tanaka
প্রচ্ছদসারাদেশভরণপোষণ না দেওয়ার অভিযোগে ছেলের বিরুদ্ধে মায়ের সংবাদ সম্মেলন

ভরণপোষণ না দেওয়ার অভিযোগে ছেলের বিরুদ্ধে মায়ের সংবাদ সম্মেলন

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় ভরণপোষণ না দেওয়া, মারধরের চেষ্টা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বসতঘর থেকে বের করে দেওয়ার হুমকির অভিযোগে ছোট ছেলের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ৭৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা মা।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কেন্দুয়া প্রেস ক্লাব অডিটোরিয়ামে এক ছেলে ও তিন মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন উপজেলার বড়তলা গ্রামের বাসিন্দা মোছা. আবেদা আক্তার। তিনি মৃত তৈয়ব আলীর স্ত্রী।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আবেদা আক্তার অভিযোগ করেন, তার ছোট ছেলে মশিউর রহমান নয়ন (৪৫) নিয়মিত তার ভরণপোষণ দেন না। ভরণপোষণের কথা বললে তিনি মারধরের চেষ্টা করেন, বিভিন্ন সময় টাকা দাবি করেন এবং বসতবাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন।

এসব অভিযোগে গত ১ সেপ্টেম্বর কেন্দুয়া থানায় ছেলের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানান আবেদা। অভিযোগ দেওয়ার পর থেকে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও দাবি করেন।

আবেদা আক্তারের অভিযোগ, বসতবাড়ির সামনে থাকা দুটি রেন্টি গাছ, যার আনুমানিক মূল্য ৫০ হাজার টাকা, তার ছেলে বিক্রি করে দেন। গত ৩০ আগস্ট সকালে গাছ বিক্রিতে বাধা দিতে গেলে নয়ন লাঠিসোটা নিয়ে তাকে মারধরের জন্য এগিয়ে আসেন। তার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন বলে দাবি করেন তিনি।

এ ছাড়া তাকে ভয়ভীতি দেখানো, খুন-জখমের হুমকি এবং বসতঘর থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও করেন আবেদা। জমি বিক্রির ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা অগোচরে নিয়ে যাওয়া এবং ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি করার অভিযোগও করেছেন তিনি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আবেদা দাবি করেন, তার ছেলে নিয়মিত মাদক সেবন করেন এবং নেশাগ্রস্ত অবস্থায় প্রায়ই এ ধরনের আচরণ করেন।

ভাই-বোনদেরও হুমকির অভিযোগ

সংবাদ সম্মেলনে আবেদা আক্তারের ছেলে মো. বিল্লাল মিয়া (ফকির) এবং তিন মেয়ে লাকী আক্তার, লাভলী আক্তার ও সানজেনা আক্তার অভিযোগ করেন, তাদের মায়ের করা অভিযোগের পর নয়নের সহযোগী হিসেবে পরিচিত কয়েকজন তাদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন।

তাদের দাবি, একই এলাকার মৃত আব্দুল শাহেদের ছেলে সবুজ (৫৫), মৃত গোমেজ আলীর ছেলে কলিম উদ্দিন এবং মৃত আফতাব উদ্দিনের ছেলে আশরাফ উদ্দিন (৫৫) বিভিন্নভাবে তাদের হুমকি দিচ্ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আবেদা আক্তার এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মশিউর রহমান নয়ন এবং তার বিরুদ্ধে সহযোগিতার অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

কেন্দুয়া থানার তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক মোহাম্মদ বাবুল মিঞা বলেন, নয়ন মিয়ার বিরুদ্ধে তার মা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বর্তমানে নয়ন মিয়া একটি চুরির মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আদালতে দাখিল করা হয়েছে।