tanaka

কোচের ছয় শব্দের মন্ত্রেই অস্ট্রেলিয়া জয় টাইগারদের

কোনো অঘটন নয়, দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ফলেই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। ডারউইনে স্বাগতিকদের চার দিনের টেস্টে ৯ উইকেটে হারানোর পেছনে বড় ভূমিকা...
প্রচ্ছদসারাদেশচিলমারীতে শ্রেণিকক্ষ নেই, শহীদ মিনারে চলছে শিশুদের পাঠদান

চিলমারীতে শ্রেণিকক্ষ নেই, শহীদ মিনারে চলছে শিশুদের পাঠদান

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে শ্রেণিকক্ষের সংকটে শহীদ মিনারের বেদি ও টিনের ছাপড়ায় চলছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান। কখনো আবার খোলা আকাশের নিচেই ক্লাস নিতে হচ্ছে তাদের। এতে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে বিদ্যালয়টির ১৮১ শিক্ষার্থীকে।

ঘটনাটি উপজেলার রমনা ইউনিয়নের জোড়গাছ এলাকায় অবস্থিত খরখরিয়া ২ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। ঝুঁকিপূর্ণ পুরোনো ভবনটি প্রায় ১০ মাস আগে ভেঙে ফেলা হলেও এখনো নির্মাণ হয়নি নতুন ভবন। ফলে শ্রেণিকক্ষের অভাবে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত স্কুলটি ১৯৭৩ সালে জাতীয়করণ করা হয়। বর্তমানে এখানে ১০ জন শিক্ষক ১৮১ শিক্ষার্থীকে পাঠদান করছেন। ১৯৯০ সালে নির্মিত দুই কক্ষের একটি ভবন দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। পরে ২০০৫-০৬ অর্থবছরে পিইডিপি-২ প্রকল্পের আওতায় আরও দুই কক্ষের একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে এর একটি কক্ষে অফিস এবং অন্যটিতে পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস চলছে।

পুরোনো ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় ২০২৫ সালে এলজিইডি সেটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। একই সঙ্গে পাঁচ কক্ষের নতুন একটি ভবন নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হয়। কিন্তু বরাদ্দ না পাওয়ায় নতুন ভবনের কাজ শুরু হয়নি। পরে ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর নিলামের মাধ্যমে পুরোনো ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, অন্যান্য শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত কক্ষ না থাকায় টিনের অস্থায়ী ছাপড়ায় গাদাগাদি করে ক্লাস করছে তারা। প্রচণ্ড গরমে ছাপড়ার ভেতরে অবস্থাও অসহনীয় হয়ে ওঠে। বৃষ্টি হলে পাঠদান ব্যাহত হয়। আর শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো কক্ষ না থাকায় শহীদ মিনারের বেদিতেই নেওয়া হচ্ছে ক্লাস।

বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মারিয়া আক্তার ও জয়ন্তি রাণী জানায়, বাতাসে টিনের ছাপড়ার একটি অংশ খুলে তাদের ওপর পড়ে। অল্পের জন্য তারা বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে।

শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের অভিযোগ, নতুন ভবনের বরাদ্দ ও অনুমোদন নিশ্চিত না করেই পুরোনো ভবনটি অপসারণ করা হয়েছে। বিকল্প শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা না থাকায় এখন শিশুদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

অভিভাবক জহুরুল ইসলাম বলেন, প্রচণ্ড গরমে শিশুরা ছাপড়ার নিচে বসে ক্লাস করছে। বৃষ্টি হলে পাঠদান বন্ধ রাখতে হয়। কর্মকর্তারা পরিস্থিতি দেখে গেলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আয়েশা আক্তার বলেন, শ্রেণিকক্ষের অভাবে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। আবহাওয়া খারাপ হলে স্বাভাবিকভাবে পাঠদান করাও সম্ভব হয় না।

প্রধান শিক্ষক মো. নুর মোস্তফা বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন হওয়ায় দুর্ঘটনা এড়াতে সেটি নিলামের মাধ্যমে অপসারণ করা হয়েছে। নতুন ভবনের বরাদ্দ না আসায় আপাতত দুটি টিনের ছাপড়া ঘরে পাঠদান চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এতে সব শ্রেণির জন্য পর্যাপ্ত জায়গা হচ্ছে না।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান জানান, নতুন ভবনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে পাঠদান চালিয়ে নিতে দুটি ঘরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আরও কক্ষ তৈরির জন্য ৩ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রক্রিয়াও চলছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার রায় চৌধুরী বলেন, পিইডিপি-৪ প্রকল্পের আওতায় বিদ্যালয়টির নতুন ভবনের প্রস্তাব পাঠানো হলেও প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। পিইডিপি-৫ প্রকল্প চালু হলে বিদ্যালয়টিকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নতুন ভবন দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের পাঠদান স্বাভাবিক রাখতে টিনশেড কক্ষ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।