিক ঘোষণার দাবিও জানানো হয়েছিল। এ বিষয়ে আগের তিনটি রায় বৃহত্তর বেঞ্চে পাঠানোর আবেদনও করা হয়।

তবে সুপ্রিম কোর্ট এসব আবেদন গ্রহণ করেনি। আদালত জানিয়েছে, বর্তমান আবেদন খারিজ হলেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিকল্প পদ্ধতি নিয়ে ভবিষ্যতে আলোচনার সুযোগ থাকছে। বৈজ্ঞানিক ও চিকিৎসাগতভাবে শক্তিশালী প্রমাণ পাওয়া গেলে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারে।

এ ক্ষেত্রে কেন্দ্র চাইলে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করে বিকল্প পদ্ধতিগুলোর বৈজ্ঞানিক, চিকিৎসাগত ও বাস্তব দিক পর্যালোচনা করতে পারে বলেও জানিয়েছে আদালত।

কেন্দ্রের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল আর বেঙ্কটরামানি আদালতকে জানান, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনার জন্য সরকার ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করেছে।

এর আগে গত বছরের ১৫ অক্টোবর এ মামলার শুনানিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি পরিবর্তনের বিষয়ে কেন্দ্রের অবস্থান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন আদালত। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি নিয়েও নতুন করে ভাবার প্রয়োজনীয়তার কথা তখন উঠে আসে।

সুপ্রিম কোর্টের সর্বশেষ সিদ্ধান্তের ফলে ভারতে আপাতত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে ফাঁসির পদ্ধতিই বহাল থাকছে। তবে ভবিষ্যতে নতুন বৈজ্ঞানিক ও চিকিৎসাগত প্রমাণ সামনে এলে বিকল্প পদ্ধতি নিয়ে আবারও আদালতে আলোচনা হতে পারে।