tanaka
প্রচ্ছদখেলাবোতল ছুড়ে মারায় পদত্যাগের ঘোষণা, তবুও কোচকে ছাড়লেন না সভাপতি

বোতল ছুড়ে মারায় পদত্যাগের ঘোষণা, তবুও কোচকে ছাড়লেন না সভাপতি

‘আপনারা আমাকে আর কখনো দেখতে পাবেন না।’ সংবাদ সম্মেলনের মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়িয়ে কথাগুলো বেশ স্পষ্ট করেই বলেছিলেন ইসমাইল কারতাল। চ্যাম্পিয়নস লিগে এএস রোমার বিপক্ষে ম্যাচ ড্র করার পর ফেনেরবাচের এই কোচের আকস্মিক পদত্যাগের ঘোষণায় মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো মিডিয়া রুম।

খেলোয়াড় থেকে শুরু করে ক্লাব কর্মকর্তাদের কাছেও কারতালের এমন সিদ্ধান্ত ছিল একেবারেই অপ্রত্যাশিত। তবে নাটকীয়তার শেষ সেখানেই নয়। কোচের পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেটি কার্যত নাকচ করে দেন ফেনেরবাচের সভাপতি আজিজ ইলদিরিম।

ঘরের মাঠে রোমার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে ফেনেরবাচ। ম্যাচে পিছিয়ে পড়ার পর ইংলিশ ডিফেন্ডার আর্চি ব্রাউনের দুর্দান্ত এক চিপে করা গোলে সমতায় ফেরে তুর্কি ক্লাবটি। ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে কারতালের পদত্যাগের খবর শুনে বিস্মিত হয়ে যান ব্রাউনও। এমন কোনো সিদ্ধান্ত আসতে পারে, তা তিনি ঘুণাক্ষরেও জানতেন না।

অথচ ম্যাচ শেষে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে বেশ সন্তুষ্টই ছিলেন কারতাল। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘এটি ছিল চ্যাম্পিয়নস লিগের উপযুক্ত একটি ফুটবল প্রদর্শনী। আমি আমার খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানাতে চাই।’

কিন্তু দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্টির আড়ালেই জমে ছিল প্রবল মানসিক চাপ। ম্যাচ চলাকালে গ্যালারি থেকে ছুড়ে দেওয়া একটি বোতল সরাসরি গিয়ে আঘাত করে কারতালের মাথায়। দীর্ঘদিনের চাপ ও মানসিক অবসাদের কথা উল্লেখ করে ম্যাচ শেষে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানান ৬৫ বছর বয়সী এই কোচ।

কারতাল বলেন, ‘আমি আমার পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি। ক্লাবের জন্য একটি নতুন পথ তৈরি করতেই এই সিদ্ধান্ত। আমরা পুরো কোচিং স্টাফ মিলে যৌথভাবে সিদ্ধান্তটি নিয়েছি। ফেনেরবাচে, আমার খেলোয়াড় এবং ভবিষ্যৎ কোচদের স্বার্থেই আমি পদত্যাগ করেছি। আমি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যাতে আর ফিরে আসতে না হয়।’

অতিরিক্ত চাপের কারণে তাকে নিয়মিত ওষুধ সেবন করতে হয় বলেও জানান তিনি। ফলে তার আকস্মিক পদত্যাগের ঘোষণাকে শুধু ম্যাচের তাৎক্ষণিক আবেগ নয়, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই দেখা হচ্ছিল।

তবে কারতালের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে রাজি ছিলেন না ক্লাব সভাপতি আজিজ ইলদিরিম। সংবাদ সম্মেলনের পরই তিনি কোচের সঙ্গে কথা বলেন। পরে ক্লাবের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি।

সমর্থকদের একাংশের আচরণ এবং গণমাধ্যমের সমালোচনারও কড়া সমালোচনা করেন ইলদিরিম। তিনি বলেন, ‘ক্লাব পরিবারের উচিত ইসমাইল কারতালকে সমর্থন করা। কাউকে আঘাত করে এভাবে সমর্থন জানানো যায় না। ইসমাইল কারতালের নিজে থেকে বলার প্রয়োজন নেই যে তিনি থাকবেন। আমি তার বড়, আমি বলেছি তিনি থাকবেন—ব্যস, এটাই শেষ কথা। আমরা একটি পরিবার।’

কোচের ওষুধ সেবনের প্রসঙ্গ টেনে কিছুটা রসিকতা ও ক্ষোভের সুরে সভাপতি আরও বলেন, ‘সে আমাকে বোতল-কাণ্ড ও এই চাপের কথা বলেছে। বলেছে, সে ওষুধ খায়। তাতে কী? আমি নিজেই তো ৩০টি ওষুধ খাই।’

এদিকে মাঠে বোতল ছুড়ে মারার ঘটনায় জড়িত দর্শককেও রেহাই দেয়নি ফেনেরবাচ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্লাবটি জানিয়েছে, ওই দর্শককে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাকে আজীবনের জন্য স্টেডিয়ামে প্রবেশে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

দীর্ঘ ১৮ বছর পর ফেনেরবাচকে চ্যাম্পিয়নস লিগের মূল মঞ্চে ফেরানো কারতালের ওপরই শেষ পর্যন্ত আস্থা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সভাপতি ইলদিরিম। ফলে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েও আপাতত ক্লাব ছাড়তে পারছেন না ৬৫ বছর বয়সী এই কোচ। ইউরোপের সবচেয়ে বড় ক্লাব প্রতিযোগিতায় ফেনেরবাচের অভিযানও তার নেতৃত্বেই এগিয়ে নেওয়ার বার্তা দিয়েছেন ক্লাব সভাপতি।